সহিহ বুখারী অঃ->জিহাদ বাব->আল্লাহ্‌র রাস্তায় সওয়ারী থেকে পতিত হয়ে কারো মৃত্যু ঘটলে, সে জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত। হাঃ-২৭৯৯

উম্মু হারাম বিন্‌তু মিলহান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকটবর্তী এক স্থানে শুয়েছিলেন, অতঃপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হলো যারা এই নীল সমুদ্রে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র নিকট দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তার জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং আগের মতই করলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) আগের মতই বললেন এবং আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগের মতই জবাব দিলেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র নিকট দু’আ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মু’আবিয়া (রাঃ)-এর সঙ্গে মুসলিমরা যখন প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয়, তখন তিনি তাঁর স্বামী ‘উবাদা ইব্‌নু সামিতের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাদের কাফেলা সিরিয়ায় যাত্রা বিরতি করে। আরোহণের জন্য উম্মু হারামকে একটি সওয়ারী দেয়া হলো, তিনি সওয়ারীর উপর থেকে পড়ে মারা গেলেন।


সহিহ বুখারী অঃ->জিহাদ বাব->সাগর যাত্রা হাঃ-২৮৯৪

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, উম্মু হারাম (রাঃ) আমাকে বলেছেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। উম্মু হারাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি আমার উম্মাতের একদলের ব্যাপারে বিস্মিত হয়েছি, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজা-বাদশাহদের মত সমুদ্র সফর করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহ্‌র নিকট দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। অতঃপর তিনি আবার ঘুমালেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। আর তিনি দু’বার অথবা তিনবার অনুরূপ বললেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের অগ্রগামীদের মধ্যে রয়েছ। পরে ‘উবাদা ইব্‌নু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে নিয়ে জিহাদে বের হন। তাকে তাঁর আরহণের জন্য একটি সাওয়ারীর জানোয়ারের নিকটবর্তী করা হল। কিন্তু তিনি তা থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়।


সহিহ মুসলিম অঃ->প্রশাসন ও নেতৃত্ব বাব->সামুদ্রিক জিহাদের মাহাত্ম্য হাঃ-৪৮২৯

আনাস (রাঃ)-এর খালা থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ঘরে এলেন এবং আমাদের এখানেই মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করলেন। তারপর তিনি যখন জাগলেন তখন তিনি হাসছিলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসবার কারণ কী? আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! তখন জবাবে তিনি বললেন, আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হলো যে, আমার উম্মাতের মধ্যকার একদল লোক রাজা-বাদশাহ্‌দে‌র সিংহাসনে আরোহণের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠে আরোহণ করবে। তখন আমি আরয করলাম, আপনি আমার জন্য দু’আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল করে নেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে শামিল থাকবে। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং পুনরায় জেগে আবারও হাসতে থাকেন। আমি তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি পূর্বের মতো উত্তর দিলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল রাখেন। তিনি বললেন, তুমি হবে তাদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে ‘উবাদাহ্‌ ইবনু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি সমুদ্রযুদ্ধে যাত্রা করেন এবং তাঁকেও সঙ্গে নিয়ে যান। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন তখন একটি খচ্চর তাঁর সামনে আনা হলো। তিনি তাতে আরোহণ করলেন তখন খচ্চরটি তাঁকে নীচে ফেলে দেয়। তাতে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়। (এবং এভাবে তিনি শহীদ হন।) (ই.ফা. ৪৭৮২, ই.সে. ৪৭৮৩)