সহিহ বুখারী অঃ->তায়াম্মুম বাব->তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে হাত মারার পর উভয় হাতে ফুঁ দেয়া। হাঃ-৩৩৮

বর্ণনাকারী থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি ‘উমর ইব্‌নুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইল : একবার আমার গোসলের দরকার হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন ‘আম্মার ইব্‌নু ইয়াসার (রাঃ) ‘উমর ইব্‌নুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা মনে আছে যে, একদা আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজন দেখা দিল। আপনি তো সালাত আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল- এ বলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাস্‌হ করলেন। (৩৩৯, ৩৪০, ৩৪১, ৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৫, ৩৪৬, ৩৪৭; মুসলিম ৩/২৮, হাঃ ৩৬৮, আহমাদ ১৮৩৫৬) (আ.প্র. ৩২৬, ই.ফা. ৩৩১)


সহিহ মুসলিম অঃ->হায়িয (ঋতুস্রাব) বাব->তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০] হাঃ-৭০৫

শাকীক (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ মূসা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বললেন, এরপর আবূ মু’আবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার জন্যে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-এ বলে তিনি তাঁর উভয় হাত মাটিতে মারলেন। অতঃপর ঝেড়ে মুখমন্ডল এবং উভয় কব্জি মাসাহ করলেন। (ই.ফা. ৭০৪, ই.সে. ৭১৯)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->তায়াম্মুমের বর্ণনা হাঃ-৩২২

আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ) -এর নিকট ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, আমরা কোন (পানিবিহীন) জায়গায় এক-দু’ মাস অবস্থান করে থাকি (সেখানে অপবিত্র হলে করণীয় কী?)। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি তো পানি না পাওয়া পর্যন্ত সলাত আদায় করব না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ‘আম্মার (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কি ঐ ঘটনার কথা মনে নেই, যখন আমি ও আপনি উটের পালে ছিলাম। আমরা অপবিত্র হয়ে গেলাম এবং আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বিষয়টি জানালে তিনি বলেলেনঃ তোমাদের জন্য শুধু এতটুকুই যথেষ্ট ছিল- এই বলে তিনি মাটিতে উভয় হাত মেরে হাতে ফুঁ দিলেন। তারপর হাত দিয়ে মুখমণ্ডল এবং উভয় হাতের অর্ধেক পর্যন্ত মুছলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ‘আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর। তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহর শপথ! আপনি চাইলে আমি আর কখনো তা বর্ণনা করব না। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার উদ্দেশ্য এরূপ নয়, বরং তুমি চাইলে অবশ্যই তোমার বক্তব্যের স্বাধীনতা তোমাকে দিব। সহীহঃ তবে তার ‘উভয় হাতের অর্ধেক পর্যন্ত’- কথাটি বাদে। কেননা তা শায।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->তায়াম্মুমের বর্ণনা হাঃ-৩২৩

‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু আবযা (রহঃ) ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে ‘আম্মার! তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট- এই বলে তিনি তাঁর উভয় হাত মাটিতে মারলেন, তারপর এক হাত অপর হাতের উপর মারলেন। তারপর নিজের চেহারা এবং হাতের অর্ধেক পর্যন্ত মাসাহ্ করলেন। তবে মাটিতে একবার হাত মারায় হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করা যায়নি। সহীহঃ উভয় হাত ও কনুইদ্বয় উল্লেখ বাদে।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->তায়াম্মুমের বর্ণনা হাঃ-৩২৪

আম্মার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছেঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট- এই বলে তিনি জমিনে হাত মেরে ফুঁ দিলেন। এরপর মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত মাসাহ্ করলেন। সালামাহ এতে সন্দেহ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কনুই পর্যন্ত হাত মাসাহ্ করেছেন নাকি কব্জি পর্যন্ত তা আমার জানা নেই। সহীহঃ সন্দেহ করার কথাটি বাদে। মাহফূয হচ্ছে (…..) শব্দে। যেমন সামনে আসছে।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ বাব->তায়াম্মুম করার জন্য মাটিতে একবার হাত মারবে হাঃ-৫৬৯

আবদুর রহমান বিন আবযা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যাক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে বললো, আমি অপবিত্র হয়েছি, কিন্তু পানি পাচ্ছি না (এখন কি করি)? উমার (রাঃ) বলেন, তুমি সলাত আদায় কর না। আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কি স্মরণ আছে, আমি ও আপনি যখন এক যুদ্ধাভিযানে যোগদান করেছিলাম, আমরা অপবিত্র হয়ে পড়লাম, কিন্তু পানি পাইনি? তখন আপনি সলাত আদায় করেননি, কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি করি, অতঃপর সলাত আদায় করি। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট ঐ ঘটনা বর্ণনা করি। তিনি বলেন, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দু’ হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করার পর তাতে ফুঁ দেন, তারপর দু’ হাত দিয়ে তাঁর মুখমন্ডল ও উভয় হাত মাসহ করেন। [৫৬৬]


