সহিহ বুখারী অঃ->যামিন হওয়া বাব->আল্লাহ তা’আলার বাণী: “যাদের সঙ্গে তোমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দিবে।” (আন-নিসা : ৩৩) হাঃ-২২৯২

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ------ আয়াতে ------ শব্দের অর্থ উত্তরাধিকারী। আর ------- আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] বলেন, ------ মদীনায় মুহাজিরদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আগমনের পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন, তার ভিত্তিতে মুহাজিররা আনসারদের উত্তরাধিকারী হত, কিন্তু আনসারদের আত্মীয়-স্বজনরা ওয়ারিশ হত না। যখন ------- এ আয়াত নাযিল হল, তখন ----------- আয়াতের হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর তিনি আরো বলেন, উপরোক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে মুহাজির ও আনসারদের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও আদেশ-উপদেশের হুকুম বাকী রয়েছে। কিন্তু তাদের জন্য মীরাস বা উত্তরাধিকার স্বত্ব রহিত হয়ে গেছে। অবশ্য তাদের জন্য ওসীয়াত করা যেতে পারে।


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->আল্লাহর বাণীঃ আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি সে সম্পত্তির যা ছেড়ে যায় পিতা-মাতা ও নিকট- আত্মীয়রা। আর যাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের দিয়ে দাও তাদের প্রাপ্য অংশ। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৩৩) হাঃ-৪৫৮০

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, وَلِكُلٍّجَعَلْنَامَوَالِيَ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, وَالَّذِينَعَاقَدَتْأَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার জন্য নয় বরং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের কারণে। যখন وَلِكُلٍّجَعَلْنَامَوَالِيَ অবতীর্ণ হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য-সহযোগিতা ও পরস্পরের উপকার করার। আগের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রহিত হল এবং এদের জন্য ওয়াসীয়াত বৈধ করা হল। হাদীসটি আবূ উসামাহ ইদরীসের কাছে থেকে এবং ইদরীস ত্বলহার নিকট হতে শুনেছেন। [২২৯২] (আ.প্র. ৪২১৯, ই.ফা. ৪২২২)


সহিহ বুখারী অঃ->উত্তরাধিকার বাব->যাবিল আরহাম। হাঃ-৬৭৪৭

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ} এ আয়াত সম্বন্ধে বলেন, মুহাজিরগণ যখন মদিনা্য় আসলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মুহাজির ও আনসারগণের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন জুড়ে দেয়ার কারণে আনসারগণের সঙ্গে যাদের যাবিল আরহাম-এর সম্পর্ক ছিল তাদের ছাড়াও মুহাজিরগণ আনসারগণের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতেন। অতঃপর وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ..... الآية- অর্থাৎ ‘যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছ’ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ অতঃপর আয়াতের বিধান রহিত হয়ে গেল। [২২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯১)