সহিহ মুসলিম অঃ->হায়িয (ঋতুস্রাব) বাব->ইসতিহাযাহ [৮৯] বা রক্তপ্রদর রোগগ্রস্ত মহিলার গোসল ও তার সলাত প্রসঙ্গ হাঃ-৬৪৩

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শ্যালিকা এবং আব্দুর রহমান ইবনু ‘আওফ-এর স্ত্রী হাবীবাহ্‌ বিনতু জাহা্‌শ সাত বছর যাবৎ ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এ ব্যাপারে মাসআলা জানতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা হায়িয নয়; বরং ধমনীর (রগের) রক্ত। তাই তুমি গোসল করে ফেল এবং সলাত আদায় কর। ‘আয়িশাহহ্‌ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি তার বোন যায়নাব বিনতু জাহ্‌শ-এর ঘরে একটি পাত্রের মধ্যে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেত। ইবনু শিহাব বলেন, আমি এই হাদীসটি আবূ বাক্‌র ইবনু ‘আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম-এর কাছের বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’য়ালা হিন্‌দের ওপর রহমাত করুন। সে যদি এ ফাতাওয়ার (মাসআলাহ্‌) শুনতে পেত! আল্লাহর কসম! সে শুধু কাঁদত। কারন সে সলাত আদায় করতনা (এ মাসআলা তার জানা ছিলনা। ফলে সলাত আদায় করতে না পারার কারণে কাঁদত)। (ই.ফা. ৬৪৭, ই.সে. ৬৬২)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পবিত্রতা অর্জন বাব->মুস্তাহাযা প্রতি ওয়াক্ত সলাতের জন্য গোসল করবে হাঃ-২৮৮

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর শ্যালিকা এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহ্শের সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযা অব্যাহত থাকে। তিনি এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মাসআলাহ জানতে চাইলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা হায়িয নয়, বরং এটা শিরার রক্তবিশেষ। কাজেই তুমি গোসল করে সলাত আদায় করবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) তার বোন যায়নাব বিনতু জাহ্শের ঘরে একটি বিরাট পাত্রে গোসল করতেন। তার ইস্তিহাযা রক্তের লালিমা পানিতে প্রাধান্য লাভ করত (দেখা যেত)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি পূর্বেই উল্লেখিত হয়েছে ২৮৫ নং-এ।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ বাব->কোন নারীর ইস্তিহাদা ও হায়িদের রক্ত গোলমাল হয়ে গেলে হায়িদের মেয়াদের উপর নির্ভর করা যাবে না হাঃ-৬২৬

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবদুর রহমান বিন আওফ (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা বিনতে জাহ্‌শ (রাঃ)-এর ইস্তিহাদা (রক্তপ্রদর) হলো। তিনি সাত বছর তার স্ত্রীত্বে ছিলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে অভিযোগ করলে তিনি বলেন, এটা হায়িদের রক্ত নয়, বরং তা একটি শিরাজনিত রোগ। তোমার হায়িদ শুরু হলে তুমি সলাত ছেড়ে দিবে এবং হায়িদের রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে তুমি গোসল করে সলাত পড়বে। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি প্রতি ওয়াক্ত সলাতের জন্য গোসল করে সলাত আদায় করতেন। তিনি তার বোন যয়নব বিনতে জাহ্‌শ (রাঃ)-এর পানির পাত্রে বসতেন, এমনকি রক্তের লাল রংয়ে পানি রঞ্জিত হয়ে যেত। [৬২৩]


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->হায়যের পর গোসল হাঃ-২০৩

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবা বিনত জাহশ সাত বছর ইস্তেহাযায় ভুগছিলেন। তিনি এব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা হায়য নয় বরং এটা একটি শিরার রক্ত মাত্র। অতএব, তুমি গোসল কর এবং সালাত আদায় কর।


সুনান নাসাঈ অঃ->পবিত্রতা বাব->হায়যের পর গোসল হাঃ-২০৪

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন আব্দুর রহমান ইব্‌ন আউফ (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা বিন্ত জাহ্শ (রাঃ) যিনি ছিলেন উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিন্ত জাহ্শ (রাঃ)-এর বোন—ইস্তেহাযায় আক্রান্ত ছিলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ বিষয়ে ফতওয়া জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ এটা হায়য নয়। এটা একটি শিরার রক্ত মাত্র। অতএব যখন হায়য বন্ধ হয়ে যায়, তখন গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে। আবার যখন হায়য আরম্ভ হবে, তখন সালাত ছেড়ে দেবে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। কোন কোন সময় তিনি তাঁর বোন যয়নবের কক্ষে যখন যয়নব রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থাকতেন, একটি বড় গামলায় গোসল করতেন। এমনকি রক্তের লাল রং পানির উপর উঠে আসত। তারপর তিনি বের হতেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাতে শরীক হতেন। এটা তাকে সালাতে বাধা প্রদান করত না।