সহিহ মুসলিম অঃ->হায়িয (ঋতুস্রাব) বাব->তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] হাঃ-৭০৬

‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক লোক ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি কিন্তু পানি পাইনি (তখন কি করব?)। তিনি বললেন, তুমি সলাত আদায় করো না। তখন ‘আম্মার (রাঃ) বললেন, আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমি ও আপনি কোন এক অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উভয়েই অপবিত্র হয়ে পড়লাম। আর কোথাও পানি পেলাম না তখন আপনি সলাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সলাত আদায় করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ ঘটনা জানালে তিনি বললেন, তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি দু’হাত জমিনে মারতে তারপর ফুঁক দিয়ে আলগা ধুলা ফেলে দিতে তারপর উভয় হাতের কব্জি দ্বারা মাসাহ করতে তোমার দু’হাতে ও চেহারা”। ‘উমার (রাঃ) বললেন, “আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর”। তিনি [‘আম্মার (রাঃ)] বললেন, “আপনি চাইলে আমি এটা আর বর্ণনা করব না”। হাকাম বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযার পুত্র তার পিতা ‘আবদুর রহমান থেকে আমার কাছে যার্‌-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, তোমার বর্ণনায় দায়-দায়িত্ব তোমার উপর। (ই.ফা. ৭০৫, ই.সে.৭২০)


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->মুকীমের তায়াম্মুম হাঃ-৩১২

আবদুর রহমান ইব্‌ন আবযা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যক্তি উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাত অবস্থায় আছি কিন্তু পানি পাইনি। উমর (রাঃ)বললেনঃ তুমি সালাত আদায় করো না। এ কথা শুনে আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নাই যে, এক সময় আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম, আমরা উভয়ে জুনুবী হয়ে পড়লাম, আর আমরা পানি পেলাম না। এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম, তারপর সালাত আদায় করলাম। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল। এ বলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হস্তদ্বয় মাটিতে মারলেন এরপর তাতে ফুঁ দিলেন এবং তা দ্বারা তাঁর চেহারা এবং উভয় হাত মসেহ করলেন। বর্ণনাকারী সালামা সন্দেহ করলেন, এ ব্যাপারে তাঁর মনে নেই কনুই পর্যন্ত বলেছেন, না কব্জি পর্যন্ত। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে তার দায়-দায়িত্ব তোমার উপরই অর্পণ করলাম।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->আরেক প্রকারের তায়াম্মুম হাঃ-৩১৮

ইব্‌ন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত হলে উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাত অবস্থায় উপনীত হয়েছি কিন্তু পানি পাই না। তিনি বললেন, তুমি সালাত আদায় করবে না। তখন আম্মার বললেন, আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা জানাবাত অবস্থায় পতিত হলাম, তখন আমরা পানি পাইনি, এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু‘বা (রহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা তার মুখমণ্ডল মসেহ করলেন। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কী? আম্মার বললেন, যদি আপনি চান তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমর (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->তায়াম্মুমের বর্ণনা হাঃ-৩২৪

আম্মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট- এই বলে তিনি জমিনে হাত মেরে ফুঁ দিলেন। এরপর মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত মাসাহ্ করলেন। সালামাহ এতে সন্দেহ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কনুই পর্যন্ত হাত মাসাহ্ করেছেন নাকি কব্জি পর্যন্ত তা আমার জানা নেই। সহীহঃ সন্দেহ করার কথাটি বাদে। মাহফূয হচ্ছে (…..) শব্দে। যেমন সামনে আসছে।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ বাব->তায়াম্মুম করার জন্য মাটিতে একবার হাত মারবে হাঃ-৫৬৯

আবদুর রহমান বিন আবযা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যাক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে বললো, আমি অপবিত্র হয়েছি, কিন্তু পানি পাচ্ছি না (এখন কি করি)? উমার (রাঃ) বলেন, তুমি সলাত আদায় কর না। আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কি স্মরণ আছে, আমি ও আপনি যখন এক যুদ্ধাভিযানে যোগদান করেছিলাম, আমরা অপবিত্র হয়ে পড়লাম, কিন্তু পানি পাইনি? তখন আপনি সলাত আদায় করেননি, কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি করি, অতঃপর সলাত আদায় করি। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট ঐ ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলেন, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দু’ হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করার পর তাতে ফুঁ দেন, তারপর দু’ হাত দিয়ে তাঁর মুখমন্ডল ও উভয় হাত মাসহ করেন। [৫৬৬]