সহিহ মুসলিম অঃ->সালাত বাব->সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা হাঃ-৭৯০

হিততান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর্ রাকাশী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ মুসা আশ’আরী (রাঃ)- এর সাথে সলাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদে বসলেন, জামা’আতের মধ্য হতে এক ব্যাক্তি বলে উঠল, ‘সলাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফারয করা হয়েছে’। রাবী বললেন, আবূ মুসা (রাঃ) সলাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নিরব থাকল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন , তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন , হে হিততান ! সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি ( হিততান ) বললেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্যে রেগে যান কি-না ! এমন সময় লোকদের মধ্যে হতে এক ব্যাক্তি বলল, আমি এরুপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবূ মুসা (রাঃ) বললেন, নিজেদের সলাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সলাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সলাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন “গাইরিল মাগযুবি ‘আলাইহিম ওয়ালায্ যোল্লীন” বলবে তোমরা তখন ‘আমীন’ বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সারা দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকু‘তে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু ‘তে যাবে। কেননা , ইমাম তোমাদের আগে রুকু‘তে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু’ থেকে উঠবে। রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু’ সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন ‘সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলবে ,তোমরা তখন “আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলবে, আল্লাহ তোমাদের এই কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা’আলা তার নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভাষায় বলেছেনঃ ‘সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে , তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সাজদা থেকে উঠবে। রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সাজদাহ্ ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ আত্তাহিয়্যাতুত্ তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহু আসসালামু ‘আলাইনা – ওয়া’আলা-‘ইবা-দিল্লা হিস্ স-লিহীন , আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসুলুহ” অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ‘ইবাদাতসমুহ আল্লাহরই জন্য। হে নাবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ‘ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর দাস ও তাঁর দূত।” (ই.ফা. ৭৮৭, ই. সে. ৭৯৯)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->তাশাহুদ পাঠ হাঃ-৯৭২

হিত্তান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর-রাক্বাশী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদা আবূ মূসা আল-আশ’আরী (রাঃ) আমাদের সালাত পড়ালেন। সালাতের শেষ দিকে তিনি যখন বসলেন, তখন দলের একজন বললো, নেকী ও পবিত্রতা অর্জনের জন্যই সালাত। সালাত শেষে আবূ মূসা (রাঃ) লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে উপস্থিত লোকজন নীরব রইলো। তিনি পুনরায় বললেন, তোমাদের মধ্যকার কে এরূপ কথা বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখনও লোকেরা চুপ রইলো। হিত্তান বললেন, তিনি আমাকে বললেন, হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই একথাগুলো বলেছো। হিত্তান বললেন, না, আমি বলি নাই। অবশ্য আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, এজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন। হিত্তান বললেন, এক ব্যক্তি বললো, কথাগুলো আমিই বলেছি এবং শুধু ভাল উদ্দেশেই বলেছি। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, সালাতের মধ্যে কি বলতে হয় তাকি তোমরা অবহিত নও? একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে খুত্ববাহ দিলেন। তাতে তিনি আমাদেরকে সালাতের পদ্ধতি ও সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে প্রথমে কাতারসমূহ ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের একজন ইমামতি করবে। ইমাম তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, ইমাম যখন “গাইরিল্ মাগ্দুবি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়ালীন” পড়বে তোমরা “আমীন” বলবে। তবেই আল্লাহ তা কবুল করবেন। ইমাম তাকবীর বলে রুকূ’ করলে তোমরাও তাকবীর বলে রুকূ’ করবে। কারণ ইমাম তোমাদের পূর্বে রুকূ’তে যাবে এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ’ হতে মাথা উঠাবে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা তার বিকল্প। ইমাম “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ্” বললে তোমরা তখন বলবে “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল্ হাম্দ”। আল্লাহ তোমাদের একথা শুনবেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর নাবীর যবানীতে বলেছেনঃ “সামি’ আল্লাহু লিমান হামিদাহ্”। অতঃপর ইমাম যখন তাকবীর বলে সাজদাহ্ইয় যাবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে সাজদাহ্ করবে। ইমাম তোমাদের আগে তাকবীর বলবে এবং আগে সাজদাহ্ করবে। একথা বলার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা সেটার বিকল্প। তাশাহহুদের বৈঠকে তোমাদের সর্বপ্রথম পড়তে হবেঃ “আত্তাহিয়্যাতু তায়্যিবাতুস সাল্লাওয়াতু লিল্লাহি; আস্সালামু ‘আলাইকা আয়্যুহান্ নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুলাহি ও বারাকাতুহু। আস্সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশ্হাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহু”। ইমাম আহমাদ (রাঃ) স্বীয় বর্ণনাতে “বারাকাতুহু” ও “আশহাদু” শব্দদ্বয় উল্লেখ করেননি। তিনি “আন্না মুহাম্মাদান” কথাটি উল্লেখ করেছেন। সহীহঃ মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->ইমামত বাব->ইমাম থেকে অগ্রগামী হওয়া হাঃ-৮৩০

