‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকূ’র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এমন করতেন এবং ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ বলতেন।তবে সিজদার সময় এরূপ করতেন না।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম যখন 'سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه' বলেন, তখন তোমরা 'اللَّهُمَّ رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ' বলবে। কেননা, যার এ উক্তি ফেরেশতাগণের উক্তির সঙ্গে একই সময়ে উচ্চারিত হয়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (সালাতে) ইমাম যখন --------------- বলবে, তখন তোমরা বলবে--------------------- (হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক। আপনার জন্য সকল প্রশংসা) কেননা যার এ উক্তি ফেরেশতাগণের উক্তির সঙ্গে মিলে যাবে, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকবীর বলতেন, কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা তুলতেন তখন “সামি’আল্ল-হ লিমান হামিদাহ” বলতেন এবং অনুরূপ (কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন) করতেন। (ই. ফা. ৭৪৯, ই. সে. ৭৬২)
ওয়ায়িল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে দেখলেন, তিনি সলাত শুরু করার সময় দুই হাত তুললেন এবং তাকবীর বললেন। হাম্মামের বর্ণনায় আছে, তিনি দুই হাত কান পর্যন্ত উঠালেন ; অতঃপর চাদরে ঢেকে নিলেন এবং ডান হাত বাঁ হাতের উপর রাখলেন। তিনি যখন রুকু’তে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের করলেন, অতঃপর উভয় হাত উত্তোলন করলেন, অতঃপর তাকবীর বলে রুকু’তে গেলেন, তিনি যখন ‘সামিয়াল্লা-হু লিমান হামিদাহ’ বললেন দু’হাত উঠালেন। তিনি যখন সাজদায় গেলেন, দু’হাতের মাঝখানে সাজদাহ্ করলেন। [ই.ফা.৭৭৯, ই.সে. ৭৯১]
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি:) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ; ইমাম ঢাল স্বরূপ। সে যখন বসে বসে সলাত আদায় করে- তোমরাও বসে বসে সলাত আদায় করো। সে যখন ‘সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ’ বলে তোমরা তখন ‘আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। জমিনবাসীর কথা আকাশমণ্ডলীর (ফেরেশতার) কথার সঙ্গে একত্রে উচ্চারিত হলে আল্লাহ তার (বান্দার) পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (ই.ফা. ৮১৭, ই.সে.৮২৯)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে যেরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সলাত আদায় করেছি অনুরূপ আর কারো পিছনে আদায় করিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাতের (রুকনগুলোর সময়ের) পরিমাণ প্রায় কাছকাছি ছিল। আবূ বকর (রাঃ) -এর সলাতের (রুকনগুলোও) পরস্পর কাছকাছি ছিল। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব তাঁর সময়ে ফযরের সলাত দীর্ঘ করে দেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে দাঁড়িয়ে যেতেন -এমনকি আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি সাজদায় যেতেন। দু’সাজদার মাঝখানে তিনি এতক্ষণ বসতেন যে, আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (পরবর্তী সিজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। (ই.ফা. ৯৪৩, ই.সে. ৯৫৪)
’আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমাকে বারা (রাঃ) এ হাদীস বলেছেন। তিনি মিথ্যাবাদী নন। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন- আমাদের কেউই (সাজদায় যাওয়ার জন্য) পিঠ বাঁকা করত না যতক্ষণ পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদায় না যেতেন। তাঁর পরে আমরা সাজদায় যেতাম। (ই.ফা. ৯৪৫, ই.সে. ৯৫৬)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন,আমাদেরকে বারা (রাঃ) বলেছেন, তাঁরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করতেন। তিনি যখন রুকু‘তে যেতেন, তারাও রুকু‘তে যেতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু‘ থেকে মাথা তোলার সময় “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন। আমরা দাঁড়িয়ে থাকতাম, এমনকি যখন দেখতাম তিনি তাঁর কপাল মাটিতে রেখেছেন তখন আমরা তাঁর অনুসরণ করতাম। (ই.ফা. ৯৪৬, ই.সে. ৯৫৭)
মুহারিব ইবনু দিসার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনলাম, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট আল-বারাআ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সলাত আদায় করতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকু‘ করতেন, তখন তারাও রুকু‘ করতেন। তিনি যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন, তখন তাঁরা দাঁড়িয়ে থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন (সাজদায়) জমিনে কপাল রাখতেন, তখন তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অনুসরণ করতেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্” বললে তোমরা বলবেঃ “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ”। কেননা যার এ উক্তি ফেরেশতাদের উক্তির সাথে একই সময়ে উচ্চারিত হবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন সংক্ষেপে অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে সালাত আদায় করতেন, আমি এরূপ সালাত অন্য কারো পিছনে আদায় করিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমাদের মনে হতো যে, তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সাজদাহ্ করতেন এবং দু’ সাজদাহ্র মধ্যবরতী সময়ে এতো দীর্ঘক্ষণ বসতেন যে, আমাদের মনে হতো তিনি দ্বিতীয় সাজদাহ্র কথা হয়তো ভুলে গেছেন। সহীহঃ মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরো এক মাস যুহর, ‘আসর মাগরিব, ‘ইশা ও ফাজ্রের সলাতে শেষ রাকা‘আতে “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর কুনূত পাঠ করেছেন। এ সময় তিনি বনু সুলাইমের কয়েকটি গোত্র, যেমন রি‘ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যার উপর বদদু‘আ করেছেন এবং তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা আমীন আমীন বলেছেন।
