সহিহ বুখারী অঃ->যাকাত বাব->যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে। হাঃ-১৩৯৯

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় আরবের কিছু লোক মুরতাদ হয়ে যায়। তখন ‘উমর (রাঃ) [আবূ বকর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে] বললেন, আপনি (সে সব) লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন (যারা সম্পূর্ণ ধর্ম পরিত্যাগ করেনি, বরং যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে মাত্র)? অথচ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলার পূর্ব পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ আমাকে দেয়া হয়েছে, যে কেউ তা বললো, সে তার সম্পদ ও জীবন আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ করে নিলো। তবে ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করলে (শাস্তি দেয়া যাবে), আর তার অন্তরের গভীর (হৃদয়াভ্যন্তরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে এর) হিসাব-নিকাশ আল্লাহর যিম্মায়।


সহিহ বুখারী অঃ->যাকাত বাব->যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে। হাঃ-১৪০০

আবূ বক্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহর শপথ! তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আমি যুদ্ধ করবো যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হক্ব। আল্লাহর কসম। যদি তারা একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তারা দিত, তাহলে যাকাত না দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করবো। ‘উমর (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, আল্লাহ আবূ বকর (রাঃ)-এর হৃদয় বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করেছেন বিধায় তাঁর এ দৃঢ়তা, এতে আমি বুঝতে পারলাম তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।


সহিহ বুখারী অঃ->জিহাদ বাব->ইসলাম ও নবুওয়াতের দিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহ্বান আর মানুষ যেন আল্লাহ্‌ ব্যতীত তাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে। হাঃ-২৯৪৬

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাকে ততক্ষন পর্যন্ত লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে আর যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলবে সে তার জান ও মাল আমার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিল। অবশ্য ইসলামের কর্তব্যাদি আলাদা, আর তাঁর হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।


সহিহ বুখারী অঃ->আল্লাহ্‌দ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবার প্রতি আহ্বান ও তাদের সাথে যুদ্ধ বাব->যারা ফরযসমূহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং যাদেরকে ধর্মত্যাগের অপরাধে অপরাধী করা হয়েছে তাদেরকে হত্যা করা। হাঃ-৬৯২৪

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যু হল এবং আবূ বকর (রাঃ) খলীফা হলেন আর আরবের যারা কাফির হল, তখন ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আবূ বকর! আপনি কিভাবে লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন? অথচ নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন ইলাহ্‌ নেই) বলবে। আর যে কেউ ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্‌’ বলে, যথার্থ কারণ না থাকলে সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করে নেয়। আর তার হিসাব আল্লাহ্‌র দায়িত্বে। [১২৫](আধুনিক প্রকাশনী-৬৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৫৬)


সহিহ বুখারী অঃ->আল্লাহ্‌দ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবার প্রতি আহ্বান ও তাদের সাথে যুদ্ধ বাব->যারা ফরযসমূহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং যাদেরকে ধর্মত্যাগের অপরাধে অপরাধী করা হয়েছে তাদেরকে হত্যা করা। হাঃ-৬৯২৫

আবূ বক্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমি যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহ্‌র কসম! যদি তারা একটি বক্‌রির বাচ্চাও না দেয় যা তারা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দিত, তাহলে তা না দেয়ার কারণে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। ‘উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা আর কিছু নয় এবং আল্লাহ্‌ আবূ বকর (রাঃ)-এর বক্ষ যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। পরে আমি বুঝতে পারলাম যে, (আবূ বকর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন) এটি-ই হক।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৫৬)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা বাব->রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সুন্নাতের অনুসরণ। হাঃ-৭২৮৪

