সহিহ বুখারী অঃ->আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) বাব->(মহান আল্লাহর বাণীঃ) হাঃ-৩৩৪৪

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আলী (রাঃ) নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যাক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হান্‌যালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন। (২) উআইনা ইবনু বদর ফাযারী। (৩) যায়দ ত্বায়ী, যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন। (৪) ‘আলকামাহ ইবনু উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তো তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য এমন মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটারাগত, গন্ডদ্বয় ঝুলে পড়া; কপাল উঁচু, ঘন দাড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফারমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। [আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন] আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ব্যাক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। দ্বীন হতে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা হতে বাদ দেবে। আমি যদি তাদের পেতাম তাহলে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যই হত্যা করতাম।


সহিহ বুখারী অঃ->মাগাযী বাব->বিদায় হাজ্জের পূর্বে 'আলী ইবনু আবু ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রা.)- কে ইয়ামানে প্রেরণ হাঃ-৪৩৫১

আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, 'আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) ইয়ামান থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে এক প্রকার (রঙিন) চামড়ার থলে করে সামান্য কিছু স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন। তখনও এগুলো থেকে সংযুক্ত মাটি পরিষ্কার করা হয়নি। আবূ সা'ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার জনের মাঝে স্বর্ণখণ্ডটি বণ্টন করে দিলেন। তারা হলেন, 'উয়াইনাহ ইবনু বাদ্র, আকরা ইবনু হাবিস, যায়দ আল-খায়ল এবং চতুর্থ জন 'আলক্বামাহ কিংবা 'আমির ইবনু তুফায়ল (রাঃ)। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজন বললেন, এটা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হাকদার ছিলাম। (রাবী) বলেন, কথাতি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমানের অধিবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে। রাবী বলেন, এমন সময়ে এক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়াল। লোকটির চোখ দু'টি ছিল কোটরাগত, চোয়ালের হাড় যেন বেরিয়ে পড়ছে, উঁচু কপাল বিশিষ্ট, দাড়ি অতি ঘন, মাথাটি ন্যাড়া, পরনের লুঙ্গী উপরে উত্থিত। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার জন্য আফসোস! আল্লাহ্‌কে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমি কি অধিক হাকদার নই? রাবী আবূ সা'ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, লোকটি চলে গেলে খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না হতে পারে সে সলাত আদায় করে। খালিদ (রাঃ) বললেন, অনেক সলাত আদায়কারী এমন আছে যারা মুখে এমন এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরে নেই। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেড়ে দেখার জন্য বলা হয়নি। তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকিয়ে দেখলেন। তখন লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন, এ ব্যাক্তির বংশ থেকে এমন জাতির উদ্ভব হবে যারা শ্রুতিমধুর কণ্ঠে আল্লাহ্‌র কিতাব তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহ্‌র বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না। তারা দ্বীন থকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে লক্ষ্যবস্তুর দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে সামূদ জাতির মতো হত্যা করে দেব। [৩৩৪৪; মুসলিম ১২/৪৭, হাঃ ১০৬৪, আহমাদ ১১৬৯৫] (আ.প্র. ৪০০৬, ই.ফা. ৪০১০)


সহিহ বুখারী অঃ->জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ বাব->আল্লাহ্‌র বাণীঃ ফেরেশ্‌তা এবং রূহ্‌ আল্লাহ্‌র দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়- (সূরা আন্‌-নিসা ৪/৭০)। এবং আল্লাহ্‌র বাণীঃ তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে- (সূরা ইউনুস ১০/৩৫)। হাঃ-৭৪৩২

আবূ সা'ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট অল্প কিছু সোনা পাঠানো হলে তিনি চারজনকে ভাগ করে দেন। ইসহাক ইব্‌নু নাসর (রহঃ) ..... আবূ সা'ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, 'আলী (রাঃ) ইয়ামানে অবস্থানকালে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে কিছু মাটি মেশানো সোনা পাঠিয়েছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনূ মুজাশি গোত্রের আক্রা ইব্‌নু হাবিস হানযালী, 'উয়াইনাহ ইব্‌নু হিসন ইব্‌নু বাদ্র ফাযারী, 'আলক্বামাহ ইব্‌নু উলাছা আমিরী ও বনূ কিলাবের একজন এবং বনু নাবহান গোত্রের যায়দ আল খায়ল তাঈর মধ্যে তা বেঁটে দেন। এ কারণে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজদবাসী সরদারদেরকে দিচ্ছেন। আর আমাদেরকে বঞ্চিত করছেন। এ প্রেক্ষিতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তাদের অন্তর জয়ের চেষ্টা করছি। তখন কোটরাগত চোখ, উচ্চ কপাল, বেশি দাড়ি, উচ্চ চোয়াল ও মুণ্ডানো মাথা ওয়ালা এক লোক সামনে এসে বলল, হে মুহাম্মদ ! আল্লাহ্কে ভয় কর। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমিই যদি তাঁর নাফরমানী করি, তবে তাঁর অনুগত হবে আর কে? আর এজন্যই তিনি আমাকে পৃথিবীর লোকের উপর আমানতদার নির্দিষ্ট করেছেন। অথচ তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। এমন সময় দলের মধ্য থেকে একটা লোক, সম্ভবত খালিদ ইব্‌নু ওয়ালিদ (রাঃ), ঐ লোকটিকে হত্যা করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে নিষেধ করলেন। সে লোকটি চলে যাওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে, যারা কুরআন পড়বে, তবে কুরআন তাদের কন্ঠনালি অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। মূর্তিপূজারীদেরকে ছেড়ে তারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে। যদি আমি তাদেরকে পাই, তাহলে আদ জাতিকে হত্যা করার মত তাদেরকে হত্যা করব। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৪, ৬৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৬)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->খারিজী সম্প্রদায় ও তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা হাঃ-২৩৪১

