সহিহ মুসলিম অঃ->ই’তিকাফ বাব->ই‘তিকাফে ইচ্ছুক ব্যক্তি কখন ই‘তিকাফের স্থানে প্রবেশ করবে হাঃ-২৬৭৫

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলে ফাজরের সলাত আদায়ের পর ই‘তিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। একবার তিনি (মাসজিদের অভ্যন্তরে) তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং তদানুযায়ী তা খাটানো হ‘ল। তিনি রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করার সংকল্প করলেন। উম্মুল মু‘মিনীন যায়নাব (রাঃ)-ও তাঁর তাঁবু খাটিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং তা খাটানো হ‘ল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অপরাপর স্ত্রীগণও নিজ নিজ তাঁবুগুলো খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং তা খাটানো হ‘ল। ফাজরের সলাত শেষে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকিয়ে তাঁবুগুলো খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং তা তুলে ফেলা হল। তিনি রমাযানের ই‘তিকাফ ভঙ্গ করলেন এবং শাওওয়াল মাসের প্রথম দশকে কাযা করলেন। (ই.ফা. ২৬৫২, ই.সে. ২৬৫১)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সওম (রোজা) বাব->ই‘তিকাফ হাঃ-২৪৬৪

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফের ইচ্ছা করলে ফজরের সলাত আদায়ের পর তাঁর ই‘তিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। তিনি বলেন, একবার তিনি রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফের ইচ্ছা করলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। এরপর তা দেখে আমিও আমার জন্য একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। তিনি বলেন, আমি ছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যান্য স্ত্রীরাও অনুরূপ তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তাদের জন্যও তা খাটানো হয়। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজর সলাতের পর তাবুঁগুলোর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কি? এটা এমন কি ভালো কাজ যা তোমরা করতে চাইছো? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি নির্দেশ দিলে তাঁর তাঁবু ভেঙ্গে ফেলা হলো। স্ত্রীগণও নির্দেশ দিলে তাঁদের তাঁবুগুলোও ভেঙ্গে ফেলা হলো। অতঃপর তিনি শাওয়াল মাসের প্রথম দশক পর্যন্ত ই‘তিকাফ পিছিয়ে দেন। ইমামা আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ইবনু ইসহাক্ব ও আল-আওযাঈ (রহঃ) ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম মালিক (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাওয়াল মাসে বিশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->সিয়াম বা রোজা বাব->যে ব্যক্তি ই’তিকাফে বসলো এবং ই’তিকাফের কাযা সম্পর্কে। হাঃ-১৭৭১

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলে ফজরের সলাত পড়ার পর ই’তিকাফের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করতেন। তিনি রমাদানের শেষ দশদিন ই‘তিকাফ করার ইচ্ছা করলেন এবং তাঁর জন্য একটি বেষ্টনী তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। আয়িশা (রাঃ)-ও তাঁর জন্য একটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন। অতএব তার জন্যও বেষ্টনী তৈরি করা হলো। হাফসা (রাঃ)-ও একটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিলে তাঁর জন্যও তা তৈরি করা হলো। যয়নাব (রাঃ) তাদের দু’জনের বেষ্টনী দেখে আরেকটি বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন এবং তাঁর জন্যও তা তৈরি করা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বলেন, তোমরা কি পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে এমনটি করছো! এরপর তিনি আর রমজান মাসে ই‘তিকাফ করলেন না, পরে শাওয়াল মাসের দশ দিন ই‘তিকাফ করেন। [১৭৭১]