সহিহ মুসলিম অঃ->‘কাসামাহ’ (খুনের ব্যপারে হলফ করা), ‘মুহারিবীন’ (শত্রু সৈন্য), ‘কিসাস” (খুনের বদলা) এবং ‘দিয়াত’ (খুনের শাস্তি স্বরূপ জরিমানা) বাব->হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়াএবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কিসাসের দাবি করা বৈধ, হত্যাকারী ব্যক্তির নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট ক্ষমার আবেদন করা মুস্তাহাব হাঃ-৪২৭৯

আলকামাহ্ ইবনু ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাঁর পিতা তার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বসেছিলাম। এমন সময় একটি লোক অপর এক ব্যক্তিকে চামড়ার দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে আগমন করল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি তাকে হত্যা করেছ? (তখন সে বলল, যদি সে তা স্বীকার না করতো, তবে আমি তার উপর সাক্ষী দাঁড় করাতাম।) সে তখন বলল, হ্যাঁ আমি তাকে হত্যা করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন : তুমি তাকে কিভাবে হত্যা করেছ? সে বলল, আমি এবং সে গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলাম। এমন সময় সে আমাকে গালি দিল। এতে আমর রাগ চড়ে গেল। তখন আমি কুঠার দ্বারা তার মাথায় আঘাত করলাম। এভাবে আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তোমার কি এমন কোন সম্পদ আছে যদ্দ্বারা ‘দিয়্যাত’ (রক্তপণ) পরিশোধ করবে? তখন সে বলল, আমার কাছে একটি কম্বল ও কুঠার ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেনঃ তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা কি তোমার নিকট থেকে এগুলো কিনে নিয়ে তোমাকে মুক্ত করিয়ে নেবে? সে বলল, আমার সম্প্রদায়ের কাছে আমার এতখানি মর্যাদা নেই। অতএব তিনি তার বন্ধনের দড়ি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেনঃ তুমি তোমার সাথীকে আটকে রাখ। সে তখন তাকে নিয়ে চলে গেল। যখন সে পিছনের দিকে যাচ্ছিল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি সে তাকে হত্যা করে-তবে সেও তার সমকক্ষ হয়ে গেল। এ কথা শুনে সে ফিরে এলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি শুনলাম, আপনি বলছেন : ‘যদি সে তাকে হত্যা করে তবে সে তার সমান হয়ে যাবে।’ আমি তো তাকে আপনার নির্দেশেই ধরে এনেছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি এ চাওনা যে, সে তোমার এবং তোমার ভাইয়ের পাপের বোঝা গ্রহণ করুক। তখন সে বলল, তাই কি হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন সে বলল, যদি তাই হয়, (তবে ভাল)। এ বলে সে তার বন্ধনের দড়ি নিক্ষেপ করল এবং তাকে মুক্ত করে দিল। (ই.ফা. ৪২৪০, ই.সে. ৪২৪০)