সহিহ বুখারী অঃ->সাওম বাব->কাউকে গালি দেয়া হলে সে কি বলবে, ‘আমি তো সায়িম?’ হাঃ-১৯০৪

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিস্‌কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাঁকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে।


সহিহ বুখারী অঃ->হিবা ও তার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান বাব->মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা হাঃ-২৬১৫

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। এতে সহাবীগন খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে সা‘দ ইবনু মু‘আযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।


সহিহ বুখারী অঃ->জিহাদ বাব->জিহাদের উদ্দেশ্যে যে সন্তান চায়। হাঃ-২৮১৯

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সুলায়মান ইব্‌নু দাউদ (‘আঃ) বলেছিলেন, আজ রাতে আমি একশ’ অথবা বলেছেন নিরানব্বই জন স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত হব। তাদের প্রত্যেকেই একজন বীর মুজাহিদ প্রসব করবে। তার একজন সাথী বললেন, বলুন ইন শা আল্লাহ্‌! কিন্তু তিনি ইন শা আল্লাহ্‌ বলেননি। ফলে একজন স্ত্রী ব্যতীত কেউই গর্ভবতী হলেন না। তিনিও একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করলেন। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ, যদি তিনি ইন শা আল্লাহ্‌ বলতেন, তবে সকলের সন্তান হত এবং তারা সকলেই ঘোড় সওয়ার হয়ে আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করত।


সহিহ বুখারী অঃ->সৃষ্টির সূচনা বাব->জান্নাতের বর্ণনা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে আর তা হল সৃষ্ট হাঃ-৩২৪৮

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী বস্ত্র পরতে নিষেধ করতেন; লোকেরা তা খুব পছন্দ করল। তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, অবশ্যই জান্নাতে সা’দ ইবনু মুআ’যের রুমাল এর থেকে বেশি সুন্দর হবে।


সহিহ বুখারী অঃ->মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বাব->ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী। হাঃ-৩৬১৮

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কিস্রা ধ্বংস হবে, অতঃপর অন্য কোন কিস্রা হবে না। যখন কায়সার ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সার হবে না। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয়ই ঐ দু’এর ধন-ভাণ্ডার তোমরা আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করবে।


সহিহ বুখারী অঃ->শপথ ও মানত বাব->নবী (সাঃ)-এর শপথ কেমন ছিল? হাঃ-৬৬৩০

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিস্‌রা যখন ধ্বংস হবে অতঃপর আর কোন কিস্‌রা হবে না। আর কায়সার যখন ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ সেই সত্তার শপথ! এ দু’ এর ধন-সম্পদ অবশ্যই তোমরা আল্লাহ্‌র পথে খরচ করবে।


সহিহ বুখারী অঃ->শপথ ও মানত বাব->নবী (সাঃ)-এর শপথ কেমন ছিল? হাঃ-৬৬৩৭

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ ঐ সত্তার কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা অবশ্যই কাঁদতে বেশি আর হাসতে কম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮২)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->সকল মানুষের জন্য আমাদের নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হয়েছেন এবং অন্যান্য সকল দ্বীন ও ধর্ম তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে রহিত হয়ে গেছে- এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন ওয়াজিব হাঃ-২৭৯

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে। (ই.ফা. ২৮৩; ই.সে. ২৯৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->নিম্ন জান্নাতী, তথায় তার মর্যাদা হাঃ-৩৬৮

