সহিহ মুসলিম অঃ->মুসাফিরদের সালাত ও তার কসর বাব->রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব হাঃ-১৬৯৯

হুযায়ফাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাথে তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করলাম। তিনি সূরাহ্‌ আল বাক্বারাহ্‌ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ আয়াত পড়ে রুকু’ করবেন। কিন্তু এর পরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরা আল বাক্বারাহ্‌ ) দ্বারা পুরা দু’ রাকাত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকু করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরাহ নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সুরাহ্‌ আ-লি ‘ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন প্রার্থনা করছিলেন। অতঃপর তিনি রুকু’ করলেন। রুকু’তে তিনি বলতে থাকলেন, “সুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীম” (আমার মহান প্রভূ পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর রুকু’ ক্বিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তাঁর প্রশংসা করে) বললেনঃ এরপর যতক্ষন সময় রুকু’ করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সাজদাহ্‌ করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, “সুবহা-না রাব্বিয়াল আ’লা” (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভূ পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর এ সাজদায়ও প্রায় ক্বিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো। হাদীসটির বর্ণনা কারী বলেন যে, জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক আছেঃ তিনি [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু’ থেকে উঠে] বললেন, “সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- লাকাল হাম্‌দ” ( আল্লাহ শুনেন যে ব্যক্তি তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সব প্রশংসা)। ( ই.ফা. ১৬৮৪, ই.সে. ১৬৯১)


সুনান নাসাঈ অঃ->বিতর, তাহাজ্জুদ এবং দিনের নফল সালাত বাব->তাহাজ্জুদের সালাতে কিয়াম রুকূ, রুকূর পরে দাঁড়ানো সিজদা এবং উভয় সিজদার মধ্যে বসায় সমতা বিধান করা হাঃ-১৬৬৪

হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি একরাত্রে রাসূল্লুলাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে মনে বললাম যে, হয়তো তিনি একশত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে রুকূতে যাবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন, আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি দু’শত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করে রুকূতে যাবেন, কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, হয়তো তিনি পূর্ণ সূরা এক রাকআতেই তিলাওয়াত করে ফেলবেন। কিন্তু তিনি তিলাওয়াত চালিয়েই যেতে থাকলেন এবং সূরা “নিসা” শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তারপর সূরা “আলে-ইমরান” ও শুরু করে তাও তিলাওয়াত করে ফেললেন। তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। যদি তিনি এমন কোন আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন যাতে কোন তাসবীহ্‌ রয়েছে তবে তাসবীহ পাঠ করতেন, যদি কোন যাঞ্ছা করার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন তবে যাঞ্ছা করতেন। যদি কোন বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত তিলাওয়াত করে ফেলতেন, তবে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তারপর রুকূ করতেন এবং বলতেন, “সুবাহানা রাব্বিয়াল আজীম” তাঁর রুকূ প্রায় তাঁর কিয়ামের সমান হত। পরে তাঁর মাথা উঠাতেন এবং বলতেন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদা”। তাঁর দাঁড়ানো প্রায় তাঁর রুকূর সমান হত। তারপর সিজদা করতেন এবং বলতেন, “সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা”। তাঁর সিজদা প্রায় তাঁর রুকূ’র সমান হত।