সহিহ বুখারী অঃ->সালাত বাব->মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর। (সূরা আল-বাক্বারাহ ২/১২৫) হাঃ-৩৯৮

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বায় প্রবেশ করেন, তখন তার সকল দিকে দু’আ করেছেন, সালাত আদায় না করেই বেরিয়ে এসেছেন এবং বের হবার পর কা’বার সামনে দু’রাক’আত সালাত আদায় করেছেন এবং বলেছেন, এটাই ক্কিবলা। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->হাজ্জ পালনকারী ও অন্যান্যের জন্য কা’বাহ্ ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং সলাত আদায় করা, এর সকল পাশে দু’আ করা মুস্তাহাব হাঃ-৩১২৮

ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি ‘আত্বা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদেরকে কেবল ত্বওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বায়তুল্লাহ্র অভ্যন্তরে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়নি?” ‘আত্বা বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তো কা’বার অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষেধ করেননি, বরং আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল্লাহ্র অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এর সকল পাশে দু’আ করেছেন কিন্তু বের হওয়া পর্যন্ত কোন সলাত আদায় করেননি। তিনি বের হয়ে এসে বায়তুল্লাহর দিকে মুখ করে দু’রাক’আত সলাত আদায় করেছেন এবং বলেছেন, এ হ’ল ক্বিবলাহ্। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এর পার্শ্ব বলতে কী বুঝায়? তা দিয়ে কি কোণ বুঝানো হয়েছে? তিনি (‘আত্বা) আরও বললেন, এর সমস্ত পার্শ্ব ও কোণই ক্বিবলাহ্। [৩০] (ই.ফা. ৩১০৩, ই.সে. ৩১০০)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->খাদ্যদ্রব্য বাব->রসুন খাওয়া সম্পর্কে হাঃ-৩৮২৪

হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি ক্বিবলাহ্‌র দিকে থুথু ফেলে, ক্বিয়ামাতের দিন সে ঐ থুথু নিজের দু’চোখের মধ্যখানে পতিত অবস্থায় উপস্থিত হবে। যে ব্যক্তি এ খারাপ তরকারী (পিয়াজ) খাবে সে যেন আমাদের মাসজিদে না আসে। তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->সুরা আনফাল হাঃ-৩০৮১

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, (বদর যুদ্ধের দিন) মুশরিকদের উপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৃষ্টিপাত করলেন। তারা (সংখ্যায়) ছিল এক হাজার। আর তাঁর সাথীরা ছিলেন তিন শত দশজনের কিছু বেশি। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলার দিকে মুখ করে দুই হাত তুলে তাঁর প্রভুর নিকট দু’আ করতে লাগলেন : “হে আল্লাহ! তুমি আমার সাথে যে ওয়া’দাহ করেছিলে তা পূর্ণ কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তা দান কর যার ওয়া’দাহ তুমি করেছ। হে আল্লাহ! যদি কতিপয় মুসলিমের এ ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস করে দাও তাহলে যমিনে তোমার ‘ইবাদাত অনুষ্ঠিত হবে না”। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে এমনভাবে তাঁর প্রভুর নিকট ফারিয়াদ করেন, তাঁর উভয় কাঁধ হতে তাঁর চাদর গড়িয়ে পড়ে গেল। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে এসে চাদরটি উঠিয়ে তাঁর কাঁধে তুলে দিলেন এবং তাঁর পেছন দিক হতে তাঁকে চেপে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নাবী! আপনার প্রভুর সমীপে আপনার যথেষ্ট পরিমাণ ফরিয়াদ করা হয়েছে। আপনার সাথে আল্লাহ তা’আলা যে ওয়া’দাহ্‌ করেছেন তা অবশ্যই তিনি পূর্ণ করবেন। এ প্রসঙ্গে বারাকাত্ময় আল্লাহ তা’আলা নিম্মোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) : “স্মরণ কর যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন, আমি তোমাদেরকে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব” (সূরা আল-আনফাল ৯)। অতএব আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতাদের পাঠিয়ে তাদেরকে সাহায্য করেন। হাসান : মুসলিম (৫/১৫৬)।


সুনান নাসাঈ অঃ->হজ্জের বিধি-বিধানসমূহ বাব->কা’বার ভিতর সালাতের স্থান হাঃ-২৯০৯

উসামা ইবন জায়িদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বায় প্রবেশ করেছেন এবং এর চারপাশে তাসবীহ পাঠ করেছেন এবং তাকবীর বলেছেন, তিনি সালাত আদায় করেননি।১ তারপর বের হয়ে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাক’আত সালাত আদায় করেছেন। এরপর বলেছেনঃ এ-ই কিবলা।


সুনান নাসাঈ অঃ->হজ্জের বিধি-বিধানসমূহ বাব->কা’বা শরীফের ভিতর জিকির এবং দু’আ করা হাঃ-২৯১৪

উসামা ইবন জায়িদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বা গৃহে প্রবেশ করলেন। বিলাল (রাঃ) -কে আদেশ করলে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলেন। সে সময় কা’বা ঘর ছয়টি স্তম্ভের উপর ছিল। তিনি যেতে যেতে যখন কা’বা ঘরের দরজা সংলগ্ন দুই স্তম্ভের মধ্যে পোঁছালেন, তখন বসে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। তাঁর নিকট প্রার্থনা করলেন এবং ক্ষমা চাইলেন। এরপর কা’বার পিছনের দিকে এসে সামনে মুখ করে দাঁড়ালেন, সেখানে ললাট ও গাল রাখলেন এবং আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন এবং মুনাজাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। তারপর কা’বার কোণসমূহের প্রতি কোণের কাছে গেলেন এবং সে সবের সামনে তাকবীর, তাহলীল, তাসবিহ এবং সানা পাঠ করলেন। এরপর তিনি বের হয়ে কাবার দিকে মুখ করে দুই রাক’আত সালাত আদায় করলেন। এরপর মুখ ঘুরিয়ে বললেনঃ এ-ই কিবলা, এ-ই কিবলা।


সুনান নাসাঈ অঃ->হজ্জের বিধি-বিধানসমূহ বাব->কা’বায় সালাতের স্থান হাঃ-২৯১৬

উসামা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বা হতে বের হলেন এবং কা’বার সামনে দুই রাক’আত সালাত আদায় করলেন। এরপর বললেনঃ এ-ই কিবলা।