সহিহ বুখারী অঃ->সালাত বাব->যেখানেই হোক (সালাতে) ক্কিবলামুখী হওয়া। হাঃ-৪০১

‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করলেন। রাবী ইবরাহীম (রহঃ) বলেনঃ আমার জানা নেই, তিনি বেশি করেছেন বা কম করেছেন, সালাম ফিরানোর পর তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! সালাতের মধ্যে নতুন কিছু হয়েছে কি? তিনি বললেনঃ তা কি? তাঁরা বললেনঃ আপনি তো এরূপ সালাত আদায় করলেন। তিনি তখন তাঁর দু’পা ঘুরিয়ে ক্কিবলামুখী হলেন। আর দু’টি সিজদা আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরলেন। পরে তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ যদি সালাত সম্পর্কে নতুন কিছু হতো, তবে অবশ্যই তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করে থাক, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। আমি কোন সময় ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সালাত সম্বন্ধে সন্দেহে পতিত হলে সে যেন নিঃসন্দেহ হবার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সালাত পূর্ণ করে। অতঃপর যেন সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদা দেয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৬, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->সলাতে ভুল-ত্রুটি হওয়া এবং এর জন্য সাহু সাজদাহ্ দেয়া হাঃ-১১৬১

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী ইবরাহীমের বর্ণনা মতে, এ সলাতে তিনি কিছুই কম বা বেশি করে ফেললেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সলাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, নতুন হুকুম আবার কেমন? তখন সবাই বললঃ আপনি সলাতে এরূপ করেছেন। এ কথা শুনে তিনি পা দু’খানা ভাঁজ করে ক্বিবলামুখী হয়ে বসলেন এবং দু’টি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর আমাদের দিকে ঘুরে বললেনঃ সলাতের ব্যাপারে কোন নতুন হুকুম আসলে আমি তোমাদেরকে জানাতাম। (এটা তেমনি কিছু নয়) বরং আমি তো মানুষ বৈ কিছুই না। তোমাদের যেমন ভুল হয় আমারও তেমন ভুল হয়। সুতরাং আমি যদি কোন কিছু ভুলে যাই তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করে দিও। আর সলাতের মধ্যে তোমাদের কারো কোন সন্দেহ হলে চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে যেটি সঠিক বলে মনে হবে সেটিই করবে এবং এর উপর ভিত্তি করে সলাত শেষ করবে। অতঃপর দু’টি সাজদাহ্ করবে। (ই.ফা. ১১৫৪, ই.সে. ১১৬৩)


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->(সালাত আদায়কালে সন্দেহ হলে) ভেবে দেখা হাঃ-১২৪৩

আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদা) সালাত আদায়কালে কিছু বাড়িয়ে অথবা কমিয়ে ফেল্‌লেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, আমরা বললাম, ইয়া নবী আল্লাহ! সালাতে কি কিছু ঘটেছে? তিনি বললেন, তা কি? তখন তিনি যা করেছেন আমরা তাঁকে সে সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি পা গুটিয়ে কিবলার দিকে মুখ করে সহুর (ভুলের) জন্য দু'টি সিজদা করলেন। তারপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, যদি সালাতে কিছু ঘটে থাকত তাহলে তা আমি তোমাদের অবহিত করে দিতাম। তারপর বললেন, আমিও তো একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যেতে পার আমিও তেমনিভাবে ভুলে যেতে পারি। অতএব, যদি তোমাদের কারো সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় তা হলে সে যেন ভেবে দেখে কোন্‌টা সঠিক, তারপর সালাম ফিরিয়ে সহুর (ভুলের) জন্য দু'টি সিজদা করে নেয়।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->(সালাত আদায়কালে সন্দেহ হলে) ভেবে দেখা হাঃ-১২৪৪

আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদিন) জোহরের সালাত আদায় করে মুসল্লীদের দিকে মুখ ফিরালেন তখন তারা বলল, সালাতে কি কিছু ঘটেছে? তিনি বললেন, তা কি? তখন মুসল্লীগণ তাঁর কৃত কাজ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাঁর পা গুটিয়ে নিলেন, এবং কিবলার দিকে মুখ করে দু'টি সিজদা করলেন ও সালাম ফিরালেন। তারপর তাদের দিকে ফিরে বললেন, আমিও তো একজন মানুষ, তোমরা যেমন ভুলে যেতে পার আমিও তেমনিভাবে ভুলে যেতে পারি। যদি আমি ভুলে যাই তা হলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তিনি আরো বলেন, যদি সালাতে কিছু ঘটে থাকত তা হলে আমি তোমাদের তা জানিয়ে দিতাম। তিনি আরো বললেন, তোমাদের কারো যদি সালাতে সন্দেহের উদ্রেক হয় তবে সে যেন ভেবে দেখে যা সঠিকের কাছাকাছি বলে মনে হয় তার উপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করে নেয় ও দু'টি সিজদা করে।