সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে হাঃ-২৮০২

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জের বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম এবং সাথে কুরবানির পশু নেইনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার সাথে কুরবানির পশু আছে, সে যেন তার ‘উমরার সাথে হাজ্জের ইহরামও বাঁধে এবং উভয়ের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করার পূর্বে যেন ইহরাম না খুলে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। ‘আরাফার রাত শুরু হলে আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম, অতএব আমি কিভাবে হাজ্জ করব? তিনি বললেন, তোমার চুল খুলে ফেল এবং চিরুণী কর, ‘উমরাহ্ স্থগিত রাখ এবং হাজ্জের ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি যখন হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন তিনি (আমার ভাই) ‘আবদূর রহমানকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তদানুযায়ী আমাকে তার বাহনের পেছন দিকে বসিয়ে তান’ঈম থেকে উমরাহ্ করালেন- যেহেতু আমি ‘উমরার অনুষ্ঠান পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। (ই.ফা. ২৭৭৯, ই.সে. ২৭৭৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে হাঃ-২৮০৪

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

বিদায় হাজ্জের বছর যিলহাজ্জ মাসের নতুন চাঁদ উদয়ের কাছাকাছি সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে (মাক্কাহ্) রওনা হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতে চায়, সে তা করতে পারে। আমার সঙ্গে হাদী বা কুরবানীর পশু না থাকলে আমি ‘উমরার ইহরাম বাধঁতাম। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে কতক ‘উমরার ইহরাম বাঁধল এবং কতক হাজ্জের ইহরাম বাঁধল। তিনি বললেন, আমি ‘উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমরা রওনা হলাম, অতঃপর মাক্কায় পৌঁছে গেলাম। ‘আরাফাহ্ দিবস পর্যন্ত আমার মাসিক ঋতু অব্যাহত থাকল এবং ‘উমরাহ্ করে ইহরাম খোলার সুযোগ পেলাম না। এ সংকটের বিষয়ে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করলে তিনি বললেন, তুমি তোমার ‘উমরাহ্ পরিত্যাগ কর, চুলের বাঁধন খুলে ফেল এবং তাতে চিরুণী কর আর হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধ। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। অতঃপর যখন মুহাস্সাব-এর রাত হলো এবং আল্লাহ তা’আলা আমাদের হাজ্জ সমাপন করার তাওফীক্ব দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে ‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)-কে পাঠালেন এবং তিনি আমাকে তাঁর বাহনের পেছনে বসিয়ে তান’ঈম নামক স্থানে রওনা হলেন। অতঃপর আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের হাজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনের তাওফীক্ব দান করলেন। এজন্য হাদী বা কুরবানী, সদাক্বাহ্ বা সওম কোনটিই পালন করতে হয়নি। (ই.ফা. ২৭৮১, ই.সে. ২৭৭৯)