সহিহ বুখারী অঃ->আযান বাব->তাকবীরে তাহরীমার পরে কি পড়বে । হাঃ-৭৪৪

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাক্‌বীরে তাহ্‌রীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার পিতামাতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কি পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি- “হে আল্লাহ্‌! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ্‌ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ্‌ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।”


সহিহ বুখারী অঃ->দু’আ বাব->গুনাহ এবং ঋণ হতে আল্লাহ্‌র আশ্রয় প্রার্থনা । হাঃ-৬৩৬৮

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন : হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাছি অলসতা, অতিশয় বার্ধক্য, গুনাহ আর ঋণ থেকে, আর ক্ববরের ফিত্‌না এবং ক্ববরের শাস্তি হতে। আর জাহান্নামের ফিত্‌না এবং এর শাস্তি থেকে, আর ধনশালী হবার পরীক্ষার খারাপ পরিণতি থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি মসীহ দাজ্জালের ফিত্‌না হতে। হে আল্লাহ্‌! আমার গুনাহ-এর দাগগুলো থেকে আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন এবং আমার অন্তরকে সমস্ত গুনাহ এর ময়লা থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রকে ময়লা থেকে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করে থাকেন। আর আমার ও আমার গুনাহগুলোর মধ্যে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যতটা দূরত্ব আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম দিকের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন।[৯৩২; মুসলিম ৫/২৫, হাঃ ৫৮৯, আহমাদ ২৪৬৩২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৫)


সহিহ বুখারী অঃ->দু’আ বাব->দারিদ্র্যের সংকট হতে আশ্রয় প্রার্থনা। হাঃ-৬৩৭৭

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু’আ পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে জাহান্নামের সংকট, জাহান্নামের শাস্তি, ক্ববরের সংকট, ক্ববরের শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিত্‌না ও অভাবের ফিত্‌না থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিত্‌নার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন। আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রের ময়লা পরিষ্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দূরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ হতে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৪)


সহিহ মুসলিম অঃ->মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ বাব->তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে হাঃ-১২৪১

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শুরু করলে তাকবীরে তাহরীমা বলে ক্বিরাআত শুরু করার আগে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। এ দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি সলাতের তাকবীরে তাহরীমা ও ক্বিরাআতের মাঝে যখন চুপ থাকেন তখন কি পড়েন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তখন বলিঃ “আল্ল-হুম্মা বা-‘ইদ বায়নী ওয়াবায়না খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা- বা-আদতা বায়নাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব, আল্লা-হুম্মা নাক্কিনী মিন খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা-ইউনাক্কাস্‌ সাওবুল আব্‌ইয়াযু মিনাদ্‌ দানাস, আল্ল-হুম্মাগ সিল্‌নী মিন খত্বা-ইয়া-ইয়া বিস্‌সাল্‌জি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল বারাদ” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে তুমি যে পরিমাণ দূরত্ব রেখেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমনভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপসমূহ বরফ, পানি ও তুষারের শুভ্রতা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও। (ই.ফা.১২৩০, ই.সে.১২৪২)


সহিহ মুসলিম অঃ->যিক্‌র, দু’আ, তওবা ও ইস্‌তিগফার বাব->(আল্লাহর কাছে) ফিত্‌নাহ্‌ ইত্যাদির অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হাঃ-৬৭৬৪

