সহিহ বুখারী অঃ->জানাযা বাব->রাত্রি কালে দাফন করা। হাঃ-১৩৪০

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাত্রিকালে দাফন করার পর তার জানাযার সালাত আদায় করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন তিনি লোকটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, এ লোকটি কে? তাঁরা জবাব দিলেন, অমুক, গতরাতে তাকে দাফন করা হয়েছে। তখন তাঁরা তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।


সহিহ বুখারী অঃ->মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বাব->ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী। হাঃ-৩৬৩৪

আবূ ‘উসমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে জানানো হল যে, একবার জিব্রাঈল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট আসলেন। তখন উম্মু সালামা (রাঃ) তাঁর নিকট ছিলেন। তিনি এসে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলেন। অতঃপর উঠে গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সালামা (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলেন, লোকটিকে চিনতে পেরেছ কি? তিনি বললেন, এতো দেহ্ইয়া। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি দেহ্ইয়া বলেই বিশ্বাস করেছিলাম কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে তাঁর খুতবায় জিব্রাঈল (আঃ) -এর আগমনের কথা বলতে শুনলাম। [সুলায়মান (রাবী) বলেন, আমি আবূ ‘উসমানকে জিজ্ঞেস করলাম এ হাদীসটি আপনি কার নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ ইব্‌ন যায়দ (রাঃ) -এর নিকট শুনেছি।


সহিহ বুখারী অঃ->ফাযায়িলুল কোরআন বাব->ওয়াহী কীভাবে অবতীর্ণ হয় এবং সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল। হাঃ-৪৯৮০

আবূ ‘উসমান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে অবগত করা হয়েছে যে, একদা জিব্‌রীল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে আগমন করলেন। তখন উম্মু সালামাহ (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে কথা বলতে আরম্ভ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সালামাহ (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? অথবা তিনি এরকম কোন কথা জিজ্ঞেস করলেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, ইনি দাহইয়া (রাঃ)। তারপর জিব্‌রীল (আঃ) উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র কসম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এর ভাষণে জিব্‌রীল (আঃ)– এর খবর না শুনা পর্যন্ত আমি তাঁকে সে দাহইয়া (রাঃ)– ই মনে করেছি। অথবা তিনি (বর্ণনাকারী) সে রকম কোন কথা বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী মুতামির (রহঃ) বলেন, আমার পিতা (সুলাইমান) বলেছেন, আমি ‘উসমান (রহঃ)- কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কার নিকট থেকে এ ঘটনা শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ ইব্‌নু যায়দের নিকট হতে।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬১৫)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর ফযিলত হাঃ-৬১২৪

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক রাত্রে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেগে রইলেন আর তিনি বললেন, আমার কোন সৎকর্মশীল সাহাবী যদি এ রাতটিতে আমাকে পাহারা দিতো! এমন সময় আমরা অন্ত্রের ঝন্ঝনানি শুনতে পেলাম। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইনি কে? উত্তর এলো, আমি সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস। আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি, হে আল্লাহর রসূল! ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় আমি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজও শুনতে পেলাম। (ই.ফা. ৬০১২, ই.সে. ৬০৫০)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর ফযিলত হাঃ-৬২০৯

সালমান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, তোমার পক্ষে যদি সম্ভব হয় তবে বাজারে প্রবেশকারীদের মাঝে তুমি প্রথম হয়ো না এবং সেখান থেকে বহির্গমনকারীদের মাঝে তুমি শেষ লোক হয়ে না। কেননা বাজার হলো শাইতানের আড্ডাখানা। আর সেখানেই সে তার ঝাণ্ডা উঁচু করে রাখে। সালমান (রাঃ) বলেন, আমাকে এ সংবাদও দেয়া হয়েছে যে, জিব্রীল (‘আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তখন তাঁর পাশে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) ছিলেন। জিব্রীল (‘আঃ) কথা বলতে লাগলেন এবং পরে চলে গেলেন। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সালামাহ্কে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে ছিলেন? বা এমন কথা বললেন। উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) জবাব দিলেন, ইনি দিহ্য়াহ্ কালবী (রাঃ)। উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে দিহ্য়াহ্ কালবী বলেই মনে করেছিলাম। যে পর্যন্ত না রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্তৃতা শুনলাম। তিনি আমাদের কথা বলছিলেন, কিংবা এম বলছিলেন। অর্থাৎ- জিব্রীল প্রবেশের বিররণ দিচ্ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাবী আবূ উসামাহ্কে প্রশ্ন করলাম যে, আপনি এ হাদীস কার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে। (ই. ফা. ৬০৯৩, ই. সে. ৬১৩৪)


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->গোসলের সময় পর্দা করা হাঃ-২২৫

উম্মে হানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট গিয়ে দেখলেন, তিনি গোসল করছেন আর ফাতিমা (রাঃ) তাঁকে একখানা কাপড় দ্বারা পর্দা করে আছেন। তিনি তাঁকে সালাম করলেন, তিনি বললেন ইনি কে? আমি বললাম, আমি ‘উম্মে হানী’। তিনি গোসল শেষ করলেন এবং পরে একখানা কাপড় জড়িয়ে আট রাকআত সালাত আদায় করলেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->মসজিদ বাব->মসজিদকে সুগন্ধিময় করা হাঃ-৭২৮

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের কিবলার দিকে নাকের ময়লা দেখে এত রাগান্বিত হলেন যে, তাঁর চেহারা মুবারক রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তখন এক আনসারী মহিলা দাঁড়িয়ে তা মুছে ফেলে তদস্থলে খলুক নামক সুগন্ধি লাগিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা কতইনা উত্তম কাজ।