‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, হে আয়িশা! এই যে জিব্রীল (‘আঃ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, তাঁর প্রতি সালাম, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আপনি এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না। এর দ্বারা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বুঝিয়েছেন।
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! ইনি জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। তখন আমিও বললামঃ ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর উদ্দেশ্যে বললেনঃ আমরা যা দেখছি না, তা আপনি দেখছেন। ইউনুস ও নু’মান যুহরী সূত্রে বলেন, এবং ‘বারাকাতুহু’ –ও বলেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭০২)
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ জিবরীল (‘আঃ) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তখন তিনি বললেনঃ ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭০৬)
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হে ‘আয়িশাহ্! এই যে জিব্রীল ‘(আঃ) তোমাকে সালাম বলছেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, ওয়া ‘আলাইহিস্ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ্- তাঁর উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহ্মাত বর্ষিত হোক। তারপর ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তিনি তো এমন কিছু লক্ষ্য করেন যা আমি দেখতে পাই না। (ই.ফা. ৬০৮৪, ই.সে. ৬১২৩)
উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি’ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি ‘আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যুবায়র ও মিকদাদ (রাঃ)-কে (বিশেষ কাজে) প্রেরণ করে বললেনঃতোমরা দ্রুত ‘আওযায়ে খাখ’ (মাদীনার সন্নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম) যাও। সেখানে উষ্ট্রারোহিণী এক নারী রয়েছে তার কাছে একটি গোপনীয় পত্র রয়েছে। তোমরা তার নিকট হতে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহিত হয়ে ছুটে চললাম। সেখানে আমরা জনৈক নারীকে দেখতে পেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্র বের করে দাও। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তোমাকে পত্র বের করতেই হবে, আর না হলে গায়ের বস্ত্র খুলতে বাধ্য হব। তারপর সে তার চুলের বেণীর মাঝখান থেকে পত্র বের করে দিল। তখন আমরা তা নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। পত্র খুলে দেখা গেল যে, তা হাতিব ইবনু আবূ বালতা (রাঃ)-এর পক্ষ হতে মাক্কার কতিপয় মুশরিকের প্রতি লিখিত একটি চিঠি ছিল। তিনি এ চিঠিতে রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতক গুরুত্বপূর্ণ কাজের লুকানো তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃহে হাতিব! তুমি এমন কাজ কেন করলে? সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে অনুগ্রহ করে দ্রুত রায় ঘোষণা করবেন না। আমি এমন একজন লোক, কুরায়শদের সঙ্গে যার সম্পর্ক রয়েছে (কিন্তু আমি তাদের বংশের কেউ নেই)। সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি তাদের মিত্র ছিলেন, কিন্তু তাদের (বংশোদ্ভূত) গোত্রভুক্ত ছিলেন না। আর আপনার মুহাজির সহাবীদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন সেখানে আছে, যাদের মাধ্যমে তাঁদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। তাই আমি স্থির করলাম যে, কুরায়শদের সাথে যখন আমা্র কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই তখন এমন কোন কাজ করি যার দ্বারা আমার পরিবার-পরিজন মুক্তি পেতে পারে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির হয়ে গেছি অথবা মুরতাদ হয়েছি দ্বীন থেকে। আর আমি ইসলাম কবূলের পরে কুফ্রের প্রতি আসক্ত হইনি। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃসে সত্যই বলেছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান কেটে দিব। তখন তিনি বললেন, সে তো বদর যুদ্ধে শারীক হয়েছিল এবং তুমি কি জান না যে, আল্লাহ বদরী সহাবীদের সম্পর্কে অধিক অবহিত আছেন। তিনি বলেছেন: “তোমরা যা খুশী করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।” এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- “হে মু’মিনগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না”- (সুরাহ্ আল মুমতাহিনাহ্ ৬০: ১)। আবূ বকর ও যুহায়র বর্ণিত হাদীসে আয়াতের বর্ণনা নেই। আর ইসহাক্ তাঁর বর্ণনায় আয়াতটিকে সুফ্ইয়ানের তিলাওয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ৬১৭৬, ই.সে. ৬২২০)
আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাঃ) তার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেন: জিবরাঈল (আ) তোমাকে সালাম জানিয়েছে। আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ “ওয়া ‘আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ” (অর্থ: তার উপরেও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক!)।
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ জিবরীল ('আঃ) তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি বললাম, তার উপরও শান্তি ও আল্লাহ তা'আলার রহমাত বর্ষিত হোক । সহীহঃ ২৬৯৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।