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু গোশ্‌ত আনা হলো। তাঁর নিকট রানের গোশ্‌ত পেশ করা হলো যা তাঁর নিকট খুবই পছন্দনীয় ছিল। এরপর তিনি তা থেকে এক কামড় গ্রহণ করলেন। তারপর বললেন, কিয়ামাত দিবসে আমিই হবো সকল মানুষের সর্দার। তা কীভাবে তোমরা কি জানো? কিয়ামাত দিবসে যখন আল্লাহ্‌ তা’আলা শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে একই মাঠে এমনভাবে জমায়েত করবেন যে, একজনের আহ্বান সকলে শুনতে পাবে, একজনের দৃষ্টি সকলকে দেখতে পাবে। সূর্য নিকটবর্তী হবে। মানুষ অসহনীয় ও চরম দুঃখ-কষ্ট ও পেরেশানীতে নিপতিত হবে। নিজেরা পরস্পর বলাবলি করবে কী দুর্দশায় তোমরা আছ, দেখছ না? কী অবস্থায় তোমরা পৌঁছেছো তা উপলব্ধি করছ না? এমন কাউকে দেখছ না যিনি তোমাদের পরওয়ারদিগারের নিকট তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন? তারপর একজন আরেকজনকে বলবে, তোমরা আদামের কাছে যাও। সুতরাং তারা আদামের কাছে আসবে এবং বলবে, হে আদাম! আপনি মানবকুলের পিতা, আল্লাহ্‌ স্বহস্তে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার দেহে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আপনাকে সাজদাহ্‌ করার জন্য ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন; তাঁরা আপনাকে সাজদাহ্‌ করেছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের নিকট শাফা’আত করুন। আপনি দেখছেন না, আমরা যে কি কষ্টে আছি? আপনি দেখছেন না আমরা কষ্টের কোন্‌ সীমায় পৌঁছেছি? আদাম (‘আঃ) উত্তরে বলবেন, আজ আমার পরওয়ারদিগার এতবেশী রাগ করেছেন, যা পূর্বে কখনো করেননি, আর পরেও কখনো এরূপ রাগ করবেন না। তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের (ফল খেতে) নিষেধ করেছিলেন আর আমি সে নিষেধ লঙ্ঘন করে ফেলেছি, ‘নাফসী, নাফসী’-(আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা অন্য কারোর নিকট গিয়ে চেষ্টা করো, তোমরা নূহের নিকট যাও। তখন তারা নূহ (‘আঃ)-এর নিকট আসবে, বলবে, হে নূহ! আপনি পৃথিবীর প্রথম রসূল। আল্লাহ্‌ আপনাকে “চির কৃতজ্ঞ বান্দা” বলে উপাধি দিয়েছেন। আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন্‌ অবস্থায় আছি? আমাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌছেছে? নূহ (‘আঃ) বলবেন, আজ আমার পরওয়ারদিগার এত রাগ করেছেন যে, এমন রাগ পূর্বেও কখনো করেননি আর পরেও কখনো করবেন না। আমাকে তিনি একটি দু’আ কবূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর তা আমি আমার জাতির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে ফেলেছি। ‘নাফসী, নাফসী’-(আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা ইবরাহীম (‘আঃ)-এর নিকট যাও। তখন তারা ইবরাহীম (‘আঃ)-এর নিকট আসবে। বলবে, হে ইবরাহীম! আপনি আল্লাহর নাবী, পৃথিবীবাসীদের মধ্য থেকে আপনি আল্লাহর খলীল ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। আপনি আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন্‌ অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন্‌ পর্যায়ে পৌঁছেছে? ইবরাহীম (‘আঃ) তাদেরকে বলবেন, আল্লাহ্‌ আজ এতই রাগ করে আছেন যে, পূর্বে এমন কখনো করেননি আর পরেও কখনো করবেন না। তিনি তাঁর কিছু অসত্য (বাহ্যত) কথনের বিষয় উল্লেখ করবেন। বলবেন, ‘নাফসী, নাফসী’-(আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা অন্য কারো নিকট যাও। মূসার নিকট যাও। তারা মূসা (‘আঃ)-এর নিকট আসবে, বলবে, হে মূসা! আপনি আল্লাহর রসূল, আপনাকে তিনি তাঁর রিসালাত ও কালাম দিয়ে মানুষের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। আপনার পরওয়ারদিগার নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন্‌ অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন্‌ পর্যায়ে পৌছেছে? মূসা (‘আঃ) তাদের বলবেন : আজ আল্লাহ্‌ এতই রাগ করে আছেন যে, পূর্বে এমন রাগ কখনো করেননি, আর এমন রাগ পরেও কখনো করবেন না। আমি তাঁর হুকুমের পূর্বেই এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। ‘নাফসী, নাফসী’-(আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা ‘ঈসা (‘আঃ)-এর নিকট যাও। তারা ‘ঈসা (‘আঃ)-এর নিকট আসবে এবং বলবে, হে ‘ঈসা! আপনি আল্লাহর রসূল, দোলনায় অবস্থানকালেই আপনি মানুষের সাথে বাক্যালাপ করেছেন, আপনি আল্লাহর দেয়া বাণী, যা তিনি মারইয়ামের মধ্যে নিক্ষেপ করে দিয়েছিলেন, আপনি তাঁর দেয়া আত্মা। সুতরাং আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন্‌ পর্যায়ে পৌঁছেছে? ‘ঈসা (‘আঃ) তাদের বলবেন, আজ আল্লাহ তা’আলা এতই রাগ করে আছেন যে, এরূপ রাগ না পূর্বে কখনো করেছেন আর না পরে কখনো করবেন, তিনি কোন অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন না। তিনি বলবেন, ‘নাফসী, নাফসী’-(আজ আমার চিন্তায় আমি পেরেশান)। তোমরা অন্য কারো নিকট যাও। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাও। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তখন তারা আমার নিকট আসবে এবং বলবে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রসূল, শেষ নাবী, আল্লাহ্‌ আপনার পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আপনার পরওয়ারদিগারের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। দেখছেন না, আমরা কোন অবস্থায় আছি এবং আমাদের অবস্থা কোন্‌ পর্যায়ে পৌঁছেছে? তখন আমি সুপারিশের জন্য যাব এবং ‘আরশের নীচে এসে পরওয়ারদিগারের উদ্দেশ্যে সাজদাহ্‌বনত হব। আল্লাহ্‌ আমার অন্তরকে খুলে দিবেন এবং সর্বোত্তম প্রশংসা ও হাম্‌দ জ্ঞাপনের শিক্ষা গ্রহণ করবেন, যা ইতোপূর্বে আর কাউকে খুলে দেননি। এরপর আল্লাহ্‌ বলবেন, হে মুহাম্মাদ! মাথা উত্তোলন করুন, প্রার্থনা করুন, আপনার প্রার্থনা কবূল করা হবে। সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। অনন্তর আমি মাথা তুলব। বলব, হে পরওয়ারদিগার! উম্মাতী, উম্মাতী’ (আমার উম্মাত, আমার উম্মাত’) (এদেরকে মুক্তি দান করুন) তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মাতের যাদের উপর কোন হিসাব নেই তাদেরকে জান্নাতের দরজার ডান দিক দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। তারা এছাড়াও অন্য দরজায় মানুষের সঙ্গে শারীক হবে। কসম ঐ সত্ত্বার যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, নিশ্চয় জান্নাতের দু’ চৌকাঠের মধ্যকার দূরত্ব মক্কা ও হাজ্‌রের (বাহরাইনের একটি জনপদের) দূরত্বের মতো। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, মক্কা ও বাস্‌রার দূরত্বের ন্যায়। (ই.ফা. ৩৭৬; ই.সে. ৩৮৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা) বাব->সিয়ামের ফাযীলাত হাঃ-২৫৯৬