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন আর তাঁর পরে আবূ বকর (রাঃ)-কে খালীফা করা হলো এবং আরবের যারা কাফির হবার তারা কাফির হয়ে গিয়েছিল, তখন ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি কী করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত। অতএব যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলল, সে তার জান ও মালকে আমার থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়লে আলাদা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ বকরের সিনা খুলে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্ত সঠিক। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইবনু বুকায়র ও ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়স-এর সূত্রে উকায়ল থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে। لو منعونى كذا (যদি তারা এ পরিমাণ দিতে অস্বীকার করে)-এর স্থলে لو منعونى عناقا (যদি তারা একটা ছোট উটের বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে) উল্লেখ করেছেন। আর এটিই সবচেয়ে শুদ্ধ। আর এটিকে লোকেরাعَنَاقًا বর্ণনা করেছেন। عزوجل বস্তুত এ স্থানে عقالا পড়াটা জায়েয নয়। আর عقالا শব্দটি শা‘বী-এর হাদীসে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সে রকম কুতাইবাহ (রহ.)ও عقالا বলেছেন।[১] [১৩৯৯, ১৪০০) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৭)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা বাব->রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সুন্নাতের অনুসরণ। হাঃ-৭২৮৫

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন আর তাঁর পরে আবূ বকর (রাঃ)-কে খালীফা করা হলো এবং আরবের যারা কাফির হবার তারা কাফির হয়ে গিয়েছিল, তখন ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি কী করে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষের সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত। অতএব যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলল, সে তার জান ও মালকে আমার থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামী বিধানের আওতায় পড়লে আলাদা। তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা আদায় করত, এখন তা (সেভাবে) দিতে অস্বীকার করে, তাহলেও আমি অবশ্যই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি দেখছিলাম যে, যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ বকরের সিনা খুলে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম এ সিদ্ধান্ত সঠিক। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইবনু বুকায়র ও ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়স-এর সূত্রে উকায়ল থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে। لو منعونى كذا (যদি তারা এ পরিমাণ দিতে অস্বীকার করে)-এর স্থলে لو منعونى عناقا (যদি তারা একটা ছোট উটের বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে) উল্লেখ করেছেন। আর এটিই সবচেয়ে শুদ্ধ। আর এটিকে লোকেরাعَنَاقًا বর্ণনা করেছেন। عزوجل বস্তুত এ স্থানে عقالا পড়াটা জায়েয নয়। আর عقالا শব্দটি শা‘বী-এর হাদীসে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সে রকম কুতাইবাহ (রহ.)ও عقالا বলেছেন।[১] [১৩৯৯, ১৪০০) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল এবং সলাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, নবী যে শারী‘আতের বিধান এনেছেন তার প্রতি ঈমান আনে, যে ব্যক্তি এসব করবে সে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী’আত সম্মত কারণ ব্যতীত, তার অন্তরের খবর আল্লাহর কাছে; যে ব্যক্তি যাকাত দিতে ও ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করতে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইমামের গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ হাঃ-৩২

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের পর আবূ বাক্‌র (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হন। এ সময় আরবের একদল লোক (যাকাত অস্বীকার করলে) মুরতাদ হয়ে গেল। [আবূ বাক্‌র (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প করলেন] ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনি কিরূপে লোকদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করবেন? [২৪] অথচ রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেনঃ “আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) আর যে ব্যক্তি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলল, সে তার জান-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করলো। অবশ্য আইনের দাবী আলাদা। (অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে) । তবে তার আসল বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। আবূ বাক্‌র (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি সলাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। [২৫] কেননা যাকাত হচ্ছে মালের (উপর বঞ্চিতের) অধিকার। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একখানা রশি প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা (যাকাত বাবদ) রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রদান করতো, তবে আমি এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। এবার ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, ব্যাপারটা এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, আল্লাহ তা’আলা আবূ বাক্‌রের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি স্পষ্টই উপলদ্ধি করলাম, এটাই (আবূ বাক্‌রের সিদ্ধান্তই) সঠিক এবং যথার্থ। (ই.ফা. ৩২, ই.সে ৩২)


সহিহ মুসলিম অঃ->ঈমান বাব->লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল এবং সলাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, নবী যে শারী‘আতের বিধান এনেছেন তার প্রতি ঈমান আনে, যে ব্যক্তি এসব করবে সে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী’আত সম্মত কারণ ব্যতীত, তার অন্তরের খবর আল্লাহর কাছে; যে ব্যক্তি যাকাত দিতে ও ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করতে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইমামের গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ হাঃ-৩৩

