আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যখন কোন ঋণী ব্যাক্তির জানাযা উপস্থিত করা হত তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত মাল রেখে গেছে কি? যদি তাঁকে বলা হত যে, সে তার ঋণ পরিশোধের মতো মাল রেখে গেছে তখন তার জানাযার সালাত আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, তোমাদের সাথীর জানাযা আদায় করে নাও। পরবর্তীতে যখন আল্লাহ তাঁর বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বললেন, আমি মু’মিনদের জন্য তাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তাই কোন মু’মিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যাক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তারাধিকারীদের জন্য।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ঋণগ্রস্ত কোন মৃত ব্যক্তিকে (জানাযার সালাত আদায়ের জন্য) আনা হলে, তিনি জিজ্ঞেস করতেনঃ সে কি ঋণ পরিশোধ করার মত অতিরিক্ত কিছু রেখে গেছে? যদি বলা হত যে, সে ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে, তাহলে তিনি তার জানাযা পড়তেন। অন্যথায় তিনি মুসলমানদের বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়। তারপর আল্লাহ যখন তাঁকে অনেক বিজয় দান করলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্টতর। কাজেই মুমিনদের কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার-ই। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিসরা পাবে। [৩৪]আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৭)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট যদি এমনও মৃত দেহ (জানাযার জন্যে) আসতো যার উপর ঋণ থাকতো, তবে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে কি তার ঋণ পরিশোধের জন্যে ঐ পরিমাণ সম্পদ রেখে গেছে, যা দ্বারা ঋণ পরিশোধ হতে পারে? যদি জানান হতো যে, সে ঋণ পূর্ণ করার পরিমাণ সম্পদ রেখে গেছে, তবে তিনি তার জানাযাহ পড়তেন। অন্যথায় বলতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযাহ্ পড়ো। যখন আল্লাহ্ তাঁর জন্য সম্পদের সমৃদ্ধির পথ খুলে দেন, তখন তিনি বলেন যে, আমি মুমিনদের জন্যে তাদের নিজেদের অপেক্ষাও বেশি নিকটবর্তী। সুতরাং যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যাবে, তার সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার উপর। আর যে লোক সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য। (ই.ফা. ৪০১২, ই.সে. ৪০১১)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যখন কোন ঋণগ্রস্ত মুমিন ব্যক্তি মারা যেত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করতেন, তার কি কোন ত্যাজ্য সম্পত্তি আছে? যদি সাহাবীগণ হাঁ বলতেন, তাহলে তার উপর জানাযার সালাত আদায় করতেন। আর যদি তারা না বলতেন, তাহলে তিনি বলতেন যে, তোমরা নিজেরাই স্বীয় সাথীর উপর জানাযার সালাত আদায় কর। যখন আল্লাহ্ তা’আলা স্বীয় রাসূলকে মক্কা বিজয় দান করলেন তখন তিনি বললেন, আমি মুমিনের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায় তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার আর যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে যায় তা তার ওয়ারিসদের।