সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময় হাঃ-১২৮০

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে সলাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জবাব দিলেন না [তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাজের মাধ্যমে তাকে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন]। বর্ণনাকারী সাহাবী আবূ মূসা বলেন, উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত আদায় করলেন। তখনও অন্ধকার এতটা ছিল যে, লোকজন একে অপরকে দেখে চিনতে পারছিল না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আযান দিতে আদেশ করলেন এবং লোকজন বলাবলি করছিল যে, দুপুর হয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এ বিষয়ে তাদের চেয়ে বেশী অবহিত। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আসরের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ‘আসরের সলাত আদায় করলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের সলাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় সলাত আদায় করলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার সলাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ‘ইশার সলাত আদায় করলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে। এরপর দিন সকালে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, যখন সলাত শেষ করলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় ঘটেছে বা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর যুহরের সলাত এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, গত দিনের ‘আসরের সলাত যে সময় আদায় করে ছিলেন প্রায় সে সময় এসে গেল। অতঃপর ‘আসরের সলাতটাও এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, সলাত শেষ করলে লোকজন বলাবলি করতে লাগল - সূর্য রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর মাগরিবের সলাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করলেন যে সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা তখন অন্তর্হিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ‘ইশার সলাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গেল এবং অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর সকাল বেলা প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ এ দুটি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই সলাতসমূহের সময় (অর্থাৎ- দু’দিনে আমি একই সময়ে সলাত আদায় না করে একই সলাতের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকু প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়)। (ই.ফা.১২৬৭, ই.সে.১২৮০)


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাতের ওয়াক্তসমূহ বাব->মাগরিবের শেষ ওয়াক্ত হাঃ-৫২৩

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে সালাতের ওয়াক্ত সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করল। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে বিলাল (রাঃ) -কে সালাতের প্রস্তুতির জন্য আদেশ করলেন। প্রভাতের সময় বিলাল (রাঃ) ফজরের ইকামত বললেন। যখন সূর্য ঢলে পড়লো তখন তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি যোহরের ইকামত বললেন।[১] কেউ বলতো (এই মাত্র) দ্বিপ্রহর হল না কি? অথচ তিনি অবগত ছিলেন। পুনরায় আদেশ করলেন, অতঃপর সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকতেই আসরের ইকামত বললেন। পুনরায় আদেশ করলেন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পরই মাগরিবের ইকামত বললেন। শফক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর ইশার সালাতের ইকামত বললেন। পরদিন ফজরের সালাত এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনের সময় কেউ (সন্দেহ করে) বললো, সূর্যোদয় হয়ে গেছে।[২] পরে যোহরের সালাত এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, গতকালের আসরের সময়ের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। আসরের সালাতকে এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, প্রত্যাবর্তনের সময় (সন্দিহান হয়ে) কেউ বলল, সূর্য রক্তিম বর্ণ হয়ে গেছে। পুনরায় মাগরিবের এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, শফক অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। তিনি ইশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করলেন। পুনরায় বললেন, এই দুই দিনের দুই ধরনের ওয়াক্তের মধ্যখানেই সালাতের ওয়াক্ত।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাতের ওয়াক্তসমূহ বাব->ফজরের প্রথম ওয়াক্ত হাঃ-৫৪৪

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যাক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফজরের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। পরবর্তী দিন প্রভাত হওয়ার পরই তিনি ফজরের প্রথম ওয়াক্তে ইকামত দেয়ার জন্য আদেশ করলেন এবং আমাদের নিয়ে দালাত আদায় করলেন।পরদিন ঊষা ফর্সা হওয়ার পর সালাতের ইকামত বলার জন্য আদেশ করলেন। সালাতের ইকামত বলা হলো এবং তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? এ দুই ওয়াক্তের মধ্যখানেই সালাতের সময়।