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’- এ কথার স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। সুতরাং যে কেউ ‘আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই’ স্বীকার করবে সে আমা হতে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী‘আত সম্মত কারণ ব্যতীত। আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে। (ই.ফা. ৩৩; ই.সে. ৩৩)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->যাকাত বাব->যাকাত দেয়া ওয়াজিব হাঃ-১৫৫৬

আবূ হুরাইরাহ (রা:) সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইন্তিকালের পর আবূ বকর (রাঃ) খলীফা হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন আবনের কিছু গোত্র কুফরী করলো। ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে বললেন, আপনি এ লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন? অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে, তার জান-মাল আমার থেকে নিরাপদ। তবে আইনের বিষয়টি ভিন্ন এবং তার প্রকৃত বিচার মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত।” তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ শপথ! যে ব্যক্তি সলাত ও যাকাত র মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অর্থ সম্পদের প্রদেয় অংশ হলো যাকাত। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে একটি রশি দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিতো, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ ! আমি বুঝতে পারলাম যে মহান আল্লাহ আবূ বকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য উম্মুখ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, এটাই হাক্ব ও সঠিক। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। কিন্তু তার উক্তি শায। মাহফূয হচ্ছে (আরবি)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, রাবাহ ইবনু যায়িদ মা’মার হতে, তিনি যুহরী হতে উল্লেখিত সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন উটের রশি। বর্ণনাকারী ইবনু ওয়াহাব ইউনুস সূত্রে বলেছেন, ছাগল ছানা। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শু’আইব ইবনু আবূ হামযাহ এবং মা’মার ও যুবাইদী যুহরী হতে এ হাদীস বলেছেন, ‘যদি তারা একটি বকরীর বাচ্চা দিতেও অস্বীকার করে’। আর আনবাসাহ ইউনুস হতে যুহরী সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ বকরীর বাচ্চা। সহীহঃ বুখারী,এবং তিনি বলেছেন,এটি (আরবী) এর বর্ণনার চাইতে অধিক বিশুদ্ধ।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->যাকাত আদায়ে অস্বীকৃতি প্রদানকারী হাঃ-২৪৪৩

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হয়ে গেল এবং তাঁর পরে আবু বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত হলেন আর আরবের যারা কাফির হওয়ার ছিল তারা কাফির হয়ে গেল। (একটি দল যাকাত দিতে অস্বীকার করল) তখন উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন: আপনি লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যতক্ষন পর্যন্ত লোকজন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌ ” না পড়বে ততক্ষন পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে আদিষ্ট হয়েছি। তবে যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” বলবে তার জানমাল আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে, তবে আইনগত কারণে (অপরাধের শাস্তি তাকে পেতে হবে) তার (বাস্তব) হিসাব আল্লাহ্‌র কাছে সোর্পদ। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন: আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধেও জিহাদ করব যে সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হল (শরীআত নির্ধারিত) সম্পদের ‘হক’। আল্লাহ্‌র শপথ, যদি লোকজন আমার কাছে এমন একটি রশিও প্রদান না করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রদান করত, তাহলে তা প্রদান না করার কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। উমর (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ্‌র শপথ, আমি আবু বকর (রাঃ) এর সিদ্ধান্তের সাথে এই কারণে ঐকমত্য পোষন করলাম যে, আমি দেখলাম, আল্লাহ তা‘আলা আবু বকর (রাঃ)-এর অন্তর জিহাদের জন্য উম্মুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারলাম যে, তা-ই সঠিক (সিদ্ধান্ত)।