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” বলেন তখন তোমরা বলবে “রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ” (হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য)। [৮৭৪]
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেনঃ ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ’। [৮৭৫]
হারিস বিন রিবঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দশ জন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের ব্যপারে আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত। তারা বলেন, তা কিভাবে? আল্লাহ্র শপথ! আপনি আমাদের চেয়ে অধিক কাল তাঁর অনুসারণকারী নন এবং তাঁর সাহচর্য লাভের দিক থেকেও আমাদের অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। তারা বলেন, তাহলে আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন, তারপর তাঁর উভয় হাত তাঁর দু’ কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির থাকতো। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়তেন, অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তারপর তিনি রুকূ’ করতেন এবং রুকূ’তে তাঁর উভয় হাত যথাযথভাবে দু’ হাঁটুর উপর রাখতেন, তাঁর মাথা অধিক উঁচু বা নিচু না করে সমানভাবে রাখতেন। অতঃপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে উভয় হাত উভয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি যমীনের দিকে (সিজদায়) ঝুঁকে যেতেন এবং পার্শ্বদেশ থেকে উভয় হাত আলাদা রাখতেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় উভয় পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে খাড়া রাখতেন, তারপর সিজদা করতেন, অতঃপর তাকবীর বলে (সিজদা থেকে উঠে) বাম পায়ের উপর বসতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বস্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতেও প্রথম রাকাআতের অনুরূপ করতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাআত থেকে দাঁড়ানোর সময় তাঁর উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমন উঠাতেন সালাত শুরু করার সময়। তিনি অবশিষ্ট সালাত এভাবে পড়তেন। শেষ সিজদা করে তিনি সালাম ফিরিয়ে এক পা আগে-পিছে করে, বাম দিকের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তারা বলেন, আপনি যথার্থই বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবেই সালাত আদায় করতেন। [১০৬১]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে, তোমরা তখন ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বল। কেননা যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাউদ-(৭৯৪), বুখারী ও মুসলিম।
ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখেছি, যখন তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন উভয় হাত উঠাতেন। এমনকি তাঁর হাত দু'খানা দু' কাঁধের বরাবর হয়ে যেত। এরপর তিনি তাকবীর বলতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এরুপ করতেন যখন তিনি রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন। আর যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন আর বলতেনঃ সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ্। আর তিনি সিজদায় এরূপ করতেন না।
ওয়ায়িল ইবনে হুজর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। আমি তাঁকে দেখেছি তিনি হাত উঠাতেন যখন সালাত আরম্ভ করতেন আর যখন রুকূ করতেন এবং যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা’ বলতেন, এরূপে। (এ বলে হাদীসের অন্যতম রাবী) কায়স ইঙ্গিত করলেন উভয় কানের দিকে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন ইমাম ‘ সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তখন তোমরা ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলবে। কেননা, যার কথা ফেরেশতার কথার মত হবে তাঁর পূর্বকৃত পাপ মার্জনা করা হবে।
ইব্ন সীরীন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করেছেন তাদের কেউ আমার কাছে রেওয়ায়েত করেছেন যে, যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাআতে (আরবী) বললেন, তখন কিছুক্ষন দাঁড়ালেন।
ওয়ায়িল ইব্ন হুজর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি মদীনায় আগমন করে বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত প্রত্যক্ষ করবো। তিনি তাকবীর বললেন, এবং তাঁর হাতদ্বয় তুললেন যাতে দেখলাম তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় তাঁর কানের নিকটে। যখন তিনি রুকূ করতে ইচ্ছা করলেন তখন তাকবীর বললেন এবং তাঁর হাতদ্বয় তুললেন। অতঃপর তাঁর মাথা ওঠালেন এবং বললেন, ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’। তারপর তাকবীর বললেন এবং সিজদা করলেন। তখন তাঁর হাতদ্বয় কানের ঐস্থানে ছিলো, যেখানে সালাত আরম্ভ করার সময় ছিল।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আযাদকৃত গোলাম আবূ হাফসা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়েশা (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ লেগে গেল, তখন তিনি উযূ করলেন এবং নির্দেশ দিলে আওয়াজ দেওয়া হল যে, সালাত অনুষ্ঠিত হবে। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সালাতে দাঁড়ানোকে দীর্ঘায়িত করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি অনুমান করলাম যে, তিনি সূরা বাকারা পড়েছিলেন, তারপর রুকূ করলেন এবং রুকূকে দীর্ঘায়িত করলেন। এরপরে বললেন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” তারপর দাঁড়ালেন পূর্বের দাঁড়ানোর সমপরিমাণ কিন্তু সিজদা করলেন না। পরে রুকূ করলেন এবং সিজদা করলেন, এরপর দাঁড়ালেন এবং পূর্বের মতই দু’রুকূ এবং সিজদা করলেন। তারপর বসলেন এবং সূর্যের গ্রহণও ছেড়ে গেল।