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে কিছু অপরিশোধিত স্বর্ণ অরসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পাঠালেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা চার ব্যক্তি যথা- (১) আক্বরা’ ইবনু হাসিব আল হানযালী, (২) ‘উয়াইনাহ্ ইবনু বাদ্র আল ফাযারী, (৩) ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ‘উলাসাহ্ আল ‘আমিরী ও (৪) বানী কিলার গোত্রীয় এক ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করলেন এবং এরপর তায়ী গোত্রীয় যায়দ আল খায়র ও বানী নাব্হান গোত্রের এক ব্যক্তিতে এ থেকে দান করলেন। এতে কুরায়শ গোত্রের লোকেরা ক্ষেপে গিয়ে বললেন, “আপনি কেবল নাজ্দের নেতৃস্থানীয় লোকদের দান করেছেন আর আমাদের বাদ দিচ্ছেন, এটা কেমন ব্যাপার?” এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তাদের শুধু চিত্তাকর্ষণ অর্থাৎ তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালবাসা ও অনুরাগ সৃষ্টির জন্য দিচ্ছি। এমন সময় ঘন দাড়ি, স্ফীত গাল, গর্তে ঢোকা চোখ, উঁচু ললাট ও নেড়া মাথা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় কর। তখন রসূউল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমিই যদি আল্লাহর অবাধ্য হই, তাহলে কে তাঁর অনুগত হবে? আল্লাহ আমাকে দুনিয়াবাসীদের জন্য আমানাতদার হিসেবে পাঠিয়েছেন আর তুমি আমাকে আমানাতদার মনে করছো না। এরপর লোকটি ফিরে চলে গেল। উপস্থিত লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। লোকদের ধারণা, হত্যার অনুমতি প্রার্থী ছিলেন খালিদ ইবনু ওয়ালীদ। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এর মূলে এমন একটি সম্প্রদায় রয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে অথচ তাদের এ পাঠ কন্ঠনালী অতিক্রম করে না (অর্থাৎ হৃদয়ে আবেদন সৃষ্টি করে না)। এরা ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করে এবং মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দেয়। তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। যদি আমি তাদেরকে পেতাম তাহলে তাদেরকে এমনভাবে হত্যা করতাম যেভাবে ‘আদ সম্প্রদায়ের লোকদেরকে হত্যা করা হয়েছে (অর্থাৎ সমূলে নিপাত করতাম)। (ই.ফা. ২৩১৯, ই.সে. ২৩২০)


সহিহ মুসলিম অঃ->যাকাত বাব->খারিজী সম্প্রদায় ও তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা হাঃ-২৩৪২

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে বাবুল গাছের ডাল দিয়ে রঙ্গিন করা একটি চামড়ার থলিতে করে কিছু অপরিশোধিত স্বর্ণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যক্তির মধ্যে বন্টন করলেন। তারা হলোঃ ‘উয়াইনাহ্ ইবনু বাদ্র, আক্বরা’ ইবনু হাবিস, যায়দ আল খায়ল এবং চতুর্থ ব্যক্তি হয় ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ‘উলাসাহ্ অথবা ‘আমির ইবনু তুফায়ল। তাঁর সহাবীগনের মধ্যে এক ব্যক্তি বলল, তাদের তুলনায় আমরা এর হাক্বদার ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এ খবর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ “আসমানের অধিবাসীদের কাছে আমি আমানাতদার বলে গণ্য অথচ তোমরা কি আমাকে আমানাতদার মনে করছ না? আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় আসমানের খবর আসছে। অতঃপর গর্তে ঢোকা চোখ, ফোলা গাল বা স্ফীত গাল, উঁচু কপাল ঘন দাড়ি নেড়া মাথা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি নিজের পরনের কাপড় সাপটে ধরে অপবাদের সুরে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তার ঘাড়ে আঘাত হানব না, হত্যা করব না? তিনি বললেনঃ না, কারণ হয়তো সে সলাত আদায়কারী হতে পারে। খালিদ (রাঃ) বললেন, অনেক নামাযী আছে যে মুখে এমন কথা বলে যা তার অন্তরের বিপরীত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মানুষের অন্তর বা পেট চিরে দেখার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেন, এর মূল থেকে এমন সব লোকের আবির্ভাব হবে যারা সহজেই আল্লাহর কিতাব (কুরআন) পড়তে পারবে, কিন্তু এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেনঃ যদি আমি তাদেরকে পাই, তাহলে সামূদ জাতির ন্যায় তাদেরকে হত্যা করব। (ই.ফা. ২৩২০, ই.সে. ২৩২১)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সুন্নাহ বাব->খারিজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হাঃ-৪৭৬৪

