সহিহ বুখারী অঃ->ইহ্‌রাম অবস্থায় শিকার ও অনুরূপ কিছুর বদলা বাব->হারামের (অভ্যন্তরে) কোন শিকার্য জন্তুকে তাড়ানো যাবে না। হাঃ-১৮৩৩

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা মক্কাকে হারম (সম্মানিত) করেছেন। সুতরাং তা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল হবে না। তবে আমার জন্য কেবল দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছিল। তাই এখানকার ঘাস, লতাপাতা কাটা যাবে না ও গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকার্য জন্তুকে তাড়ানো যাবে না এবং কোন হারানো বস্তুকেও হস্তগত করা যাবে না। অবশ্য ঘোষণাকারী ব্যক্তি এ নিয়মের ব্যতিক্রম। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! স্বর্ণকার এবং আমাদের কবরে ব্যবহারের জন্য ইযখির ঘাসগুলোকে বাদ রাখুন। তিনি বললেনঃ হাঁ ইযখিরকে বাদ দিয়েই। খালিদ (রহঃ) ‘ইকরিমা (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, হারমের শিকার্য জানোয়ারকে তাড়ান যাবে না, এর অর্থ তুমি কি জান? এর অর্থ হল ছায়া হতে তাকে তাড়িয়ে তার স্থানে নামিয়ে দেয়া।


সহিহ বুখারী অঃ->ক্রয়-বিক্রয় বাব->স্বর্ণকারদের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে। হাঃ-২০৯০

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মক্কা বিজয়ের দিন) বলেন, আল্লাহ্‌ তা’আলা মক্কায় (রক্তপাত) হারাম করে দিয়েছেন। আমার আগেও কারো জন্য মক্কা হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও কারো জন্য হালাল করা হবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু অংশে মক্কায় (রক্তপাত) হালাল হয়েছিল [৫]। মক্কার কোন ঘাস কাটা যাবে না, কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন শিকারকে তাড়ানো যাবে না। ঘোষণাকারী ব্যতিত কেউ মক্কার জমিনে পড়ে থাকা মাল উঠাতে পারবে না। ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস, যা আমাদের স্বর্ণকারদের ও আমাদের ঘরের ছাদের জন্য ব্যবহৃত তা ব্যতীত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতিত। রাবী ইকরাম (রহঃ) বলেন, তুমি জানো শিকার তাড়ানোর অর্থ কী? তা হল, ছায়ায় অবস্থিত শিকারকে তাড়িয়ে তার স্থানে নিজে বসা। ‘আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) সূত্রে বলেছেন, আমাদের স্বর্ণকারদের জন্য ও আমাদের কবরের জন্য।


সহিহ বুখারী অঃ->জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন বাব->নেক বা পাপিষ্ঠ লোকের সঙ্গে কৃত ওয়াদা ভঙ্গে পাপ। হাঃ-৩১৮৯

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ বিজয়ের দিন বললেন, হিজরাত নেই কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত রয়েছে আর যখন তোমাদের জিহাদে যাবার জন্য আহ্বান করা হবে তখন তোমরা বেড়িয়ে পড়বে। আর তিনি মাক্কাহ বিজয়ের দিন আরো বলেন, এ নগরীকে আল্লাহ তা’আলা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকে সম্মানিত করেছেন। কাজেই তা আল্লাহ্‌র দেয়া সম্মানের দ্বারা ক্বিয়ামাত অবধি সম্মানিত থাকবে। আমার আগে এখানে যুদ্ধ করা কারও জন্য হালাল ছিল না, আর আমার জন্যও তা দিনের কেবল কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। অতএব, আল্লাহ্‌র দেয়া সম্মানের দ্বারা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তা সম্মানিত থাকবে। এখানকার কাঁটা কর্তন করা যাবে না; শিকারকে তাড়ানো যাবে না আর পথে পড়ে থাকা জিনিস কেউ উঠাবে না। তবে সে ব্যক্তি উঠাতে পারবে, যে তা ঘোষণা করবে। এখানকার ঘাস কাটা যাবে না।’ তখন ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইযখির ছাড়া। কেননা, তা কর্মকারের ও ঘরের কাজে লাগে।’ তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘ইযখির ছাড়া।’


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->পরিচ্ছেদ নেই হাঃ-৪৩১৩

মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবার জন্য দাঁড়িয়ে বললেন, যেদিন আল্লাহ সমুদয় আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেই দিন থেকেই তিনি মাক্কাহ নগরীকে সম্মান দান করেছেন। তাই আল্লাহ কর্তৃক এ সম্মান প্রদানের কারণে এটি ক্বিয়ামাত দিবস পর্যন্ত সম্মানিত থাকবে। আমার পূর্বে কারো জন্য তা হালাল করা হয়নি, আমার পরে কারো জন্যও তা হালাল করা হবে না। আর আমার জন্যও মাত্র একদিনের সামান্য অংশের জন্যই তা হালাল করা হয়েছিল। তার শিকারযোগ্য প্রাণীকে বিতাড়িত করা যাবে না। ঘাস সংগৃহীত হবে না। বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য ব্যতীত রাস্তায় পতিত বস্তু উত্তোলিত হবে না। তখন 'আব্বাস ইবনু 'আবদুল মুত্তালিব (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! ইয্‌খির ঘাস ব্যতীত। কেননা ইয্‌খির ঘাস আমাদের কর্মকার ও বাড়ির (ছাউনির) কাজে লাগে। তখন রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুপ থাকলেন। এর কিছুক্ষণ পরে বললেন, ইয্‌খির ব্যতীত। ইয্‌খির ঘাস কাটা অনুমোদিত। অন্য সানাদে ইবনু জুরায়জ (রহঃ)..... ইবনু 'আব্বাস (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া এ হাদীস আবূ হুরায়রা (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) ও নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। [১৩৪৯] (আ.প্র. ৩৯৭১, ই.ফা. ৩৯৭৬)


সহিহ মুসলিম অঃ->হজ্জ বাব->মাক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ হাঃ-৩১৯৩

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন বলেছেনঃ হিজরাতের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত অব্যাহত থাকবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদের আহ্বান জানানো হয় তখন জিহাদে যোগদান কর। মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তা’আলা এ শহরকে সম্মানিত করেছেন- যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে। অতএব ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা এ শহরের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখবেন। তিনি এ শহরে আমার পূর্বে আর কারও জন্য যুদ্ধ বৈধ করেননি। আমার জন্য মাত্র এক দিনের কিছু সময় তিনি এখানে যুদ্ধ বৈধ করেছিলেন। অতএব তথায় যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম। আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক ক্বিয়ামাত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার কারণে এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ উপড়ানো যাবে না, এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তখন ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কিন্তু ইয্খির (লম্বা ঘাস) সম্পর্কে (অনুমতি দিন)। কারণ তা স্বর্ণকার ও তাদের ঘরের কাজে লাগে। তিনি বললেন, কিন্তু ইযখির (তোলার অনুমতি দেয়া হল)। (ই.ফা. ৩১৬৮, ই.সে. ৩১৬৫)