সহিহ বুখারী অঃ->তালাক বাব->পুরুষকে প্রথমে লি'আন করানো হবে। হাঃ-৫৩০৭

ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, হিলাল ইবনু উমাইয়্যা তার স্ত্রীকে (যিনার) অপবাদ দেয়। তিনি এসে সাক্ষ্য দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে লাগলেনঃ আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই জানেন তোমাদের দু'জনের একজন তো মিথ্যাচারী। অতএব কে তোমাদের দু'জনের মধ্যে তাওবাহ করতে প্রস্তুত আছ? এরপর স্ত্রী লোকটি দাঁড়াল এবং (নিজের দোষমুক্তির) সাক্ষ্য দিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮১১)


সহিহ মুসলিম অঃ->লি’আন বাব->লি'আন সম্পর্কে হাঃ-৩৬৪১

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ বানী ‘আজলান গোত্রের দু’জনকে (স্বামী-স্ত্রী) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ ভালভাবেই জানেন যে, নিশ্চয়ই তোমাদের দু’জনের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। অতএব তোমাদের কেউ কি তাওবাহ্‌ করতে আগ্রহী? (ই.ফা.৩৬০৭, ই.সে.৩৬০৭)


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->সূরা আন-নূর হাঃ-৩১৭৯

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হিলাল ইবনে উমাইয়াহ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর যিনার অভিযোগ দায়ের করেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, প্রমান হাজির কর, অন্যথায় তোমার পিঠে চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেনঃ হিলাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমাদের মাঝে কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে কোন পুরুষ লোককে গর্হিত কাজে লিপ্ত দেখে তখন সে কি সাক্ষী খুঁজে বেড়াবে? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকেন, প্রমান দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে শাস্তির চাবুক পড়বে। বর্ণনাকারী বলেন, হিলাল (রাঃ) বললেন, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহ পাঠিয়েছেন! অবশ্যই আমি সত্যবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার বিষয়ে ওয়াহী অবতীর্ণ হবে যা আমার পিঠ কে কষ্ট থেকে রেহাই দিবে। অতঃপর অবতীর্ণ হল- "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ তাদের দলে তারা নিজেরা ব্যতিত আর কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহ্‌ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দিবে যে, সে (তার আনীত অভিযোগ) অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চম বারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহ্‌ তা'আলার অভিসম্পাত হোক। আর স্ত্রীলোকটির কষ্ট রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ্‌ তা'আলার নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে, এ লোক (তার উত্থাপিত অভিযোগ) মিথ্যাবাদী। পঞ্চম বারে বলবে, সে (অভিযোগকারী স্বামী) সত্যবাদী হলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্‌ তা'আলার গযব পতিত হোক"- (সূরা- আন নূর ৬-৯)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবসর হয়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) উভয় কে ডেকে পাঠান। তাদেরর উভয়ে হাজির হলে হিলাল (রাঃ) দাঁড়িয়ে সাক্ষী দিলেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে থাকেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অবগত আছেন যে তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, তোমাদের মধ্যে কে তওবা করতে প্রস্তুত? তারপর মেয়ে লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলো। সে যখন পঞ্চম বারে বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তার (স্ত্রীর) উপর আল্লাহ্‌র গজব নিপতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বলল, এ কথা (শাস্তিকে) অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে সে থেমে গেলো এবং পিছনে সরে আসলো। আমরা ধারনা করলাম যে সে তার কথা থেকে ফিরে আসবে। অতঃপর মেয়েলোকটি বলল, আমি চিরকালের জন্য আমার গোত্রে কালিমা লেপন করতে পারিনা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা এই মেয়েলোকটির উপর নজর রেখো। সে যদি কাজল বর্ণের চোখ, প্রশস্ত নিতম্ব ও পায়ের মাংস গোছাযুক্ত সন্তান প্রসব করে তবে সে সন্তান ইবনু সাহমারই। পরবর্তীতে মহিলাটি ঐরূপ সন্তানই প্রসব করলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যদি আগেই আল্লাহ্‌ তা'আলার হুকুম (লি'আনের বিধান) না এসে যেত, তাহলে আমাদের এবং তার মধ্যে একটা বিরাট কিছু ঘটে যেত (তাকে শাস্তি দেওয়া হতো)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ, (২০৬৭) বুখারী (৪৭৪৭)।