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু‘আসমূহ পাঠের মাধ্যমে দু‘আ করতেন, “আল্ল-হুম্মা ফাইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিতনাতিন্ না-রি ওয়া ‘আযা-বিন্ না-রি ওয়া ফিতনাতিল কব্রি ওয়া ‘আযা-বিল্ কব্রি ওয়ামিন্ শার্রি ফিতনাতিল গিনা ওয়ামিন্ শার্রি ফিতনাতিল ফাক্রি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ শার্রি ফিতনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল, আল্ল-হুম্মাগ্সিল খতা- ইয়া-ইয়া বিমা-য়িস্ সাল্জি ওয়াল বারাদ, ওয়ানাক্কি কল্বী মিনাল খতা-ইয়া- কামা- নাক্কাইতাস্ সাওবাল্ আব্ইয়াযা মিনাদ্ দানাস ওয়া বা-‘ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খতা-ইয়া-ইয়া কামা- বা-‘আদ্তা বাইনাল মাশ্রিকি ওয়াল মাগ্রিব, আল্ল-হুম্মা ফা-ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়াল মা’সামি ওয়াল মাগ্রাম।” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই, কবরের ফিতনাহ্, কবর শাস্তি ও ধন-সম্পদের ফিতনাহ্ এবং অসচ্ছলতার ফিতনার খারাবী হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার বিভ্রান্তির অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ্সমূহ বরফ ও কুয়াশার স্নিগ্ধ-শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিন। আমার অন্তর পবিত্র করে দিন যেভাবে আপনি সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করে দেন। আমি ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে দুরত্ব করে দিন যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অলসতা, বার্ধক্য, গুনাহ ও ধার-কর্জ হতে আশ্রয় চাই।” (ই.ফা. ৬৬২৪, ই.সে. ৬৬৭৯)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->সলাত শুরু করা সম্পর্কে হাঃ-৭৪১

নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) সলাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলার সময়, রুকু’তে গমনকালে, রুকু’ হতে মাথা উত্তোলনকালে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্‌ বলে এবং দু’ রাক’আত সলাত আদায়ের পর (তৃতীয় রাক’আতের জন্য) দাঁড়ানোর সময় উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি এর বর্ণনা সূত্র রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (অর্থাৎ এটি মারফূ হাদীস)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, প্রথম হাদীসের দু’ রাক’আত সলাত শেষে দাঁড়ানোর সময় হাত উত্তোলনের কথাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত নয়। আর সাক্বাফী এটি ‘উবাইদুল্লাহ সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর মাওকূফ বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাতে উল্লেখ আছেঃ “তিনি দু’ রাক’আত সলাত শেষে দাঁড়ানোর সময় উভয় হাত বক্ষ পর্যন্ত উঠাতেন।” এ বর্ণনাটি সহীহ। সহীহঃ বুখারী। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) আরো বলেন, লাইস ইবনু সা’দ, মালিক, আইউব ও ইবনু জুরায়িজ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ এর বর্ণনা সূত্র সহাবী পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। হাম্মাদই কেবল এককভাবে হাদীসকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়িজ বলেন, আমি নাফি’কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কি অন্য সময়ের চেয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তাঁর হাত অধিক উঠাতেন? তিনি বলেন, না; বরং তিনি সব সময়ই একইভাবে হাত উঠাতেন। আমি বললাম, আমাকে ইশারায় দেখিয়ে দিন। তিনি তার বুক বা তার চেয়ে একটু নীচে পর্যন্ত ইশারা করে দেখালেন।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->সালাত আদায় করা ও তার নিয়ম কানুন বাব->সালাত শুরু করা। হাঃ-৮০৫

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীরে তাহরীমা বলার পর, তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে চুপ থাকেন কেন? তখন আপনি কী বলেন আমাকে বলুন! তিনি বলেন: আমি বলিঃ (আল্লাহুম্মা বা’ইদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বায়াদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়াইয়া কাস-সাওবিল আবইয়াদু মিনাদ দানাস। আল্লাহুম্মাগসিলনী মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াস-সালজি ওয়াল বারাদ।) “হে আল্লাহ্! আপনি আমার ও আমার গুনাহের মাঝে এরূপ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেরূপ আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপরাশি থেকে পবিত্র করুন, যেমন ময়লা থেকে ধবধবে সা’দা কাপড় পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ হিমশীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন।” [৮০৩]


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->দুআ বাব->যা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাঃ-৩৮৩৮

