সহিহ বুখারী অঃ->যাকাত বাব->যাকে আল্লাহ সওয়াল ও অন্তরের লোভ ব্যতীত কিছু দান করেন। হাঃ-১৪৭৩

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, যে আমার চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত, তাকে দিন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ তা গ্রহণ কর। যখন তোমার কাছে এসব মালের কিছু আসে অথচ তার প্রতি তোমার অন্তরের লোভ নেই এবং তার জন্য তুমি প্রার্থী নও, তখন তা তুমি গ্রহণ করবে। এরূপ না হলে তুমি তার প্রতি অন্তর ধাবিত করবে না।


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->প্রশাসক ও প্রশাসনিক কার্যে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ভাতা । হাঃ-৭১৬৩

আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু সা’দী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বর্ণনা করেন যে, ‘উমর (রাঃ) -এর খিলাফাত সময়ে তিনি একবার তাঁর কাছে আসলেন। তখন ‘উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন- আমাকে কি এ সম্পর্কে জানানো হয়নি যে তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। কিন্তু যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তুমি সেটা নেয়াকে অপছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। ‘উমর (রাঃ) বললেন, কী কারণে তুমি এরূপ কর। আমি বললাম, আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। কাজেই আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক সাধারণ মুসলমানদের জন্য সদাকাহ হিসাবে গণ্য হোক। ‘উমর (রাঃ) বললেন, এরকম করো না। কেননা, আমিও তোমার মত এরকম ইচ্ছে পোষণ করতাম। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। এতে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার হতে এ মালের প্রয়োজন যার অধিক তাকে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা নিয়ে মালদার হও এবং বৃদ্ধি করে তা থেকে সদাকাহ কর। আর এ মাল ধনের যা কিছু তোমার নিকট এভাবে আসে, তুমি যার অধিকারী নও বা প্রার্থী নও তা গ্রহণ করো। তা না হলে তার পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করো না। (১৭৩)(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)


সহিহ বুখারী অঃ->আহকাম বাব->প্রশাসক ও প্রশাসনিক কার্যে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ভাতা । হাঃ-৭১৬৪

যুহরী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যুহরী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে বলেন, তিনি ‘উমর (রাঃ) -কে বলতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যখন কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা লও এবং বাড়িয়ে তা থেকে সদাকাহ কর। আর এ রকম মালের যা কিছু তোমার কাছে এমন অবস্থায় আসে যে তুমি তার আশা কর না এবং প্রার্থীও নও তাহলে তা গ্রহণ কর। তবে যা এভাবে আসবে না নিজেকে তার অনুসারী বানাবে না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->সালাত বাব->একটি মাত্র কাপড় পরিধান করে সলাত আদায় করা এবং তা পরিধান করার নিয়ম বিধান হাঃ-১০৪৫

আবূ যুবায়র আল মাক্কী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) -কে একটি কাপড়ে জড়িয়ে সলাত আদায় করতে দেখেছেন। অথচ তার কাছে আরো কাপড় বর্তমান ছিল। জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এমনটি করতে দেখেছেন। (ই.ফা. ১০৩৯, ই.সে. ১০৪৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া অথবা পাওয়ার আকাঙ্খা ছাড়াই যদি পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করা জায়িয হাঃ-২২৯৫

সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি : রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কিছু উপঢৌকন দিতেন এবং আমি বলতাম, এটা আমাকে না দিয়ে যে আমার চেয়ে বেশী অভাবী তাকে দিন। এমনকি একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার তুলনায় যার প্রয়োজন বেশী এটা তাকে দিন। তখন রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা গ্রহণ কর এবং এছাড়া ঐ সব মালও গ্রহণ কর, যা কোন প্রকার লালসা ও প্রার্থনা ব্যতীতই তোমার কাছে এসে যায়। আর যা এভাবে আসে তা পাওয়ার ইচ্ছাও রেখো না। (ই.ফা. ২২৭৩, ই.সে. ২২৭৪)


