সহিহ বুখারী অঃ->ওজু বাব->পেশাব ধোয়া সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। হাঃ-২১৮

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেনঃ এদের ‘আযাব দেয়া হচ্ছে, কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের উপর একখানি গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কেন এমন করলেন? তিনি বললেনঃ আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে। ইব্‌নুল মুসান্না (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) বলেনঃ আমি মুজাহিদ (রহঃ) হতে অনুরূপ শুনেছি। সে তার পেশাব হতে সতর্ক থাকত। (২১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৮)


সহিহ বুখারী অঃ->জানাযা বাব->কবরের উপর খেজুরের ডাল গেড়ে দেয়া। হাঃ-১৩৬১

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দু’টির বাসিন্দাদের উপর আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এদের দুজনকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ তাদের এমন গুনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না (যা হতে বিরত থাকা) দুরূহ ছিল। তাদের একজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না, আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’ভাগে বিভক্ত করলেন, অতঃপর প্রতিটি কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবীগন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বললেনঃ ডাল দুটি না শুকানো পর্যন্ত আশা করি তাদের আযাব হালকা করা হবে।


সহিহ বুখারী অঃ->আচার-ব্যবহার বাব->গীবত করা। হাঃ-৬০৫২

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি কবরের পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চ্য়ই এ দু‘জন কবরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তবে বড় কোন গুনাহের কারণে কবরে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। এই কবরবাসী প্রস্রাব করার সময় সতর্ক থাকত না। আর ঐ কবরবাসী গীবত ক‘রে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে সেটি দু‘টুকরো করে এক টুকরো এক কবরের উপর এবং এক টুকরো অন্য কবরের উপর গেড়ে দিলেন। তারপর বললেনঃ এ ডালের টুকরো দু‘টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাদের শাস্তি কমিয়ে দিবেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৩)


সহিহ বুখারী অঃ->আচার-ব্যবহার বাব->চোগলখোরী কবীরা গুনাহ। হাঃ-৬০৫৫

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার কোন বাগানের বাইরে গেলেন। তখন তিনি এমন দু‘জন লোকের শব্দ শুনলেন, যাদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তাদের দু‘জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে বড় গুনাহের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। আর তাহলো কবীরা গুনাহ। এদের একজন প্রস্রাবের সময় সতর্ক থাকত না। আর অন্য ব্যক্তি চোগলখোলী করে বেড়াতো। তারপর তিনি একটা কাঁচা ডাল আনিয়ে তা ভেঙ্গে দু’ টুকরো করে, এক কবরে এক টুক্রো আর অন্য কবরে এক টুক্রো গেড়ে দিলেন এবং বললেনঃ দু‘টি যতক্ষন পর্যন্ত না শুকাবে ততক্ষন পর্যন্ত তাদের আযাব হালকা করে দেয়া হবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫১৬)


সহিহ মুসলিম অঃ->তাহারাত (পবিত্রতা) বাব->প্রস্রাব অপবিত্র হওয়ার দলীল এবং তা থেকে বেঁচে থাকা অবশ্য জরুরী হাঃ-৫৬৪

ইবনু ‘আব্বাস (রা.) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি বললেন, (জেনে রাখ) এ দু‘ কবরবাসীকে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে কোন কঠিন (কাজের) দরুন তাদেরকে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখোরী করত। আর অপরজন তার প্রস্রাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। তিনি (ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: অতঃপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে দু‘টুকরো করলেন। তারপর প্রত্যেক কবরের ওপর একটি করে গেড়ে দিলেন। আর বললেনঃসম্ভাবনা আছে, ‘আযাব কিছুটা হালকা করা হবে যতদিন পর্যন্ত এ দু‘টি না শুকিয়ে যাবে। (ই.ফা. ৫৬৮, ই.সে. ৫৮৪)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->পেশাব থেকে সতর্ক থাকা হাঃ-২০

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি ক্ববরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, এ দুজনকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্ত কোন বড় গুনাহের কারণে শাস্তি দেয়া হচেছ না। তিনি (একটি ক্ববরের দিকে ইশারা করে) বললেন, এ ব্যক্তি পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। আর (অপর ক্ববরের দিকে ইশারা) করে বললেন, এ ব্যক্তি চোগলখোরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল আনিয়ে সেটি দু’ টুকরা করে একটি এ ক্ববরে এবং অপরটি ঐ ক্ববরে গাড়লেন এবং বললেনঃ আশা করা যায়, ডাল দুটি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাদের শাস্তি কিছুটা হাল্কা করা হবে। হান্নাদ “ইয়াস্‌তান্‌যিহু” শব্দের স্থলে “ইয়াস্‌তাতিরু” শব্দ উল্লেখ করেছেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->জানাযা পর্ব বাব->কবরের উপর খেজুরের ডাল রাখা হাঃ-২০৬৮

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা অথবা মদিনার বাগান সমূহের কোনও এক বাগানে গেলে দুই ব্যক্তির শব্দ শুনতে পেলেন, যারা নিজ নিজ কবরে আযাবের সম্মুখীন হচ্ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে। আর তারা কোন বড় অপরাধে শাস্তি পাচ্ছে না। তারপর তিনি বললেন, তবে তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি খেজুরের ডাল চাইলেন এবং তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে তার একটা খণ্ড গেড়ে দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি এরূপ কেন করলেন? তিনি বললেন, হয়ত এগুলো না শুকানো পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব লাঘব করা হতে পারে।


সুনান নাসাঈ অঃ->জানাযা পর্ব বাব->কবরের উপর খেজুরের ডাল রাখা হাঃ-২০৬৯

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুইটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন যে, এই দুইজন ব্যক্তিকে আযাব দেওয়া হচ্ছে কোন বড় অপরাধের জন্য নয় বরং তাদের একজন নিজ পেশাব থেকে পবিত্র থাকত না আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল নিয়ে তা দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেক কবরে একটি করে গেড়ে দিলেন। সাহাবীগন জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি এরূপ কেন করলেন? তখন তিনি বললেন, হয়ত এগুলো শুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত এদের আযাব লাঘব করা হবে।