সহিহ বুখারী অঃ->যাকাত বাব->বকরীর যাকাত হাঃ-১৪৫৪

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বাহরাইনে প্রেরণকালে অত্র বিধানটি তাঁর জন্য লিখে দেনঃ পরম দয়ালু করুণাময় আল্লাহর নামে। এটাই যাকাতের নিসাব-যা নির্ধারণ করেছেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের প্রতি এবং যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার নিকট হতে নিয়মানুযায়ী চাওয়া হয়, সে যেন তা আদায় করে দেয় আর তার চেয়ে অধিক চাওয়া হলে তা যেন আদায় না করে। চব্বিশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। ছত্রিশ হতে পয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিনতে লাবূন। ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিককা, একষট্টি হতে পচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা’আ, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুটি বিনতে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ বিশ পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য দুটি হিককা আর একশ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিককা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। কিন্তু যখন পাঁচে পৌঁছে তখন একটি বকরী ওয়াজিব। আর বকরীর যাকাত সম্পর্কেঃ গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দু’শটি পর্যন্ত দু’টি বকরী। দু’শর অধিক হলে তিনশ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশ-র অধিক হলে প্রতি একশ-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে। রৌপ্যের যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। একশ নব্বই দিরহাম হলে সেক্ষেত্রে যাকাত নেই [৪৩], তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে দিতে পারে।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->যাকাত বাব->মাঠে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত হাঃ-১৫৬৭

হাম্মাদ (রঃ) থেকে বর্নিতঃ

আমি সুমামাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস (রাঃ) হতে একখান কিতাব গ্রহণ করি। সুমামাহর ধারণা, আবূ বাকর (রাঃ) এটি আনাস (রাঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণকালে লিখেছিলেন এবং তাতে রসূলুল্লাহর মোহরাঙ্কিত ছিলো। তাতে লিখা ছিলোঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফারয যাকাতের বিষয়ে মুসলিমদের উপর যা নির্ধারিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর রসূলকে যা আদেশ করেছেন। কাজেই যে কোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হবে সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কোরো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী দিতে হবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ (দুই বছরে(রঃ) উষ্ট্রী দিতে হবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ‘ইবনু লাবূন’ (তিন বছরের) উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি ‘বিনতু লাবূন’ (তিন বয়সের উষ্ট্রী) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে একটি ‘হিককাহ’ (চার বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি ‘জাযাআহ’ (পাঁচ বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দু’টি ‘বিনতু লাবূন’ দিতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে ‘বিনতু লাবূন’ এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে ‘হিককাহ’ দিবে। যদি যাকাতযোগ্য বয়সের উট না থাকে, যেমন, কারো জাযাআহ্ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিককাহ আছে, তখন হিককাহ গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে সহজলভ্য হলে দু’টি বকরী কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। একইভাবে কারো উপর হিককাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করতে হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিরহাম কিংবা দু’টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিককাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং জাযাআহ আছে। তার থেকে সেটাই নিতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এখানে আমি আমার উস্তাদ মূসা ইবনু ইসমাঈল হতে আশানূরূপ আয়ত্ব করতে পারিনি। এখানেও যাকাতদাতা সহজলভ্য দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যার উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব কিন্তু সেটা তার কাছে নেই, বরং তার কাছে হিককাহ আছে। সেটাই তার কাছ থেকে নিতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ পর্যন্ত আমি সন্দিহান ছিলাম, পরবর্তীতে আমি পূর্ণ আস্থাশীল হই। অর্থাৎ তহশীলদার বিশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে ফেরত দিবে। যদি কারো উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয় এবং সেটা তার কাছে না থাকে, বরং বিনতু মাখাদ থাকে, তখন তার থেকে সেটাই গ্রহন করবে এবং এর দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যদি কারো উপর বিনতু মাখাদ ওয়াজিত হয়, অথচ তা তার কাছে নেই, বরং তার নিকট আছে ইবনু লাবূন, তখন সেটাই গ্রহণ করবে এবং সাথে কিছুই দিতে হবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাকে কিছুই দিতে হবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা। স্বাধীনভাবে চরে বেড়ানো মেষ-বকরীর সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি বকরী দিতে হবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশো পর্যন্ত পৌঁছলে দু’টি বকরী। বকরীর সংখ্যা দুইশো অতিক্রম করে তিনশো পর্যন্ত হলে তিনটি বরকী এবং তিনশো থেকে অধিক হলে প্রতি একশোটির জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা অন্ধ বকরী-ছাগল নেয়া হবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে যেন একত্র না করা হয় এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করা হয়। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ হিসাবে বহন করবে। চরে বেড়ানো বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হলে কিছুই দিতে হবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশো নব্বই হলে কিছুই দিতে হবে না। হাঁ, মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তাতে আপত্তি নেই। সহীহঃ বুখারী সংক্ষেপে।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->যাকাত বাব->মাঠে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত হাঃ-১৫৭২

আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যুহাইর (রঃ) বলেন, আমার ধারনা, এ হাদীস নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিবে এবং দুইশো দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন যাকাত নেই। আর দুইশো দিরহাম পূর্ণ হলে তাতে পাঁচ দিরহাম দিতে হবে। এর অতিরিক্ত হলে, উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী দিতে হবে। ছাগলের যাকাত হলো, প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বকরী। বকরীর সংখ্যা ঊনচল্লিশ হলে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছুই ওয়াজিব নয়। অতঃপর বকরীর হিসাব ও যাকাত যুহরীর বর্ণনানুযায়ী বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, গরুর যাকাত হচ্ছে, প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি বাছুর এবং চল্লিশটির জন্য পূর্ণ দুই বছরের একটি বাছুর। তবে কৃষিকাজে নিয়োজিত পশুর যাকাত নেই। উটের যাকাতও যুহরীর বর্ণনানুরূপ দিতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী এবং একটিও বর্ধিত হলে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতু মাখাদ দিতে হবে। বিনতু মাখাদ না থাকলে একটি ইবনু লাবূন দিবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী একটি হিককাহ দিতে হবে। অতঃপর যুহরীর হাদীসের বর্ণনানুরূপ। তিনি বলেনঃ যদি একটিও বর্ধিত হয় অর্থাৎ একানব্বই হয়, তা থেকে একশো বিশ পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী দু’টি হিককাহ দিবে। আর যাকাত দেয়ার ভয়ে একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকে একত্র করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ এবং দোষযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না। এবং কোন পাঠাও নেয়া যাবে না। তবে আদায়কারী নিতে চাইলে নিতে পারবে। শস্যের যাকাত হচ্ছে, ভুমি নদ-নদী অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে ‘উশর’ দিতে হবে (এক-দশমাংশ)। আর যেসব ভূমিতে পানিসেচ করতে হয় তাতে দিতে হবে বিশ ভাগের এক ভাগ। ‘আসিম ও হারিসের হাদীসে এটাও রয়েছে, যাকাত প্রতি বছরই দিতে হবে। যুহাইর বলেন, আমার ধারণা, প্রতি বছর একবার বলেছেন। ‘আসিমের হাদীসে রয়েছে, বিনতু মাখাদ ও ইবনু লাবূন না থাকলে দশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী প্রদান করতে হবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->যাকাত বাব->উটের যাকাত হাঃ-২৪৪৭

আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) তাদেরকে (যাকাত আদায়কারীদের) লিখলেন যে, মহান মহিয়ান আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশক্রমে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলমানদের উপর এ ফরয যাকাত ধার্য করেছেন। অতএব, যে মুসলমানকে নিয়ম মাফিক যাকাত আদায় করতে বলা হবে সে আদায় করে দেবে, আর যে ব্যক্তিকে এর চেয়ে বেশি আদায় করতে বলা হবে সে তা আদায় করবে না। পঁচিশটির কম উট হলে প্রত্যেক পাঁচ উটে একটি বকরী দিতে হবে। পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত বিনত্ মাখায (দুই বছরী উট) দিতে হবে। দুই বছরী উট না থাকলে একটি ইব্‌ন লাবূন (তিন বছরী পুরুষ উট) দিবে। ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি তিন বছরী উট, ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত একটি আরোহণের উপযোগী (চার বছরী মাদী উট), একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা‘মা (পাঁচ বছরী মাদী উট), ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুইটি তিন বছরী উট, একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত আরোহণের উপযোগী দুইটি চার বছরী উট দিতে হবে। যখন একশত বিশটি উটের বেশি হবে তখন প্রত্যেক চল্লিশে একটি তিন বছরী উট এবং প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি চার বছরী উট ওয়াজিব হবে। যখন যাকাত আদায়কালীন সময় উটের বয়সের বিভিন্নতা দেখা দেয়, যেমন কারো উপর একটি পাঁচ বছরী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে কোন পাঁচ বছরী মাদী উট নেই বরং তার কাছে চার বছরী উট আছে তখন তার কাছ খেকে চার বছরী উট আদায় করে আরো দুটি ছাগল ধার্য করা (আদায় করা) হবে- যদি তা সহজ হয়। অন্যথা বিশটি দিরহাম আদায় করবে। যার উপর একটি চার বছর বয়সী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে পাঁচ বছর বয়সী মাদী উটই আছে তখন তার কাছ থেকে তাই আদায় করে নেবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে বিশটি দিরহাম অথবা দুইটি ছাগল যা সহজ হয় ফিরিয়ে দেবে। যার উপর চার বছরী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে চার বছর বয়সী মাদী উট নেই বরং তিন বছর বয়সী উট আছে, তখন তার কাছে থেকে তাই আদায় করা হবে এবং দুইটি ছাগল যদি তা সহজ হয়। অন্যথা বিশটি দিরহাম তার সাথে আদায় করে নেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে শুধুমাত্র চার বছর বয়সী উট রয়েছে, তাহলে তার কাছে থেকে তাই আদায় করবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি ছাগল ফিরিয়ে দেবে। আর যার উপর তিন বছর বয়সী মাদী উট ওয়াজিব হয়েছে কিন্তু তার কাছে তিন বছর বয়সী উট নেই বরং তার কাছে দুই বছর বয়সী উট আছে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে দুইটি ছাগল যদি তা সহজ হয়। অন্যথা বিশটি দিরহাম নেবে। আর যার উপর দুই বছরী মাদী উট ওয়াজিব হয়ে যায় অথচ তার কাছে শুধুমাত্র তিন বছর বয়সী পুরুষ উট থাকে তাহলে তার কাছ থেকে তাই উসূল করে নেবে এবং তার সাথে অন্য কোন কিছু নেবে না এবং দিবে না। আর যার কাছে শুধুমাত্র চারটি উট আছে তার উপর কোন যাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে হ্যাঁ, তার মালিক যদি কিছু প্রদান করতে চায় (তবে সেটা ভিন্ন কথা)। আর চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত অবাধে বিচরণকারী ছাগলে যাকাত হিসাবে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। একশত একুশ হতে দুইশত পর্যন্ত ছাগলে দু‘টি ছাগল ওয়াজিব হবে। দুইশত এক হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলে তিনটি ছাগল ওয়াজিব হবে। যখন এরও অধিক হয়ে যাবে তখন প্রত্যেক একশত ছাগলে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে। আর অতি বৃদ্ধ (খুঁত বিশিষ্ট) এবং পাঠা ছাগলও আদায় করবে না। তবে হ্যাঁ, উসূলকারী যদি ইচ্ছা করে তবে আদায় করতে পারবে। যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু কখনো একত্রিত করবে না এবং একত্রিত পশুও কখনো বিচ্ছিন্ন করবে না। আর শরিকী মালে যাকাত উভয় মালে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কারো বিচরণকারী ছাগল যদি চল্লিশটি থেকে একটিও কম হয়, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত দিতে ইচ্ছে করে (তবে সেটা ভিন্ন কথা)। রূপায় চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব হবে। কারো কাছে যদি শুধু একশত নব্বই দিরহাম থাকে তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না, অবশ্য মালিক যদি যাকাত ইচ্ছা করে (তবে সেটা ভিন্ন কথা)।