সুনান নাসাঈ অঃ->জিহাদ বাব->জিহাদ ওয়াজিব হওয়া হাঃ-৩০৯২

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত হলো, তাঁর পর খলীফা হলেন আবু বকর (রাঃ)। আরবের কেউ কেউ কাফির হয়ে গেল। তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আবু বকর! আপনি কিরূপে এ সকল লোকের সাথে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, লোকেরা যতক্ষণ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? আর যখন তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বললো, তখন তারা আমার পক্ষ হতে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করলো। তবে ইসলামের হক ব্যতীত, আর এর মীমাংসা আল্লাহ্‌র কাছে? আবু বকর (রাঃ) বললেন: যে ব্যক্তি সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তার সাথে নিশ্চয়ই যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহ্‌র শপথ! তারা যে বকরীর বাচ্চা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় যাকাত হিসেবে আদায় করতো, যদি তা আমাকে না দেয়, তবে তা না দেওয়ার অপরাধে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! এ আর কিছু নয়, বরং আমি অনুধাবন করলাম যে, আল্লাহ্ তা‘আলা আবু বকরের অন্তর যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম, এটাই সত্য। এ বর্ণনায় শব্দ, ভাষা আহমদ (রহঃ)-এর।


সুনান নাসাঈ অঃ->হত্যা অবৈধ হওয়া বাব->মুসলিমকে হত্যা করার অবৈধতা হাঃ-৩৯৭০

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ইনতিকালের পর যখন আবূ বকর (রাঃ) খলীফা হলেন। তখন আরবের কোন কোন গোত্র কাফির হয়ে গেল। এ সময় উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) -কে বললেনঃ আপনি তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” বলে, আর যখন তারা তা বলবে, তখন তারা তাদের জানমাল আমার থেকে রক্ষা করলো, তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই ঐ সকল লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো, যারা নামায এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত মালের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি একটি রশিও দিতে অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দিত, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে এর জন্য যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! আমি দেখলাম, আল্লাহ্ তা’আলা যুদ্ধের জন্য আবূ বকর (রাঃ) -এর অন্তর খুলে দিয়েছেন এবং আমি বুঝতে পারলাম, এটাই যথার্থ।


সুনান নাসাঈ অঃ->হত্যা অবৈধ হওয়া বাব->মুসলিমকে হত্যা করার অবৈধতা হাঃ-৩৯৭২

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার আদেশ হয়েছে। যাবৎ না তারা বলে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই।” আর যে বললো আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, সে আমার থেকে তার জানমাল রক্ষা করলো। তবে ইসলামের কোন হক ব্যতীত। আর তার হিসাব তো আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে।


সুনান নাসাঈ অঃ->হত্যা অবৈধ হওয়া বাব->মুসলিমকে হত্যা করার অবৈধতা হাঃ-৩৯৭২

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার আদেশ হয়েছে। যাবৎ না তারা বলে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই।” আর যে বললো আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, সে আমার থেকে তার জানমাল রক্ষা করলো। তবে ইসলামের কোন হক ব্যতীত। আর তার হিসাব তো আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে।


সুনান নাসাঈ অঃ->হত্যা অবৈধ হওয়া বাব->মুসলিমকে হত্যা করার অবৈধতা হাঃ-৩৯৭৩

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ইনতিকালের পর যখন আবূ বকর (রাঃ) খলীফা হন এবং আরবের কিছু লোক মুরতাদ হয়ে যায়, তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি এ সকল লোকের বিরুদ্ধে কিরূপে যুদ্ধ করবেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’। আর যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বললো, সে আমার থেকে তার জানমাল রক্ষা করলো, তবে ইসলামের অন্য কোন হক ব্যতীত। আর তার হিসাব আল্লাহর যিম্মায়। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করবো। কেননা যাকাত মালের হক। আল্লাহর শপথ! যদি তারা একটি বকরির বাচ্চাও আমাকে দিতে অস্বীকার করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দিত, তা হলে আমি তাদের বিরুদ্ধে এ কারণে যুদ্ধ করবো। উমর (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি দেখলাম, আল্লাহ তা’আলা যুদ্ধের জন্য আবূ বকরের অন্তর খুলে দিয়েছেন। আর তাঁর সিদ্ধান্তই সঠিক।