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “মানব সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব দশ গুন থেকে সাতশ’ গুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়।” মহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আদম সন্তানের যাবতীয় ‘আমাল তার নিজের জন্য কিন্ত সিয়াম বিশেষ করে আমার জন্যই রাখা হয়। আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।” সুতরাং যখন তোমাদের কারো সওমের দিন আসে সে যেন ঐ দিন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে বিবাদ করতে চায়, সে যেন বলে, “আমি একজন সিয়াম পালনকারী”। সে মহান আল্লাহ্‌র শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! সিয়াম পালনকারীদের মুখের দুর্গন্ধ ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌র কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও উত্তম হবে। আর সিয়াম পালনকারীদের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। এর মাধ্যমে সে অনাবিল আনন্দ লাভ করে। একটি হল যখন সে ইফত্বার করে তখন ইফত্বারীর মাধ্যমে আনন্দ পায় আর দ্বিতীয়টি হলো যখন সে তার প্রভুর সাথে মিলিত হবে তখন সে তার সিয়ামের জন্য আনন্দিত হবে।” (ই.ফা. ২৫৭৩, ই.সে. ২৫৭২)


সহিহ মুসলিম অঃ->কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা) বাব->সিয়ামের ফাযীলাত হাঃ-২৫৯৮

