আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, পূর্বযুগে এক লোক তার নিজের উপর অনেক যুল্ম করেছিল। যখন তার মৃত্যুকাল ঘনিয়ে এলো, সে তার পুত্রদেরকে বলল, মৃত্যুর পর আমার দেহ হাড় মাংসসহ পুড়িয়ে ছাই করে নিও এবং প্রবল বাতাসে উড়িয়ে দিও। আল্লাহ্র কসম! যদি আল্লাহ্ আমাকে ধরে ফেলেন, তবে তিনি আমাকে এমন কঠিনতম শাস্তি দিবেন যা অন্য কাউকেও দেননি। যখন তার মওত হল, তার সঙ্গে সে ভাবেই করা হল। অতঃপর আল্লাহ্ যমীনকে আদেশ করলেন, তোমার মাঝে ঐ ব্যক্তির যা আছে জমা করে দাও। যমীন তা করে দিল। এ ব্যাক্তি তখনই দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কিসে তোমাকে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করলো? সে বলল, হে, প্রতিপালক তোমার ভয়। অতঃপর তাকে ক্ষমা করা হল। অন্য রাবী -------- স্থলে --------- বলেছেন।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, এক লোক তার নিজের উপর সীমাহীন পাপ করেছে। এরপর যখন মৃত্যু সমুপস্থিত তখন সে তার সন্তান-সন্ততিদেরকে ওয়াসীয়াত করে বলল, আমার ইন্তিকালের পর তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ছাইগুলোকে ভালোভাবে পিষবে। তারপর আমাকে সমুদ্রের মধ্যে বাতাসে ছেড়ে দিবে। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ যদি আমাকে পেয়ে যান, তবে নিশ্চিতই তিনি আমাকে এমন ‘আযাব দিবেন, যা তিনি আর কাউকে দেননি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সন্তানগণ তার সঙ্গে হুবহু তাই করল। এরপর আল্লাহ তা‘আলা মাটিকে বললেন, তুমি তার যে ছাই ধারণ করছো তা একত্রিত করে দাও। ফলে সে সোজা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কর্ম করার কারণে কিসে তোমাকে উৎসাহিত করেছে? উত্তরে সে বলল, (আরবী) অথবা (আরবী)–আপনার ভয়ে। এ কথার প্রেক্ষিতে আল্লাহ সদয় হয়ে তাকে মাফ করে দেন। (ই.ফা. ৬৭২৮, ই.সে. ৬৭৮৩)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করে এবং কাফফারা আদায়ের পূর্বে তার সাথে সহবাস করে। অতপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করে। তিনি বলেন, এরূপ করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করলো! সে বললো, হে আল্লাহ্র রসূল! চাঁদের আলোতে আমি তার পদদ্বয়ের মলের উজ্জ্বল্য দেখে ফেলি এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তার সাথে সহবাস করে বসি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বর্ণনা শুনে হাসলেন এবং তাঁকে কাফফারা আদায় না করা পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার নির্দেশ দিলেন। [২০৬৫]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, এক বান্দা নিজের উপর অত্যাচার করছিল। এমতাবস্থায় তার কাছে মৃত্যু উপস্থিত হলে সে তার পরিবার পরিজন কে বললঃ যখন আমি মৃত্যুবরণ করি তখন তোমরা আমাকে পুড়ে ফেলবে এবং ছাই করে ফেলবে। তারপর আমাকে বাতাসে সাগরে ফেলে দেবে। আল্লাহ্র কসম, যদি আল্লাহ্ তা’আলা আমার উপর ক্ষমতা পান তাহলে তিনি আমাকে এমন শাস্তি দিবেন যা তাঁর সৃষ্টির কাউকেও দেননি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তার পরিবার পরিজন তাই করল। (আল্লাহ্ তা’আলা কেয়ামতের দিন) ঐ ব্যক্তিকে বলবেন, যে নিজের কিছু অংশ বিনষ্ট করে দিয়েছিলে “তুমি তা ফিরিয়ে দাও।” তখন সে দাঁড়িয়ে যাবে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা জিজ্ঞেস করবেনঃ “তুমি কেন এরূপ করেছিলে?” সে বলবে, “তোমার ভয়ে! অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।