সহিহ মুসলিম অঃ->যিক্‌র, দু’আ, তওবা ও ইস্‌তিগফার বাব->কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা হাঃ-৬৭৪৬

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবাত দূর করে দিবে, আল্লাহ তা‘আলা বিচার দিবসে তার থেকে মুসীবাত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাই-এর সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন। যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন একটি গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে (কুরআন) অধ্যয়নে লিপ্ত থাকে তখন তাদের উপর শন্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহ্মাত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশ্তাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকটবর্তীদের (ফেরেশ্তাগণের) মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে ‘আমালে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ (মর্যাদা) তাকে অগ্রসর করে দিবে না। [৭] (ই.ফা. ৬৬০৮, ই.সে. ৬৬৬১)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->সদ্ব্যবহার ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা বাব->মুসলমানের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা হাঃ-১৯৩০

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক কোন মুসলমান লোকের দুনিয়াবী বিপদাপদের মধ্যে একটি বিপদও দূর করে দেয়, আল্লাহ্‌ তা‘আলা তার পরকালের বিপদাপদের কোন একটি বিপদ দূর করে নিবেন। যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা সহজ করে দিবেন। যে লোক দুনিয়ায় কোন মুসলমানের দোষ-ক্রটিকে গোপন রাখে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ক্রটি গোপন রাখবেন। যে পর্যন্ত বান্দাহ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তা‘আলাও তাঁর সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকেন। সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (১২২৫) , মুসলিম।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->ক্বিরাআত বাব->(মু’মিনের দোষ গোপন রাখা ও তাকে সাহায্য করা) হাঃ-২৯৪৫

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দুনিয়াতে যে লোক তার কোন ভাইয়ের একটি বিপদ দূর করবে, ক্বিয়ামাতের দিবসে আল্লাহ তা’আলা তার একটি বিপদ দূর করবেন। আর কোন মুসলিমের দোষ-ক্রুটি যে লোক গোপন রাখবে, আল্লাহ তা’আলা ইহকালে ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। কোন আভাবীর কষ্ট যে ব্যক্তি দূর করবে, ইহকালে ও পরকালে তার কষ্ট আল্লাহ তা’আলা দূর করবেন। ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা বান্দার সহায়তা করতে থাকেন যতক্ষন পর্যন্ত সে তার কোন ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। যে লোক জ্ঞান অর্জনের পথে বের হয় আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন দল মসজিদে আল্লাহ তা’আলার কিতাব তিলাওয়াত এবং তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করার উদ্দেশে একত্রিত হয়, তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, (আল্লাহ তা’আলার) রাহমাত তাদের ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে। কৃতকর্ম যাকে পিছিয়ে দেয় বংশ মর্যাদা তাকে অগ্রসর করতে পারে না। সহীহ : ইবনু মা-জাহ (২২৫), মুসলিম।


মুয়াত্তা ইমাম মালিক অঃ->জুম’আ বাব->জুম’আ দিবসে ইমামের খুতবা পাঠ করার সময় চুপ থাকার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে হাঃ-২২৫

ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্নিতঃ

তিনি (সা’লাবা) তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে জুম’আর দিন তাঁরা উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আগমন করা পর্যন্ত নামায আদায় করতেন। উমার (রাঃ) আগমন করতেন এবং মিম্বরে বসতেন এবং মুয়াযযিনগণ আযান দিতেন। সা’লাবা (র) বলেছেন, আমরা তখনও পরস্পর কথাবার্তা বলতাম, মুয়াযযিনগণ যখন আযান শেষ করতেন এবং উমার (রাঃ) খুতবা পাঠ করার জন্য দাঁড়াতেন, তখন আমরা চুপ হয়ে যেতাম। অতঃপর পরে কেউ কোন কথা বলত না। ইবনু শিহাব (র) বলেছেন, (এতে বোঝা গেল) ইমামের আগমন নামাযকে নিষিদ্ধ করে দেয় এবং তাঁর কালাম (খুতবা) কথাবার্তাকে নিষিদ্ধ করে দেয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)