‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ’তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই ভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ ও ‘رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ’ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এরুপ করতেন না।
‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকূ’র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এ রকম করতেন। আবার যখন রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এমন করতেন এবং ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ বলতেন।তবে সিজদার সময় এরূপ করতেন না।
মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকবীর বলতেন, কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা তুলতেন তখন “সামি’আল্ল-হ লিমান হামিদাহ” বলতেন এবং অনুরূপ (কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন) করতেন। (ই. ফা. ৭৪৯, ই. সে. ৭৬২)
কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
উল্লেখিত সানাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভাষায় বলেনঃ ‘সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন। ( ই. ফা. ৭৮৯, ই. সে. ৮০১)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেনঃ ইমাম যখন “সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরা তখন “আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বল। কেননা যার এ কথা মালায়িকাদের (ফেরেশতাদের) কথার সাথে মিলে যাবে তার আগের গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হবে। (ই.ফা. ৭৯৬ , ই.সে. ৮০৮)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন , নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলেন। ফলে তাঁর শরীরের ডানপাশ আহত হল। আমরা তাঁকে দেখতে গেলাম। ইতিমধ্যে সলাতের সময় হয়ে গেল। তিনি আমাদের নিয়ে বসে বসে সলাত আদায় করলেন। আমরাও তার পেছনে বসে সলাত আদায় করলাম। তিনি সলাত শেষ করে বললেনঃ ইমাম এজন্যই বানানো হয় যে, তার অনুসরন করা হবে। অতএব সে যখন আল্ল-হু আকবার বলে তোমরাও ‘আল্ল-হু আকবার’ বল। সে যখন সাজদাহ্ করে , তোমরাও সাজদাহ্ কর।সে যখন হাত উঁচু করে দাঁড়ায় তোমরাও হাত উঁচু করে দাঁড়াও। সে যখন ‘সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলে, তোমরা তখন ‘রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ” বল। সে যখন বসে সলাত আদায় করে (ইমামতি করে) , তোমরাও সবাই মিলে বসে সলাত আদায় কর। (ই.ফা.৮০৪, ই.সে. ৮১৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ইমাম এজন্য নিযুক্ত করা হয় যে, তার অনুসরন করা হবে, তোমরা কখনো তার উল্টো করো না। সে যখন আল্ল-হু আকবার বলে, তোমরাও ‘আল্ল-হু আকবার’ বলো। সে যখন রুকু‘ করে, তোমরাও তখন রুকু‘ করো। সে যখন “সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরাও তখন ‘আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলো। সে যখন সাজদায় যায়, তোমরাও তখন সাজদায় যাও। সে যখন বসে সলাত আদায় করে, তোমরাও সবাই মিলে বসে সলাত আদায় করো। (ই.ফ.৮১৩, ই.সে. ৮২৫)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে (সলাতের ) শিক্ষা দিয়ে বলতেনঃ ইমামের আগে কোন কাজ করো না। সে যখন ‘আল্লা-হু আকবার’ বলে, তোমরা ‘আল্লা-হু আকবার’ বলো। সে যখন,’ওয়ালায্ যোয়া-ল্লীন’ বলে, তোমরাও তখন ‘আ-মীন’ বল। সে যখন রুকুতে যায়, তোমরাও তখন রুকুতে যাও। সে যখন “সামি ‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে তোমরা তখন “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। (ই.ফা.৮১৫,ই.সে.৮২৭)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি:) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ; ইমাম ঢাল স্বরূপ। সে যখন বসে বসে সলাত আদায় করে- তোমরাও বসে বসে সলাত আদায় করো। সে যখন ‘সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ’ বলে তোমরা তখন ‘আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। জমিনবাসীর কথা আকাশমণ্ডলীর (ফেরেশতার) কথার সঙ্গে একত্রে উচ্চারিত হলে আল্লাহ তার (বান্দার) পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (ই.ফা. ৮১৭, ই.সে.৮২৯)
