সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->উহূদ যুদ্ধ হাঃ-৪০৪৭

খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা কেবল আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম। ফলে আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের পুরস্কার লিখিত হয়ে গেছে। আমাদের কতক দুনয়্যাতে কোন পুরস্কার ভোগ না করেই অতীত হয়ে গেছেন এবং চলে গেছেন। মাস’আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) তাদের একজন। তিনি উহূদের যুদ্ধে শাহাদাত লাভ করেন। তিনি একটি পাড় বিশিষ্ট পশমী বস্ত্র ব্যতীত আর কিছু রেখে যাননি। এ দিয়ে আমরা তার মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ কাপড় দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর দাও ইযখির অথবা তিনি বললেন, ইযখির দ্বারা তার পা ঢেকে দাও। আমাদের কতক এমনও আছেন, যাদের ফল পেকেছে এবং তিনি এখন তা সংগ্রহ করছেন। [১২৭৬] (আ.প্র. ৩৭৪৫, ই.ফা. ৩৭৪৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->জানাযা সম্পর্কিত বাব->মৃতকে কাফন পরানো হাঃ-২০৬৬

খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে হিজরাত করলাম। অতএব, আল্লাহর কাছে আমাদের পুরস্কার পাওয়া অনিবার্য হয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ এভাবে দুন্‌ইয়া থেকে চলে গেলেন যে, তাঁর পুরস্কারের কোন কিছুই তিনি ভোগ করেননি। মুস‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) তাদের অন্যতম। তিনি উহুদ যুদ্ধের দিন শাহাদাত বরণ করেন। তাঁকে কাফন দেয়ার মতো একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। আমরা যখন তা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলাম পা বেরিয়ে আসল। আর যখন পায়ের উপর রাখলাম, মাথা বেরিয়ে আসল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ“তোমরা চাদরটি এভাবে পরাও যাতে তা মাথা জড়িয়ে থাকে আর তাঁর পা ‘ইযখির নামক (এক প্রকার) শুকনো ঘাস দিয়ে ঢেকে দাও”। এছাড়া আমাদের মধ্যে কারো কারো ফল পেকে গেছে, যা তারা আহরণ করছে। (ই.ফা. ২০৪৫, ই.সে. ২০৫০)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->ওসিয়াত প্রসঙ্গে বাব->মৃতের কাফন তার সমস্ত মালের মধ্যে গণ্য হাঃ-২৮৭৬

খাব্বার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মুস’আব ইবনু ‘উমাইর (রাঃ) উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তার একটি কম্বল ছাড়া কিছুই ছিলো না। আমরা সেটা দিয়ে তার মাথা পর্যন্ত ঢাকলে তার দু’ পা বেরিয়ে পড়তো এবং তার দু’ পা ঢাকলে মাথা উন্মুক্ত হয়ে যেতো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কম্বল দ্বারা তার মাথা ঢেকে দাও এবং ইযখির (সুগন্ধি ঘাস) দ্বারা পা দুটি ঢেকে দাও।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মর্যাদা বাব->মুস’আব ইবনু ‘উমাইর (রাঃ)-এর মর্যাদা। হাঃ-৩৮৫৩

খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই আমরা রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হিজরত করি। সুতরাং এর পুরস্কার আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছেই আমাদের প্রাপ্য। আমাদের মাঝে কেউ এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন যে, তিনি তার পুরস্কার কিছুই (পৃথিবীতে) ভোগ করতে পারেননি। আবার আমাদের মাঝে কারো ফল পেকেছে এবং তিনি তা (পৃথিবীতে) ভোগ করেছেন। আর মুস’আব ইবনু ‘উমাইর (রাঃ) মাত্র একখানা কাপড় ছাড়া আর কোন সম্পদই রেখে যাননি। (তার মৃত্যুর পর) লোকেরা ঐ কাপড়খানা দিয়ে তার মাথা ঢাকলে তার পা দু’টি বের হয়ে যেত, আবার তা দিয়ে তার পা দু’টি ঢেকে দিলে তার মাথাটি অনাবৃত হয়ে যেত। সে সময় রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কাপড়টি দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং তার পায়ের উপর ইয্‌খির ঘাস বিছিয়ে দাও। সহীহঃ আহকামুল জানায়িয (৫৭, ৫৮) বুখারী ও মুসলিম।