আবূ হুরায়রাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, “সিয়াম আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিফল দান করব।” সিয়াম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফত্বার করে আনন্দিত হয়, অপরটি হলো যখন সে মহান আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে আনন্দিত হবে। সে মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ্ তা’আলার কাছে মিশ্কের সুগন্ধের চেয়েও তীব্র। [৮] (ই.ফা. ২৫৭৫, ই.সে. ২৫৭৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তালবিয়াহ্ পাঠ এবং কুরবানীর জন্তু প্রসঙ্গে হাঃ-২৯২২

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৮৯৮. ই.সে. ২৮৯৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফারায়িয বাব->যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে তা তার ওয়ারিসগণ পাবে হাঃ-৪০৫১

ইবনু হুরাইরাহ্ (রাঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! পৃথিবীর উপর এমন কোন মু’মিন নেই, যার সবচেয়ে নিকটতম (অধিকতর আপন) লোক আমি নই। সুতরাং যে লোক ঋণ অথবা সন্তান রেখে যাবে, আমি হবো তার অভিভাবক। আর তোমাদের কেউ যদি সম্পদ রেখে যায় তবে সে মাল পাবে তার নিকটজনেরা; সে যেই হোক না কেন। (ই.ফা. ৪০১৪, ই.সে. ৪০১৩)


সহিহ মুসলিম অঃ->প্রশাসন ও নেতৃত্ব বাব->জিহাদে ও আল্লাহর পথে বের হওয়ার মাহাত্ম্য হাঃ-৪৭৫৩

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা সে ব্যক্তির দায়িত্ব স্বহস্তে তুলে নিয়েছেন যে ব্যক্তি তাঁরই রাস্তায় ঘর থেকে বের হয়। আমারই রাস্তায় জিহাদ, আমার প্রতি ঈমান এবং আমার রাসূলের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই তাকে ঘর থেকে বের করে তখন আমারই যিম্মায় বর্তায় যে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবো নতুবা সে তার যে বাসস্থান থেকে বেরিয়েছিল, তার প্রাপ্য সাওয়াব গনীমাতসহ তাকে সেখানে ফিরিয়ে আনবো। কসম সে পবিত্র সত্তার যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আল্লাহ তা’আলার পথে যে ব্যক্তি যে পরিমাণই যখম হয় না কেন, কিয়ামাতের দিন সে ঠিক যখম অবস্থায়ই আসবে; তার বর্ণ হবে রক্ত বর্ণ আর ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর। কসম সে পবিত্র সত্তার যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি মুসলিমদের জন্য কষ্টকর না হতো তবে আমি কখনো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের অভিযানে লিপ্ত দলে যোগদান না করে ঘরে বসে থাকতাম না। কিন্তু আমার কাছে এমন সামর্থ্য নেই যে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেন তাঁদের সকলকে বাহন দান করবো, আর তাঁদের নিজেদেরও সে সঙ্গতি নেই (যে, নিজেরাই নিজেদের বাহন নিয়ে বের হবে)। আর তাদের জন্যে এটা খুবই কষ্টকর হবে যে, (আমি যুদ্ধে বেরোবার পর আমার সঙ্গে না গিয়ে) তারা পিছনে পড়ে থাকবে। কসম সে পবিত্র সত্তার যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমার একান্ত ইচ্ছা হয় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি আর তাতে শহীদ হই, তারপর আবার জিহাদ করি, আবারও শহীদ হই, আবার জিহাদ করি, আবারও শহীদ হই (ই.ফা. ৪৭০৬, ই.সে. ৪৭০৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফযীলত বাব->আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য ‘হাওয’ (কাওসার) প্রমাণিত হওয়া এবং হাওযের বিবরণ হাঃ-৫৮৮৩

আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে প্রশ্ন করেছি, হে আল্লাহর রসূল! হাওযের পাত্র কত হবে? তিনি বললেন, যার কব্জায় আমার জীবন তাঁর শপথ! সে হাওযের পাত্র মেঘবিহীন আঁধার রাতের আকাশের নক্ষত্র ও তারকারাজির চাইতেও বেশী। সে সব পাত্র জান্নাতেরই পাত্র। যে ঐ পাত্র হতে পান করবে শেষ পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। ঐ হাওযের মধ্যে জান্নাত হতে প্রবাহিত দু’টো নালার সংমিশ্রণ রয়েছে। যে লোক ঐ হাওয হতে পান করবে সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না, সে হাওযের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান হবে। সে হাওযের প্রশস্থতা ‘আম্মান থেকে আয়লার মাঝামাঝি ব্যবধানের সমতুল্য। তার পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশি মিষ্টি। (ই.ফা. ৫৭৮৭, ই.সে. ৫৮১৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-এর ফযিলত হাঃ-৬২৪৫