আবূ হুরাইয়াহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম এ জন্য নিযুক্ত করা হয় যে ,তার অনুসরন করা হবে। সে যখন তাকবীর বলে- তোমরাও তাকবীর বলো। সে যখন সাজদাহ্ করে, তোমরাও সাজদাহ্ করো। সে যখন “সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলে-তোমরা তখন “আল্ল-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ” বলো। সে যখন দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করে তোমরাও দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করো। সে যখন বসে সলাত আদায় করে তোমরাও সবাই মিলে বসে সলাত আদায় করো। (ই.ফা.৮১৮, ই.সে.৮৩০)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে যেরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ সলাত আদায় করেছি অনুরূপ আর কারো পিছনে আদায় করিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাতের (রুকনগুলোর সময়ের) পরিমাণ প্রায় কাছকাছি ছিল। আবূ বকর (রাঃ) -এর সলাতের (রুকনগুলোও) পরস্পর কাছকাছি ছিল। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব তাঁর সময়ে ফযরের সলাত দীর্ঘ করে দেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে দাঁড়িয়ে যেতেন -এমনকি আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (সাজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি সাজদায় যেতেন। দু’সাজদার মাঝখানে তিনি এতক্ষণ বসতেন যে, আমরা (মনে মনে) বলতাম, তিনি (পরবর্তী সিজদায় যেতে) ভুলে গেছেন। (ই.ফা. ৯৪৩, ই.সে. ৯৫৪)
’আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমাকে বারা (রাঃ) এ হাদীস বলেছেন। তিনি মিথ্যাবাদী নন। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন- আমাদের কেউই (সাজদায় যাওয়ার জন্য) পিঠ বাঁকা করত না যতক্ষণ পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদায় না যেতেন। তাঁর পরে আমরা সাজদায় যেতাম। (ই.ফা. ৯৪৫, ই.সে. ৯৫৬)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন,আমাদেরকে বারা (রাঃ) বলেছেন, তাঁরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করতেন। তিনি যখন রুকু‘তে যেতেন, তারাও রুকু‘তে যেতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু‘ থেকে মাথা তোলার সময় “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন। আমরা দাঁড়িয়ে থাকতাম, এমনকি যখন দেখতাম তিনি তাঁর কপাল মাটিতে রেখেছেন তখন আমরা তাঁর অনুসরণ করতাম। (ই.ফা. ৯৪৬, ই.সে. ৯৫৭)
ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকু‘ থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ, আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল আল আরযি ওয়ামিল্আ মা-শি’তা মিন্ শাইয়িন্ বা‘দু।” অর্থাৎ, “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য-যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।” (ই.ফা. ৯৪৯, ই.সে. ৯৬০)
আ’রাজ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেনঃ সলাত শুরু করার সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীর বলতেনঃ তারপরে “ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী” বলতেন। এরপর শেষের দিকে “ওয়া আনা-আও্ওয়ালুল মুসলিমীন” বলতেন। এ হাদীসে তিনি আর বলেছেনঃ যখন তিনি রুকু’ থেকে মাথা উঠাতেন তখন “সামি ‘আল্ল-হু-লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হাম্দ” এবং তিনি “ওয়া সাও্ওয়ারাহূ ফা আহ্সানা সুওয়ারাহূ” –ও বলতেন (অর্থাৎ তিনি আকৃতি দান করেছেন এবং উত্তম আকৃতি দান করেছেন)। এ বর্ণনাতে আরো আছে, তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন “আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী মা-ক্বদ্দামতু” কথাটি থেকে শুরু করে পূর্বোক্ত হাদীসের শেষ পর্যন্ত বলতেন। আর তিনি তাশাহুদ ও সালামের কথা বলেননি। (ই.ফা. ১৬৮৩, ই.সে. ১৬৯০)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়ায় সওয়ার হন এবং ঘোড়ার পিঠ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি ডান পাঁজরে ব্যাথা পান। ফলে তিনি কোন এক ওয়াক্তের সলাত বসে আদায় করেন। আমরাও তাঁর পেছনে বসে সলাত আদায় করলাম। সলাত শেষে তিনি বললেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন তার অনুসরণ করা হয়। ইমাম দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলে তোমরাও তখন দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে। ইমাম রুকু’ করলে তখন তোমরা ও রুকু’ করবে। ইমাম মাথা উঠালে তোমরাও তখন মাথা উঠাবে। আর ইমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বললে তোমরা বলবে, “রব্বানা লাকাল হামদ”। আর ইমাম বসে সলাত আদায় করলে তোমরা সকলেই বসে সলাত আদায় করবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম
