খাব্বার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মদীনায় হিজরত করছিলাম, এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহর দরবারে নির্ধারিত হয়ে আছে। অতঃপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের বিনিময়ে কিছুই ভোগ করে যাননি। তাঁদেরই একজন মুস‘আব ইব্নু উমাইর (রাঃ) আর আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যাঁদের প্রতিদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছন। মুস‘আব (রাঃ) উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। আমরা তাঁকে কাফন দেয়ার জন্য এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাঁর মস্তক আবৃত করলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর তাঁর দু’ পা আবৃত করলে তাঁর মস্তক বাইরে থাকে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মস্তক আবৃত করতে এবং তাঁর দু’খানা পায়ের উপর ইয্খির (ঘাস) দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।
উবূ ওয়াইল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উবূ ওয়াইল (রাঃ) বলেন, আমরা পীড়িত খাব্বাব (রাঃ) - কে দেখতে গেরাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম - আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। আল্লাহ্র নিকট আমাদের সওয়াব রয়েছে। তবে আমাদের মথ্যে কেউ কেউ কোন প্রতিদানের কিছু না নিয়েই চলে গেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন মুস’আব ইব্নু ‘উমায়র (রাঃ)। তিনি ওহুদের দিন শহীদ হন। তিনি একখানা চাদর রেখে যান। আমরা যখন এটি দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দিতাম, তখন তাঁর পা বেরিয়ে পড়ত, আর যখন আমরা পা ঢেকে দিতাম, তখন তাঁর মাথা বেরিয়ে পড়ত। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ করলেন যে, আমরা যেন তাঁর মাথা ঢেকে দিই এবং তাঁর পায়ের উপর কিছু ইয্খির রেখে দিই। আর আমাদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন, যাদের ফল পরিপক্ক হয়েছে আর তারা তা পেড়ে খাচ্ছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬১০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৫)
খাববাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সঙ্গে হিজরত করেছি একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য। আমাদের পুরস্কার আল্লাহ্র নিকটই নির্ধারিত। আমাদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের কুরবানীর ফল কিছুই দুনিয়ায় ভোগ না করে আখিরাতে চলে গিয়েছেন; তার মধ্যে মুসআব ইব্নু উমায়ের (রাঃ) অন্যতম। তিনি ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তাঁকে কাফন দেওয়ার জন্য তার একটি চাদর ছাড়া আর অন্য কিছুই আমরা পেলাম না। আমরা এ চাদরটি দিয়ে যখন তাঁর মাথা ঢাকলাম তাঁর পা বের হয়ে গেল আর যখন তাঁর পা ঢাকতে গেলাম তখন মাথা বের হয়ে গেল। তখন রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিলেন, চাদরটি দিয়ে তাঁর মাথা ঢেকে দাও এবং পা দু’টির উপর ইয্খির ঘাস রেখে দাও। আজ আমাদের মধ্যে এমন আছেন যাঁদের ফল পেকে গেছে এবং এখন তারা তা সংগ্রহ করছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬২৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬২৯)
খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হিজরত করেছিলাম। এতে আমরা চেয়েছি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর কাছে আমাদের প্রতিদান নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ গত হয়েছেন বা চলে গেছেন। অথচ প্রতিদান তিনি কিছুই ভোগ করতে পারেননি। মুস‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। উহূদের দিন তিনি পা দু‘খানা বেরিয়ে যেত এবং পা দু‘খানা আবৃত করলে মাথা বেরিয়ে যেত। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বললেন, ওটা দিয়ে তার মাথা ঢেকে দাও এবং উভয় পা ইযখির দ্বারা আবৃত করে দাও। অথবা বললেন, (বর্ণনাকারীর সন্দেহ), তাঁর উভয় পায়ের উপর ইযখির দিয়ে দাও। আর আমাদের মধ্যে কেউ এমনও আছেন, যার ফল ভালভাবে পেকেছে, আর তা তিনি ভোগ করছেন। [১২৭৬] (আ.প্র. ৩৭৭৬, ই, ফা. ৩৭৭৯)
আবূ ওয়াহিল (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
একবার আমরা খাব্বাব (রাঃ)-এর শুশ্রূষায় গেলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমরা আল্লাহ্র সন্তোষ অর্জনের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে হিজরাত করেছি; শ্রমফল আল্লাহ্র কাছেই আমাদের প্রাপ্য। আমাদের মধ্যে অনেকেই এ শ্রমফল দুনিয়াতে লাভ করার আগেই ইন্তিকাল করেছেন। তন্মধ্যে মুস্‘আব ইব্নু ‘উমায়র (রাঃ), যিনি উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন, তিনি শুধু একখানা কাপড় রেখে যান। আমরা কাফনের জন্য এটা দিয়ে তাঁর মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের আদেশ দিলেন, তা দিয়ে মাথাটা ঢেকে দিতে এবং পায়ের উপর ‘ইয্খির’ ঘাস দিয়ে দিতে। আর আমাদের মধ্যে এমনও আছে, যাঁদের ফল পেকেছে এবং তারা তা সংগ্রহ করেছেন। [১৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০০৪)