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু অপরিশোধিত স্বর্ণ পাঠালে তিনি তার চারজন ব্যক্তি, যথা আকরা ‘ইবনু হাবিস আল-হানযলী আল-মুজাশিঈ, ‘উয়াইনাহ ইবনু বাদর আল-ফাযারী, যায়িদ আল-খাইল আত-তাঈ, অতঃপর নাবহান গোত্রের এক ব্যক্তি, এছাড়া ‘আলক্বামাহ ইবনু উলাসাহ আল-‘আমিরী এবং বনী কিলাবের এক ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, নাজদের অধিবাসীদের নেতৃস্থানীয় লোকদেরকে দেয়া হয়েছে এবং আমাদেরকে দেয়া হলো না। তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তাদেরকে (ইসলামের) অনুরাগী করার জন্য দিয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর কোটরাগত চোখ, উদ্যত চিবুক, ঘন দাড়ি ও নেড়া মাথাবিশিষ্ট এক ব্যক্তি এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ্‌কে ভয় করো। তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমিই যদি অবাধ্য হই তাহলে কে আর আল্লাহর আনুগত্য করবে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর জন্য বিশ্বস্ত লোক হিসেবে নিয়োগ করেছেন; আর তোমরা আমাকে বিশ্বাস করছো না! আবূ সাঈস আল-খুদরী (রাঃ) বলেন, অতঃপর এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলেন, আমার মতে, তিনি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)। তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বারণ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি চলে গেলে তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার বংশধর হতে এমন এক গোত্রের আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তীর যে গতিতে শিকারের দিকে ছুটে যায় তারাও ঠিক সেইভাবে ইসলাম হতে বেরিয়ে যাবে, তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে হত্যা করবে এবং পৌত্তলিকদেরকে নিরাপদ রাখবে। যদি আমি তাদের সময় পর্যন্ত জীবিত থাকি তাহলে তাদেরকে হত্যা করবো যেভাবে হত্যা করা হয়েছে ‘আদ জাতিকে।


সুনান নাসাঈ অঃ->হত্যা অবৈধ হওয়া বাব->যে ব্যক্তি তলোয়ার খাপমুক্ত করে, তারপর মানুষের মধ্যে তা চালনা করে হাঃ-৪১০১

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট ইয়ামন থেকে কিছু মাটি মিশ্রিত সোনা পাঠান, তিনি তা আকরা ইব্‌ন হাবিস হানযালী মুজাশি’ঈ, উয়ায়না ইব্‌ন বাদর আল-ফাযারী, আলকামা ইব্‌ন উলায়া আরিমী কিলাবী ও যায়দ খায়ল তায়ী নাবহানীর মধ্যে বন্টন করে দেন। এতে কুরায়শ এবং আনসারীগণ ক্রোধান্বিত হল এবং তারা বললোঃ তিনি নজদের নেতাদের দেন, আমাদের দেন না। তিনি বলেনঃ (যেহেতু তারা নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই তাদেরকে দিয়ে) তাদের মনোরঞ্জন করছি মাত্র (আর তোমরা তো পূর্বে মুসলমান হয়েছো)। এমন সময় এক ব্যক্তি এগিয়ে আসল, যার চক্ষু কোটরাগত, গন্ডদ্বয় ফোলা, ঘন দাড়িবিশিষ্ট ও মাথা মুড়ানো ছিল। সে বললোঃ হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহকে ভয় কর। তিনি বললেনঃ যদি আমিই আল্লাহ্‌র নাফরমানী করি, তবে আর কে তাঁর আনুগত্য করবে? আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে জগতবাসীর মধ্যে আমীনরূপে সৃষ্টি করেছেন, আর তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর না! এমন সময় লোকদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলে তিনি নিষেধ করলেন। যখন সে ব্যক্তি চলে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার বংশে এমন কিছু লোক জন্ম নিবে, যারা কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু কুরআন তাদের গলার নীচে নামবে না, তারা ধর্ম থেকে এভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর জন্তুর শরীর ভেদ করে বের হয়ে যায়। তারা মুসলমানদের হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজকদের ছেড়ে দেবে। আমি যদি তাদেরকে পাই, তবে তাদেরকে এমনভাবে হত্যা করবো, যেমন আদ বংশের লোকদেরকে হত্যা করা হয়েছে।