মুহারিব ইবনু দিসার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনলাম, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট আল-বারাআ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সলাত আদায় করতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকু‘ করতেন, তখন তারাও রুকু‘ করতেন। তিনি যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন, তখন তাঁরা দাঁড়িয়ে থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন (সাজদায়) জমিনে কপাল রাখতেন, তখন তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অনুসরণ করতেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্” বললে তোমরা বলবেঃ “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ”। কেননা যার এ উক্তি ফেরেশতাদের উক্তির সাথে একই সময়ে উচ্চারিত হবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন সংক্ষেপে অথচ পূর্ণাঙ্গভাবে সালাত আদায় করতেন, আমি এরূপ সালাত অন্য কারো পিছনে আদায় করিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমাদের মনে হতো যে, তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সাজদাহ্ করতেন এবং দু’ সাজদাহ্র মধ্যবরতী সময়ে এতো দীর্ঘক্ষণ বসতেন যে, আমাদের মনে হতো তিনি দ্বিতীয় সাজদাহ্র কথা হয়তো ভুলে গেছেন। সহীহঃ মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরো এক মাস যুহর, ‘আসর মাগরিব, ‘ইশা ও ফাজ্রের সলাতে শেষ রাকা‘আতে “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর কুনূত পাঠ করেছেন। এ সময় তিনি বনু সুলাইমের কয়েকটি গোত্র, যেমন রি‘ল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যার উপর বদদু‘আ করেছেন এবং তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা আমীন আমীন বলেছেন।
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” বলেন তখন তোমরা বলবে “রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ” (হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য)। [৮৭৪]
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেনঃ ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ’। [৮৭৫]
বিন আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকূ থেকে মাথা তুলতেন তখন বলতেন (অনুবাদ) - “ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন। আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা, আকাশমণ্ডলী, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ”। [৮৭৬]
হারিস বিন রিবঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দশ জন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের ব্যপারে আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত। তারা বলেন, তা কিভাবে? আল্লাহ্র শপথ! আপনি আমাদের চেয়ে অধিক কাল তাঁর অনুসারণকারী নন এবং তাঁর সাহচর্য লাভের দিক থেকেও আমাদের অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। তারা বলেন, তাহলে আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন, তারপর তাঁর উভয় হাত তাঁর দু’ কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির থাকতো। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়তেন, অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তারপর তিনি রুকূ’ করতেন এবং রুকূ’তে তাঁর উভয় হাত যথাযথভাবে দু’ হাঁটুর উপর রাখতেন, তাঁর মাথা অধিক উঁচু বা নিচু না করে সমানভাবে রাখতেন। অতঃপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে উভয় হাত উভয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি যমীনের দিকে (সিজদায়) ঝুঁকে যেতেন এবং পার্শ্বদেশ থেকে উভয় হাত আলাদা রাখতেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় উভয় পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে খাড়া রাখতেন, তারপর সিজদা করতেন, অতঃপর তাকবীর বলে (সিজদা থেকে উঠে) বাম পায়ের উপর বসতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বস্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতেও প্রথম রাকাআতের অনুরূপ করতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাআত থেকে দাঁড়ানোর সময় তাঁর উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমন উঠাতেন সালাত শুরু করার সময়। তিনি অবশিষ্ট সালাত এভাবে পড়তেন। শেষ সিজদা করে তিনি সালাম ফিরিয়ে এক পা আগে-পিছে করে, বাম দিকের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তারা বলেন, আপনি যথার্থই বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবেই সালাত আদায় করতেন। [১০৬১]
