সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময় হাঃ-১২৭৮

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে সলাতের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি আমাদের সাথে দু’দিন সলাত আদায় কর (লোকটি তাই করল)। সূর্য যখন মাথার উপর থেকে হেলে পড়ল তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলেন। বিলাল আযান দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে ইক্বামত দিতে বললে তিনি যুহরের সলাতের ইক্বামত দিলাম (অর্থাৎ- তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত আদায় করলেন)। এরপর (‘আসরের সময় হলে) তিনি তাকে ‘আসরের সলাতের ইক্বামত দিতে বললেন। বিলাল ইক্বামত দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন ‘আসরের সলাত আদায় করলেন। সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল এবং পরিষ্কার ও আলো ঝলমল দেখাচ্ছিল। তারপর আদেশ দিলে বিলাল মাগরিবের আযান দিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাত আদায় করলেন তখন সূর্য ডু্বে গেছে। এরপর তিনি বিলালকে ‘ইশার সলাতের ইক্বামত দিতে বললেন বিলাল ইক্বামত দিলেন এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে সান্ধ্যকালীন লালিমা বা রক্তিম আভা দেখা যায় তা অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই ‘ইশার সলাত আদায় করলেন। পরে বিলালকে তিনি ফজরের সলাতের ইক্বামত দিতে বললেন এবং উষার অভ্যূদয়ের সাথে সাথেই ফজরের সলাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি বিলালকে আদেশ করলেন এবং বেশ দেরী করে যুহরের সলাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় দিনে) তিনি এমন সময় ‘আসরের সলাত আদায় করলেন সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল। তবে আগের দিনের তুলনায় বেশ দেরী করে পড়লেন। তিনি সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সলাত আদায় করলেন। আর রাতের এক তৃতীয়াংশ অতি বাহিত হওয়ার পর ‘ইশার সলাত আদায় করলেন এবং সর্বশেষ বেশ ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের সলাত আদায় করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ সলাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী ব্যক্তি কোথায়? লোকটি তখন বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকটিকে বললেনঃ দু’দিন যে দু’টি সময়ে আমি সলাত আদায় করলাম এরই মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো সলাতের ওয়াক্তসমূহ। (ই.ফা.১২৬৫, ই.সে.১২৭৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময় হাঃ-১২৭৯

বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে সলাতের সময় সম্পর্কে এসে জিজ্ঞেস করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে সলাত আদায় করো (জানতে পারবে)। অতঃপর ফাজরের সলাতের জন্য বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলে তিনি (বিলাল) বেশ কিছু অন্ধকার থাকতে আযান দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ফাজরের সলাত আদায় করলেন। পরে সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়লে তিনি বিলালকে যুহরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং যুহরের সলাত আদায় করলেন)। অতঃপর সূর্য কিছু উপরে থাকতেই তিনি বিলালকে ‘আসরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং আসরের সলাত আদায় করলেন)। তারপর সান্ধ্যকালীন গোধূলি (বা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে দৃশ্যমান রক্তিম আভা) অন্তর্হিত হওয়ার সাথে সাথে বিলালকে ‘ইশার আযান দিতে বললেন (এবং ‘ইশার সলাত আদায় করলেন)। পরদিন প্রত্যুষে বেশ ফর্সা হয়ে গেলে তিনি বিলালকে ফাজ্বরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং ফাজরের সলাত আদায় করলেন)। তারপর যুহরের সলাতের আযান দিতে বললেন এবং বেশ দেরী করে (সূর্যের উত্তাপ কমলে) যুহরের সলাত আদায় করলেন। এরপর সূর্য তাম্র বর্ণ ধারণ করার পূর্বেই এর আলো পরিষ্কার এবং ঝলমলে থাকতেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ‘আসরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং ‘আসরের সলাত আদায় করলেন) এরপর সন্ধ্যা-গোধূলি অদৃশ্য হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং মাগরিবের সলাত আদায় করলেন)। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা কিছু অংশ (বর্ণনাকারী হারামী ইবনু ‘উমারাহ্ সন্দেহ করেছেন) অতিবাহিত হওয়ার পর ‘ইশার সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং ‘ইশার সলাত আদায় করলেন)। পরদিন সকালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন (সলাতের সময় সম্পর্কে) প্রশ্নকারী কোথায়? (দু’দিন সলাত আদায়ের) সময়ের মধ্যে তুমি যে ব্যবধান দেখলে তার মাঝখানেই হলো সলাতের সময়। (ই.ফা.১২৬৬, ই.সে.১২৭৯)


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাতের ওয়াক্তসমূহ বাব->মাগরিবের প্রথম ওয়াক্ত হাঃ-৫১৯

বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ (একদা) এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে সালাতের ওয়াক্ত সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি আমাদের সঙ্গে দুই দিন অবস্থান কর। তারপর তিনি বিলাল (রাঃ) -কে আদেশ করলেন, তিনি ফজরের ইকামত বললেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সালাত আদায় করলেন। পুনরায় যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তাঁকে (ইকামতের জন্য) আদেশ করলেন, তারপর যোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপরে যখন সূর্য শুভ্র করোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, তখন পুনরায় তাঁকে ইকামতের আদেশ করলেন এবং আসরের সালাত আদায় করলেন। তারপর যখন সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল, তখন তাঁকে ইকামতের আদেশ করলেন এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তারপর যখন শফক অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তাঁকে ইকামতের আদেশ করলেন এবং ইশার সালাত আদায় করলেন (অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্তের সালাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করলেন)। পরদিন পুনরায় বিলাল (রাঃ) -কে আদেশ করলেন, এরপর ফজরের সালাত আলোকজ্জ্বল প্রভাতে আদায় করলেন। পুনরায় যোহরের সালাত বেশ বিলম্ব করে আদায় করলেন। তারপর আসরের সালাত আলোকজ্জ্বল সময় থেকে বিলম্ব করে আদায় করলেন। তারপর শফক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পূর্বেই মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তারপর এক-তৃতীয়াংশ রাত্র অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ইশার ইকামত বলার আদেশ করলেন এবং ইশার সালাত আদায় করলেন। এরপর বললেনঃ সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী কোথায়? তোমরা যা দেখলে, তার মধ্যখানেই তোমাদের সালাতের সময়।