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->মুকীমের তায়াম্মুম হাঃ-৩১২

আবদুর রহমান ইব্‌ন আবযা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যক্তি উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাত অবস্থায় আছি কিন্তু পানি পাইনি। উমর (রাঃ)বললেনঃ তুমি সালাত আদায় করো না। এ কথা শুনে আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নাই যে, এক সময় আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম, আমরা উভয়ে জুনুবী হয়ে পড়লাম, আর আমরা পানি পেলাম না। এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম, তারপর সালাত আদায় করলাম। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল। এ বলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হস্তদ্বয় মাটিতে মারলেন এরপর তাতে ফুঁ দিলেন এবং তা দ্বারা তাঁর চেহারা এবং উভয় হাত মসেহ করলেন। বর্ণনাকারী সালামা সন্দেহ করলেন, এ ব্যাপারে তাঁর মনে নেই কনুই পর্যন্ত বলেছেন, না কব্জি পর্যন্ত। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে তার দায়-দায়িত্ব তোমার উপরই অর্পণ করলাম।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->আরেক প্রকারের তায়াম্মুম হাঃ-৩১৮

ইব্‌ন আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যক্তি জানাবাতগ্রস্ত হলে উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাত অবস্থায় উপনীত হয়েছি কিন্তু পানি পাই না। তিনি বললেন, তুমি সালাত আদায় করবে না। তখন আম্মার বললেন, আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা জানাবাত অবস্থায় পতিত হলাম, তখন আমরা পানি পাইনি, এতে আপনি সালাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল, এ বলে শু‘বা (রহঃ) একবার মাটিতে হাত মারলেন আর তাতে ফুঁ দিলেন আর তা দিয়ে এক হাত অন্য হাতের সাথে ঘষলেন এবং উভয় হাত দ্বারা তার মুখমণ্ডল মসেহ করলেন। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আমি জানি না এটা কী? আম্মার বললেন, যদি আপনি চান তাহলে আমি এটা বর্ণনা করব না। সালামার বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, উমর (রাঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে, তার দায়দায়িত্ব তোমার।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->তায়াম্মুম-এর অন্য প্রকার হাঃ-৩১৯

আবদুর রহমান ইব্‌ন আবযা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক ব্যক্তি উমর(রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি জানাবাতগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু পানি পেলাম না। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি সালাত আদায় করো না। তখন আম্মার (রাঃ)বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার স্মরণ আছে কি? একবার আমি এবং আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম আর আমরা জানাবাতগ্রস্ত হলাম কিন্তু পানি পাচ্ছিলাম না। তখন আপনি সালাত আদায় করলেন না। কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সালাত আদায় করলাম। পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তা ব্যক্ত করলাম, তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল এ বলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটিতে হাত রাখলেন এবং উভয় হাতে ফুঁ দিলেন তারপর উভয় হাত দ্বারা আপন মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জি মসেহ করলেন। সালামা সন্দেহ করে বলেন, আমার জানা নেই(তিনি এতে উভয় কনুই বলেছেন না উভয় কব্জি)। উমর(রাঃ)বললেন, তুমি যা করলে তার দায়িত্ব তোমার উপরই অর্পণ করলাম। শু‘বা (রহঃ) বলেন, তিনি উভয় হাত, মুখমণ্ডল এবং বাহুদ্বয়ের কথা বলতেন। এজন্য মানসূর তাঁকে বললেন, আপনি কি বলছেন? আপনি ব্যতীত কেউই বাহুর কথা উল্লেখ করেন নি। এজন্য সালামার সন্দেহ হল। তিনি বললেনঃ আমার স্মরণ নেই তিনি বাহুর কথা উল্লেখ করেছেন কিনা।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->জুনুব ব্যক্তির তায়াম্মুম হাঃ-৩২০

শাকীক(রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ এবং আবূ মূসা (রাঃ)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম, তখন আবূ মূসা বললেন, আপনি কি আম্মারের কথা শোনেন নি যে, তিনি উমর (রাঃ)-কে বলেছিলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কাজে পাঠালেন, আমি জানাবাতগ্রস্ত হলে পানি পেলাম না। অতএব আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ-ই যথেষ্ট ছিল। এই বলে তাঁর হস্তদ্বয় একবার মাটিতে মারলেন। তারপর উভয় হাতের তালু মুছলেন ও ঝাড়লেন, তারপর তাঁর বাম হাত ডান হাতের উপর মারলেন আর ডান হাত বাম হাতের উপর এবং উভয় কব্জি ও মুখমণ্ডল মসেহ করলেন। আবদুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখছ না যে, উমর (রাঃ) আম্মারের কথায় তৃপ্ত হননি।