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়ার পিঠ থেকে নিক্ষিপ্ত হলে তাঁর ডান পার্শ্বদেশ আহত হয়। আমরা তাঁকে দেখতে গেলাম। সলাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তিনি বসা অবস্থায় আমাদের সালাত পড়ান এবং আমরাও তাঁর পেছনে বসা অবস্থায় সালাত পড়ি। তিনি সালাত শেষ করে বলেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো, তিনি যখন রুকূ‘ করেন, তোমরাও রুকূ‘ করো, তিনি যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তোমরা বলো, ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ’। তিনি যখন সাজদাহ করেন, তোমরাও সাজদাহ করো এবং তিনি যখন বসা অবস্থায় সালাত পড়েন, তোমরাও সকলে বসা অবস্থায় সালাত পড়ো। [১২৩৮]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। অতএব তিনি যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো, তিনি যখন রুকূ‘তে যান, তোমরাও রুকূ‘তে যাও, তিনি যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলেন, তোমরা তখন ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ বলো, তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত পড়লে তোমরাও দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত পড়ো এবং তিনি বসা অবস্থায় সালাত পড়লে তোমরাও বসা অবস্থায় সালাত পড়ো। [১২৩৯]
‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ হতে মাথা উঠানোর সময় বলতেনঃ “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মা বাইনাহুমা ওয়া মিলআ মাশি’তা মিন শাই-ইম বাদু”। সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাঊদ-(৭৩৮), মুসলিম।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে, তোমরা তখন ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বল। কেননা যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাউদ-(৭৯৪), বুখারী ও মুসলিম।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, কোন এক সময়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে গিয়ে আহত হলেন। তিনি বসে বসে আমাদের নামায আদায় করালেন, আমরাও তাঁর সাথে বসে বসে নামায আদায় করলাম। নামায হতে ফিরে তিনি বললেনঃ ইমাম এজন্যই নিযুক্ত করা হয় যাতে তার অনুসরণ করা হয়। যখন সে আল্লাহু আকবার বলবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন সে রুকূতে যাবে তোমরাও রুকূতে যাবে; যখন সে মাথা তুলবে তোমরাও মাথা তুলবে; যখন সে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে তোমরা তখন ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বল; যখন তিনি সাজদাহ্তে যান তোমরাও সিজদায় যাও; যখন তিনি বসে নামায আদায় করেন তোমরাও সবাই বসে নামায আদায় কর। সহীহ। ইবনু মাজাহ-(১২৩৮), বুখারী ও মুসলিম।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(একদা) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়া থেকে ডানদিকে পড়ে গেলেন। লোক তাঁকে দেখতে (তাঁর ঘরে) প্রবেশ করল। ইতিমধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হল। তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ ইমাম বানানো হয় তার অনুসরণ করার জন্য। যখন তিনি রুকূ করেন, তখন তোমরাও রুকূ করবে। আর যখন মাথা উঠান, তোমরাও মাথা উঠাবে আর যখন সিজদা করেন, তোমরাও সিজদা করবে। আর যখন ইমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলেন, তখন তোমরা বলবে রাব্বানা লাকাল্ হাম্দ।
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ঘোড়ায় আরোহণ করলেন এবং তা থেকে পড়ে তাঁর ডান পাঁজরে আঘাত পেলেন। এরপর এক ওয়াক্ত সালাত বসে আদায় করলেন, আমরাও তাঁর পেছনে বসে সালাত আদায় করি। সালাত শেষ করে তিনি বললেনঃ ইমাম নিযুক্ত হয় তার অনুসরণ করার জন্য। ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। যখন ইমাম (আরবী) বলেন, তখন তোমরা বলবে (আরবী) আর যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরা সকলেই বসে সালাত আদায় করবে। [১]
ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখেছি, যখন তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন উভয় হাত উঠাতেন। এমনকি তাঁর হাত দু'খানা দু' কাঁধের বরাবর হয়ে যেত। এরপর তিনি তাকবীর বলতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এরুপ করতেন যখন তিনি রুকুর জন্য তাকবীর বলতেন। আর যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন আর বলতেনঃ সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ্। আর তিনি সিজদায় এরূপ করতেন না।
