কা’ব ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি তাওবা হিসেবে আমার যাবতীয় মাল আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের উদ্দেশে সদকা করে মুক্ত হতে চাই। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দাও, তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, ‘তাহলে আমি আমার খায়বারের অংশটি নিজের জন্য রেখে দিলাম।’
কা’ব ইবনু মালিক(রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তাওবাহ কবুল হওয়ায় আমি আমার সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য দান করে দিবো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে দেয়াই তোমার জন্য উত্তম হবে। কা’ব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম , খায়বারে প্রাপ্ত আমার অংশ নিজের জন্য রেখে দিলাম। সহীহ : নাসায়ী (৩৮২৩ )।
কা'ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যতগুলো যুদ্ধ করেছেন, একমাত্র বদরের যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধেই আমি অনুপস্থিত ছিলাম না। এভাবে তাবূকের যুদ্ধ সমুপস্থিত হয়। যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কোনরূপ ভর্ৎসনা করেননি। কারণ তিনি বের হয়েছিলেন কাফিলা অবরোধের উদ্দেশ্যেই। ওদিকে কুরাইশরাও তাদের কাফিলার সাহায্যার্থে বের হয়েছিল। প্রতিশ্রুত স্থান ব্যতীত উভয় পক্ষ পরস্পর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়, যেমন আল্লাহ তা'আল বলেছেন। আমার জীবনের শপথ! মানুষদের দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উপস্থিতির সর্বোৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বদরই কিন্তু আমি 'আক্বাবার রাতে আমার বাই'আতের উপর মর্যাদা দিয়ে তাতে (বদরে) অংশগ্রহণ করাকে পছন্দ করিনি। কারণ সেই লাইলাতুল 'আক্বাবাতেই আমি বাই'আত করেছি এবং আমরা এখানেই ইসলামের উপর সুদৃঢ হয়ে গিয়েছি। অতঃপর আমি কখনো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে কোন অভিযান হতে পেছনে ছিলাম না। এভাবে তাবূকের যুদ্ধের পালা আসে। আর তাবূক যুদ্ধই ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ। যোদ্ধাদের যাত্রা শুরুর জন্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন। তারপর বর্ণনাকারী দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট গেলাম। তিনি তখন মাসজিদে বসা ছিলেন। তাঁর আশেপাশে মুসলিমগণ সমবেত ছিল। তাঁর মুখমণ্ডল চাঁদের ন্যায় চমকাচ্ছিল। তিনি কোন বিষয়ে আনন্দিত হলে তাঁর চেহারা মুবারাক দীপ্তিমান হয়ে উঠত। আমি উপস্থিত হয়ে তাঁর সামনে বসে পড়লাম। তিনি বললেনঃ "হে কা'ব ইবনু মালিক! তোমার মা তোমাকে প্রসব করার পর হতে যতগুলো দিন তোমার কাছে এসেছে তার মধ্যে একটি সর্বোৎকৃষ্ট দিনের সুসংবাদ তোমার জন্য। আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে না আপনার পক্ষ হতে? তিনি বললেনঃ বরং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে। তারপর তিনি এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন (অনুবাদ) : "আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নাবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা বড় দুঃসময়ে তার অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের মধ্যকার একদলের হৃদয় বক্র হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাদের মাফ করলেন। তিনি তো তাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পিছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠল, তারা বুঝতে পারলো যে আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই, অতঃপর তিনি তাদের প্রতি সদয় হলেন যাতে তারা ফিরে আসে। অবশ্যই আল্লাহ তাওবাহ্ ক্ববুলকারী দয়াময়। (সূরা আত্-তাওবাহ্ ১১৭-১১৮)। বর্ণাকারী বলেন, এ আয়াতগুলোও আমাদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) : "হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও’-(সূরা আত্-তাওবাহ্ ১১৯)। কা’ব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র নাবী! আমার তাওবার মধ্যে এও অন্তর্ভুক্ত যে, আমি সর্বদা সত্য কথাই বলব এবং আমি আমার সমস্ত মাল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশে দান করে দিব। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কিছু মাল তোমার নিজের জন্য রাখ। এটাই তোমার জন্য ভালো। আমি বললাম, আমি আমার নিজের জন্য খাইবারের অংশটুকু রেখে দিচ্ছি। কা'ব (রাঃ) বলেন, ইসলাম ক্ববুল করার পর হতে আল্লাহ তা'আলা আমাকে যত নি'আমাতে ধন্য করেছেন আমার মতে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নি'আমাত হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট আমার ও আমার সঙ্গীদ্বয়ের সত্য কথা বলা এবং আমাদের মিথ্যাবাদী না হওয়া। অন্যথায় তারা যেভাবে ধ্বংস হয়েছে আমরাও তদ্রুপ ধ্বংস হতাম। আমি আশা করি সত্য বলার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা যেন আমার ন্যায় এতো বড় পরীক্ষায় আর কাউকে না ফেলেন। আমি আর কখনো মিথ্যা বলিনি। আমি আরো আশা করি অবশিষ্ট দিনগুলোও যেন আল্লাহ তা'আলা আমাকে হিফাযাত করেন। সহীহ : সহীহ আবূ দাঊদ (১৯১২), বুখারী (৪৬৭৬), মুসলিম।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন কা’ব ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তাঁর পিতার তওবা কবূল হলে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমি আমার সমস্ত মাল থেকে মুক্ত হতে চাই যা আল্লাহ্ এবং আল্লাহ্র রাসূলের পথে সাদকা হবে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ তুমি তোমার কিছু মাল রেখে দাও, এটা তোমার জন্য উত্তম।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি কা’ব ইব্ন মালিক (রাঃ)- কে তিনি যে তাবুক যুদ্ধে (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে না গিয়ে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেনঃ আমি যখন তাঁর সামনে বসে বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আমার তওবার মধ্যে এটাও যে, আমি আমার মাল হতে পৃথক হয়ে যাব এবং যা আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রাসূলের পথে সাদকা হয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মালের কিছু অংশ রেখে দাও; তা তোমার জন্য উত্তম হবে। তিনি বললেনঃ আমি বললামঃ তা হলে আমার খায়বরের সম্পত্তি রেখে দিচ্ছি।
আবদুল্লাহ ইব্ন কা’ব ইব্ন মালিক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি কা’ব ইব্ন মালিক (রাঃ)- কে তিনি যে তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে না গিয়ে পেছনে থেকে গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূল্লালাহ্ ! আমরা তাওবার একটা অংশ এই যে, আমি আমার অর্থ-সম্পদ হতে মুক্ত হয়ে যাব, যা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পথে সাদকা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কিছু সম্পদ রেখে দাও, সেটা তোমার পক্ষে শ্রেয়। আমি বললামঃ তা হলে আমি আমার খয়বরের অংশ রেখে দিচ্ছি।