ইবনু জুরায়য (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রুকু’তে কি পড়েন? তিনি বলেন, “সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- ‘আনতা”। অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমরা তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ননা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই।” কেননা ইবনু আবূ মুলাইকাহ্ আমাকে ‘আয়িশার সুত্রে অবহিত করেছেন যে, তিনি [‘আয়িশাহ্ রাঃ) ] বলেছেন, একরাতে আমি ঘুম থেকে জেগে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আমার কাছে পেলাম না। আমি ধারনা করলাম, তিনি হয়ত তাঁর অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। আমি তাঁর খোঁজে বের হলাম, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসলাম। দেখি, তিনি রুকু’ অথবা (রাবীর সন্দেহ) সাজদায় আছেন এবং বলছেন “সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা”। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি কি ধারনায় নিমজ্জিত হয়েছি, আর আপনি কি কাজে মগ্ন আছেন। (ই.ফা. ৯৭১, ই.সে. ৯৮২)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বাক্যগুলোর সাহায্যে দু‘আ করতেন এবং কঠিন বিপদাপদের সময় এগুলো পড়তেন। তারপর তিনি কাতাদাহ্ (রহঃ)-এর সানাদে মু‘আয ইবনু হিশামের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, “রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আর্যি”, অর্থাৎ- “আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক”। (ই.ফা. ৬৬৭৪, ই.সে. ৬৭২৮)
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন দু’টি ধূসর বর্ণের শিংবিশিষ্ট ও খাসী করা দুম্বা যাবাহ করেন। তিনি দুম্বা দু’টিকে কিবলাহুমুখী করে শুইয়ে বলেনঃ (আরবি) অতঃপর তিনি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যাবাহ করেন। দূর্বলঃ মিশকাত (১৪৬), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৬৬৯/৩১২১)
জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন দু’টি মেষ যবেহ করেন। তিনি পশু দু’টিকে কিব্লামুখী করে বলেনঃ “ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল-আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়াকা ও মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা আন মুহাম্মাদিন ওয়া উম্মাতিহি।” “আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই” (সূরা আনআমঃ ৭৯)। “বলো, আমার নামায, আমার ইবাদত (কুরবানী), আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম” (সূরা আনআমঃ ১৬২-৩)। হে আল্লাহ! তোমার নিকট থেকেই প্রাপ্ত এবং তোমার জন্যই উৎসর্গিত। অতএব তা মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের পক্ষ থেকে কবুল করো”। [৩১২১]
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে না পেয়ে মনে করলাম তিনি তাঁর অন্য কোন বিবির নিকট গিয়ে থাকবেন। হাতড়িয়ে দেখলাম তিনি রুকু অথবা সিজদা অবস্থায় বলছেনঃ (আরবী) তখন আমি বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক। আমি এক অবস্থায় ছিলাম আর আপনি আছেন অন্য অবস্থায়।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বিছানায় পেলাম না। মনে করলাম, তিনি তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গমন করেছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে পেলাম যে, তিনি রুকু ও সিজদায় রত আছেন এবং বলছেনঃ হে আল্লাহ্! তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। এতে আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আপনি এক অবস্থায় আছেন আর আমি অন্য এক অবস্থায় আছি।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে (বিছানায়) পেলাম না। মনে করলাম, তিনি তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গমন করেছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে পেলাম যে, তিনি রুকু ও সিজদায় রত আছেন এবং বলছেনঃ হে আল্লাহ্! তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। এতে আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্যে উৎসর্গ হোক। আপনি এক অবস্থায় আছেন আর আমি অন্য এক অবস্থায় আছি।