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৫

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাদী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার সিরিয়া থেকে উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে আসলে তিনি তাঁকে বললেন যে, আমি শুনেছি যে, তুমি মুসলমানদের কোন কাজ (যাকাত আদায়) করলে তোমাকে তার পারিশ্রমিক দেওয়া হলে তা তুমি নাকি গ্রহণ কর না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার কিছু ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে এবং আমি স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। তাই আমার ইচ্ছা আমার কাজ মুসলমানদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হোক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, তুমি যা মনস্থ করেছ আমিও তাই মনস্থ করেছিলাম, কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে সম্পদ (বিনিময়) দিতেন, আমি তাঁকে বলতামঃ যে ব্যক্তি আমার থেকেও বেশী মুখাপেক্ষী আপনি এই মাল তাকেই দিন। তিনি আমাকে একবার কিছু (মাল) দিলে আমি তাঁকে বললাম, এই (মাল) যে আমার থেকে বেশী অভাবী আপনি তাকেই দিন। তিনি বললেন, তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত যে মাল মহান মহিয়ান আল্লাহ তোমাকে দেন তা গ্রহণ করে নেবে এবং ইচ্ছা করলে তা তোমার কাছে রেখে দেবে নয়তো সাদাকা করে দেবে। আর যা তেমন (লোভ বিহীন) নয় তার প্রতি তোমার মনকে ধাবিত করবে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৬

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাদী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে গেলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, আমি শুনতে পেলাম তুমি নাকি মুসলমানদের কোন কাজে নিয়োজিত রয়েছো এবং তোমাকে তোমার কাজের পারিশ্রমিক দেওয়া হলে তা তুমি গ্রহণ কর না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন উমর (রাঃ) বললেন, এতে তোমার উদ্দেশ্য কি? আমি বললাম যে, আমার কিছু ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে আর আমি স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। তাই আমি চাচ্ছিলাম যে আমার কাজগুলো মুসলমানদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হোক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তুমি এরূপ করবে না। কেননা তুমি যে রকম চাচ্ছ আমিও সে রকম চাইতাম। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দান (পারিশ্রমিক) দিলে আমি বলতাম যে, আপনি ইহা আমার থেকে বেশী অভাবীকে দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন যে, তুমি এগুলো নিয়ে নাও। ইচ্ছা করলে নিজের কাজে লাগাও নতুবা সাদাকা করে দাও। তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত যে মাল তোমার হস্তগত হয় তা তুমি নিয়ে যাও। (কোন মাল) এভাবে (তোমার হস্তগত) না হলে তার প্রতি আকৃষ্ট হবে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->চাওয়া ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাকে কোন ধন-সম্পদ দান করেন তার প্রসঙ্গে হাঃ-২৬০৭

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি একবার উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে তাঁর কাছে আসলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন , আমি শুনতে পেলাম যে, তুমি নাকি মানুষের কাজে নিয়োজিত থাক এবং তার বিনিময় দেওয়া হলে তুমি তা অপছন্দ কর? তিনি বলেন, আমি বললামঃ হ্যাঁ। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কি?’ আমি বললাম, আমার কিছু ঘোড়া এবং দাস-দাসী রয়েছে আর আমি স্বচ্ছল অবস্থায় রয়েছি। তাই আমি চাচ্ছিলাম যে, আমার কাজগুলো মুসলমানদের জন্য সাদাকা স্বরূপ হোক। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তুমি এরূপ করবে না। তুমি যে রকম ইচ্ছা করছ আমিও সে রকমই ইচ্ছা করতাম। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বিনিময় দিতেন আর আমি বলতাম যে, আপনি এটা আমার চেয়েও বেশী অভাবীদেরকে দিয়ে দিন। তিনি আমাকে একবার কিছু মাল দিলে আমি তাঁকে বললাম যে, আপনি ইহা আমার চেয়েও বেশী অভাবীকে দিয়ে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি এটা নিয়ে নাও; ইচ্ছা করলে নিজের কাজে লাগাও নতুবা সাদাকা করে দাও। আর যে মাল তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীত হস্তগত হয়, তুমি তা নিয়ে নেবে অন্যথায় তার পেছনে পড়বে না।