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসকল বাক্যে দুআ’ করতেন : “হে আল্লাহ্‌! আমি অবশ্যই আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের বিপর্যয় থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের বিপর্যয় থেকে, কবরের শাস্তি থেকে,‌ প্রাচুর্যের বিপর্যয়কর ক্ষতি থেকে, দারিদ্র্যের বিপর্যয়কর অভিশাপ থেকে এবং দাজ্জালের বিপর্যয়কর ক্ষতি থেকে। হে আল্লাহ্‌! তুমি আমার গুনাহসমূহ বরফ-শীলা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো, আমার অন্তরকে সমস্ত পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করো, যেমন তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করো এবং আমার ও আমার পাপগুলোর মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও, তুমি যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছো পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা থেকে, বার্ধক্য থেকে, গুনাহের প্রতি প্রলুব্ধকারী বস্তু থেকে এবং ঋণভার থেকে”। [৩১৭০]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->দু’আ সমূহ বাব->নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দু’আ হাঃ-৩৫৪৭

আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে বরফ, শিশির ও ঠান্ডা পানি দ্বারা শীতল করে দাও। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে গুনাহ হতে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপে তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করেছ”। সহীহঃ মুসলিম (২/৭৩)।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->বরফ দ্বারা উযূ করা হাঃ-৬০

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আরম্ভ করার পর অল্পক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক; তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী নীরবতার সময় আপনি কি পড়েন? তিনি বলেনঃ আমি তখন পড়ি : “হে আল্লাহ! পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে আপনি যেমন দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন তেমনি আমার ও আমার অপরাধসমূহের মধ্যে দূরত্ব করে দিন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ থেকে আমাকে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ্ থেকে আমাকে ধৌত করে দিন বরফ, পানি এবং শিলাবৃষ্টির পানি দ্বারা।”


সুনান নাসাঈ অঃ->পানির বর্ণনা বাব->বরফ ও বৃষ্টির পানি দ্বারা উযূ করা হাঃ-৩৩৩

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ (আরবি) “হে আল্লাহ্‌! আমার পাপসমূহ বরফ ও মেঘের পানি দ্বারা ধৌত কর আর আমার অন্তঃকরনকে গুনাহ থেকে পরিষ্কার কর, যেমন তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করে থাক।”


সুনান নাসাঈ অঃ->গোসল ও তায়াম্মুম বাব->বরফ এবং মেঘের পানিতে গোসল করা হাঃ-৪০২

মাজযাআ ইব্‌ন যাহির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবূ আওফা (রাঃ) -কে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি দু‘আ করতেন নিম্নরূপঃ (আরবি) “হে আল্লাহ্‌! আমাকে পাপ এবং ভুল-ত্রুটি হতে পবিত্র করুন, হে আল্লাহ্‌! আমাকে তা থেকে পাক-পবিত্র করূন যেরূপ সাদা বস্ত্র ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ্‌! আমাকে বরফ, মেঘমালার পানি এবং ঠাণ্ডা পানি দ্বারা পবিত্র করুন।”


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী দোয়া হাঃ-৮৯৫

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা-পিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক, আপনি তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যস্থলে চুপ থেকে কি বলেন? তিনি বললেন আমি বলি, অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপরাশির মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করে দাও যেমন পূর্ব পশ্চিমের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপরাশি থেকে পবিত্র করে দাও যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। হে আল্লাহ! আমাকে পানি, বরফ, শিলা বৃষ্টির সাহায্যে ধৌত কর।


সুনান নাসাঈ অঃ->আল্লাহ্‌র আশ্রয় গ্রহণ করা বাব->ঐশ্বর্যের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হাঃ-৫৪৭৭

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমি কবরের আযাব, দোযখের ফিতনা, কবরের ফিতনা, কবরের আযাব, মসীহ্‌ দাজ্জালের ফিতনা, সম্পদশালী হওয়ার ফিতনার অনিষ্টতা, অভাবগ্রস্ততার ফিতনার অনিষ্টতা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ্‌! আমার পাপসমূহ বরফ এবং শিলার পানি দ্বারা ধুয়ে দিন, আর আমার অন্তরকে পাপসমূহ হতে এমন পবিত্র করে দিন, যেমন আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পবিত্র করে দেন। হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট আলস্য, অতি বার্ধক্য, ঋণ এবং গুনাহ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।