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিহি রেশমের একটি জুব্বা উপহার দেয়া হলো। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেশম পরিধান করতে বারণ করতেন। তখন লোকেরা তাতে বিস্ময়বোধ করলো! অতঃপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃঐ সত্তার শপথ! যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ রয়েছে। নিঃসন্দেহে জান্নাতে সা’দ ইবনু মু‘আযের রুমালগুলো এর তুলনায় অধিক উত্তম। (ই. ফা. ৬১২৭, ই. সে. ৬১৭০)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->গিফার, আসলাম, জুহাইনাহ, আশজা, মুযাইনাহ, তামীম, দাওস ও তাইয়ী গোত্রের ফযিলত হাঃ-৬৩৩৬

আরাজ (রা) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সে সত্তার শপথ! যাঁর নিয়ন্ত্রণে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবন! গিফার, আসলাম, মুযাইনাহ এবং যারা জুহাইনার অন্তর্ভূক্ত তাঁরা আল্লাহর নিকট কিয়ামাতের দিনে উত্তম বলে গণ্য হবেন আসাদ, তাইয়ী ও গাতফান গোত্র হতে। (ই.ফা. ৬২১৩, ই.সে. ৬২৬০)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->জানাযাহ বাব->জানাযায় অংশগ্রহণকারীর এবং তার দাফনের জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তির সওয়াব। হাঃ-১৫৪১

উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযার সলাত পড়ল, তার জন্য এক কীরাত সওয়াব এবং সে যে ব্যক্তি দাফনের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকল, তার জন্য দু’ কীরাত সওয়াব। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! একটি কীরাত এই উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বিশাল। [১৫৪০]


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->কলহ-বিপর্যয় বাব->মুমিন ব্যক্তির জান-মালের নিরাপত্তা হাঃ-৩৯৩২

আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কাবা ঘর তাওয়াফ করতে দেখলাম এবং তিনি বলছিলেনঃ কত উত্তম তুমি হে কাবা! আকর্ষণীয় তোমার খোশবু, কত উচ্চ মর্যাদা তোমার (হে কাবা)! কত মহান সম্মান তোমার। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আল্লাহর নিকট মুমিন ব্যক্তির জান-মাল ও ইজ্জতের মর্যাদা তোমার চেয়ে অনেক বেশী। আমরা মুমিন ব্যক্তি সম্পর্কে সুধারণাই পোষণ করি। [৩২৬৪]


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি বাব->মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পরিজনবর্গের জীবন-জীবিকা হাঃ-৪১৪৭

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজন এমন অবস্থায় ভোরে উপনীত হতো যে, তাদের নিকট এক সা’ খাদ্যশস্য বা এক সা’ খেজুরও থাকতো না। তখন তাঁর নয়জন স্ত্রী ছিলেন।[৩৪৭৯] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি বাব->মু হাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উম্মাতের বৈশিষ্ট্য হাঃ-৪২৮৫

রিফা‘আহ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা (সফর থেকে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ফিরে এলে তিনি বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এমন কোন বান্দা নেই যে ঈমান আনার পর তার উপর অবিচল থেকেও জান্নাতের দিকে পরিচালিত হবে না। আমি আশা করি যে, তোমরা ও তোমাদের সৎ কর্মপরায়ণ সন্তানেরা জান্নাতে নিজ নিজ স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত অন্য লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আমার মহান প্রভু আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।[৩৬১৭] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->বানু সাক্বীফ ও বানু হানীফাহ্‌ গোত্র দু'টি প্রসঙ্গে হাঃ-৩৯৫০