হিত্তান ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ আবূ মূসা (রাঃ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি বৈঠকে থাকাকালে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল, “নামায নেকী এবং যাকাত-এর সাথে মিলিত হয়েছে,” আবূ মূসা (রাঃ) যখন সালাম ফিরালেন তখন তিনি লোকের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে একথা বলেছে ? তখন লোক চুপ হয়ে গেল আর তিনি বললেনঃ হে হিত্তান! তুমি এটা বলে থাকবে। তিনি বললেনঃ না, আমি ভয় করছিলাম, আপনি এর জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সালাত ও তার নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ ইমাম এজন্য যে, তার ইকতেদা করা হবে। যখন তিনি তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলবে, আর যখন তিনি (আরবী) বলেন, তখন তোমরা (আরবী) বলবে। তাহলে আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবূল করবেন। আর যখন তিনি রুকূ করেন, তখন তোমরাও রুকূ করবে। আর যখন তিনি মাথা উঠিয়ে (আরবী) বলেন, তখন তোমরা বলবে (আরবী) আল্লাহ তোমাদের কথা শুনবেন। আর যখন ইমাম সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন, তোমরাও মাথা উঠাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করবেন এবং তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এটা তার সমান হয়ে যাবে।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->মুকতাদির ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলা হাঃ-১০৬৪

আবু মুসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে ওয়াজ করলেন এবং আমাদেরকে আমাদের কর্মপদ্ধতি শিক্ষা দিলেন, সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন, যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করবে। তারপর তোমাদের একজন ইমামতি করবে। যখন ইমাম তাকবীর বলবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর যখন (আরবী) “গাইরিল মাগদূবি আ‘লাইহিম ওয়াদ্দোয়াল্লীন” বলবে তখন তোমরা ‘আমীন’ বলবে। তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তা কবুল করবেন। আর যখন ইমাম তাকবীর বলে রুকূ করবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকূ করবে। আর ইমাম রুকূ করবে তোমাদের পূর্বে আর রুকূ থেকে উঠবে তোমাদের পূর্বে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, এটা তার পরিপূরক হবে। আর যখন ইমাম বলবে, ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্‌’। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কথা শুনবেন। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীর ভাষায় বলেন, যে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করে আল্লাহ তা শ্রবণ করেন। অতঃপর ইমাম যখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে তোমরা তখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, এটা তার পরিপূরক। আর যখন বৈঠকের নিকটবর্তী হবে তখন তোমাদের প্রথম কথা হবে (আরবি) এ সাতটি বাক্য হচ্ছে সালাতের পরিপূরক।


সুনান নাসাঈ অঃ->সালাত আরম্ভ করা বাব->অন্য আর এক প্রকার তাশাহহুদ হাঃ-১২৮০

(আবূ মূসা) আশ’আরী (রাঃ থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে (একদিন) খুতবায় আমাদের সুন্নাত শিক্ষা দিলেন, আমাদের সালাত সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা যখন সালাতে দাঁড়াবে তখন তোমাদের কাতার সোজা করে নেবে। তারপর তোমাদের একজন তোমাদের ইমামতি করবে। যখন সে তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে আর যখন সে ওয়ালাদদ্বাল্লীন বলবে, তোমরা তখন ‘আমীন’ বলবে, আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করবেন। তারপর যখন সে তাকবীর বলে রুকূতে যাবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকূতে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের পূর্বে রুকূতে যাবে এবং তোমাদের পূর্বে রুকূ থেকে উঠবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ (তোমাদের রুকূতে পরে যাওয়া এবং রুকূ থেকে পরে ওঠা) তার (ইমামের রুকূতে তোমাদের আগে যাওয়া ও তোমাদের আগে ওঠার) সমান হয়ে যাবে। আর যখন ইমাম ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে, তখন তোমরা ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবে। আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখ দ্বারা বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা’আলা তা শুনেন। তারপর যখন ইমাম তাকবীর বলে সিজদা করবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলে সিজদা করবে। কেননা, ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করবে এবং তোমাদের পূর্বে সিজদা থেকে ওঠবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ (তোমাদের সিজদায় ইমামের পরে যাওয়া ও পরে ওঠা) তাঁর (ইমামের) সিজদায় তোমাদের আগে যাওয়া ও আগে ওঠারও সমান হয়ে যাবে। আর যখন তোমরা বসবে তখন তোমাদের প্রত্যেকে বলবেঃ (আরবি)