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সেই সত্তার ক্বসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! গিফার, আসলাম ও মুযাইনাহ্‌ গোত্র এবং যারা জুহাইনাহ্‌ গোত্রীয় এবং মুযাইনাহ্‌ গোত্রীয়, তারা ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা’আলার কাছে অবশ্যই আসাদ, তাঈ ও গাতাফান গোত্রের তুলনায় ভাল বিবেচিত হবে। সহীহঃ সহিহাহ্‌ (৩২১২), বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->সাওম (রোযা) বাব->এ হাদীসের বর্ণনায় আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ হাঃ-২২১৩

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন যে, সাওম (রোযা) আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব। সাওম (রোযা) পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে- সে যখন ইফতার করে আনন্দ লাভ করে আর সে যখন আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং আল্লাহ তাকে প্রতিদান দিবেন তখনও সে আনন্দ লাভ করবে। ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন, সাওম (রোযা) পালনকারীর মুখের দূর্গন্ধ আল্লাহ তা’আলার নিকট মিশকের সুগন্ধি থেকে বেশী পছন্দনীয়।


সুনান নাসাঈ অঃ->সাওম (রোযা) বাব->এ হাদীসের বর্ণনায় আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ হাঃ-২২১৬

আবূ সালিহ যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের জন্য (কেননা সব কাজের প্রতিদান তাকে দেওয়া হয়) কিন্তু সাওম (রোযা) আমারই জন্য (আল্লাহর জন্য) এবং আমিই নিজে (আল্লাহ নিজে) তার প্রতিদান দিব। আর সাওম (রোযা) ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেহ যখন সাওম (রোযা) পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চস্বরে কথা না বলে ও কারো উপর রাগান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, ‘আমি সাওম (রোযা) পালন করছি’। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ, সাওম (রোযা) পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা’আলার কাছে কস্তূরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয় হবে। সাওম (রোযা) পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে- যার দ্বারা সে আনন্দিত হবে। স্বীয় ইফতারের সময় সে আনন্দিত হবে এবং তার রবের সাথে সাক্ষাত করার সময় তার সাওম (রোযা) পালনের কারণে আনন্দিত হবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->সাওম (রোযা) বাব->এ হাদীসের বর্ণনায় আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ হাঃ-২২১৭

আতা যায়্যাত (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তারই। (কেননা নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেওয়া হয়)। কিন্তু সাওম (রোযা) একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। আর সাওম (রোযা) ঢাল স্বরূপ। তোমাদের মধ্যে কেও যখন সাওম (রোযা) পালন করে, তখন সে যেন অম্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং উচ্চস্বরে কথা না বলে ও কারো উপর রাগান্বিত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে তখন সে যেন বলে, ‘আমি সাওম (রোযা) পালন করছি’। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন, আল্লাহ তা’আলার নিকট সাওম (রোযা) পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ কস্তূরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।


সুনান নাসাঈ অঃ->সাওম (রোযা) বাব->এ হাদীসের বর্ণনায় আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্যের উল্লেখ হাঃ-২২১৮

সাঈদ ইব্‌ন মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ বনী আদমের প্রত্যেক নেক কাজ তার নিজের। (কেননা সব নেক কাজের প্রতিদান তাকে দিয়ে দেওয়া হয়) কিন্তু সাওম (রোযা) ; একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই নিজে তার প্রতিদান দিব। ঐ সত্তার শপথ যার পবিত্র হস্তে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন, সাওম (রোযা) পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দু্র্গন্ধ আল্লাহ তা’আলার নিকট কস্তূরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।


সুনান নাসাঈ অঃ->সাওম (রোযা) বাব->সাওম (রোযা) পালনকারীর ফযীলত সম্পর্কে আবূ উসামা (রাঃ)-এর হাদীসে মুহাম্মদ ইব্‌ন আবূ ইয়াকূব (রহঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনা পার্থক্য উল্লেখ হাঃ-২২৩৪

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাওম (রোযা) জাহান্নামের অগ্নি থেকে ঢালস্বরূপ। তাই যে ব্যক্তি সাওম (রোযা) পালনরত অবস্থায় যার ভোর হয় সে যেন অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় ব্যাবহার না করে। অন্য কেউ যদি তার সাথে অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করে তবে সে যেন তার সাথে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করে এবং গালি না দেয়। বরং বলে যে, আমি সাওম (রোযা) পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ যার হস্তে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন, সাওম (রোযা) পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তা’আলার নিকট কস্তৃরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।