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন দু'কাঁধ পর্যন্ত তাঁর উভয় হাত তুলতেন। আর যখন রুকূ করতেন এবং রুকূ থেকে মাথা তুলতেন তখনও দু'হাত এভাবে তুলতেন এবং বলতেনঃ সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ। আর তিনি সিজদার সময় এরূপ করতেন না।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর অনুসরণ করার জন্য। অতএব, যখন সে তাকবীর বলে তখন তোমরাও তাকবীর বল, আর যখন সে কুরআন পড়ে তখন তোমরা চুপ থাকবে, আর যখন তিনি বলেন, ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর অনুসরণ করার জন্য। অতএব, যখন সে তাকবীর বলে তখন তোমরাও তাকবীর বল, আর যখন সে কুরআন পড়ে তখন তোমরা চুপ থাকবে, আর যখন তিনি বলেন, ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর অনুসরণ করার জন্য। অতএব, যখন সে তাকবীর বলে তখন তোমরাও তাকবীর বল, আর যখন সে কুরআন পড়ে তখন তোমরা চুপ থাকবে, আর যখন তিনি বলেন, ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’।
ওয়ায়িল ইবনে হুজর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। আমি তাঁকে দেখেছি তিনি হাত উঠাতেন যখন সালাত আরম্ভ করতেন আর যখন রুকূ করতেন এবং যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা’ বলতেন, এরূপে। (এ বলে হাদীসের অন্যতম রাবী) কায়স ইঙ্গিত করলেন উভয় কানের দিকে।
ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত আদায় আরম্ভ করতেন, তখন তাঁর হাতদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। আর যখন রুকূর জন্য তাকবীর বলতেন এবং রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, তখন হাতদ্বয় এরূপ উঠাতেন এবং বলতেন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা’ ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। আর তিনি সিজদায় এরূপ করতেন না।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়া থেকে ডান কাতে পড়ে গেলেন। তখন লোক তাঁকে দেখার জন্য আসলেন। এমতাবস্থায় সালাতের সময় উপস্থিত হল। তিনি সালাত শেষ করে বললেন, ইমাম তো হন এজন্য তাঁর ইকতিদা করা হবে। যখন সে রুকূ করবে তখন তোমরাও রুকূ করবে। আর যখন সে উঠবে তখন তোমরাও উঠবে। আর যখন ইমাম ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে তখন তোমরা ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলবে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন ইমাম ‘ সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তখন তোমরা ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলবে। কেননা, যার কথা ফেরেশতার কথার মত হবে তাঁর পূর্বকৃত পাপ মার্জনা করা হবে।
আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন, তখন বলেতেন- (আরবী)।
ইব্ন সীরীন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করেছেন তাদের কেউ আমার কাছে রেওয়ায়েত করেছেন যে, যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাআতে (আরবী) বললেন, তখন কিছুক্ষন দাঁড়ালেন।
ওয়ায়িল ইব্ন হুজর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি মদীনায় আগমন করে বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত প্রত্যক্ষ করবো। তিনি তাকবীর বললেন, এবং তাঁর হাতদ্বয় তুললেন যাতে দেখলাম তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় তাঁর কানের নিকটে। যখন তিনি রুকূ করতে ইচ্ছা করলেন তখন তাকবীর বললেন এবং তাঁর হাতদ্বয় তুললেন। অতঃপর তাঁর মাথা ওঠালেন এবং বললেন, ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’। তারপর তাকবীর বললেন এবং সিজদা করলেন। তখন তাঁর হাতদ্বয় কানের ঐস্থানে ছিলো, যেখানে সালাত আরম্ভ করার সময় ছিল।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আযাদকৃত গোলাম আবূ হাফসা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আয়েশা (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ লেগে গেল, তখন তিনি উযূ করলেন এবং নির্দেশ দিলে আওয়াজ দেওয়া হল যে, সালাত অনুষ্ঠিত হবে। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সালাতে দাঁড়ানোকে দীর্ঘায়িত করলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি অনুমান করলাম যে, তিনি সূরা বাকারা পড়েছিলেন, তারপর রুকূ করলেন এবং রুকূকে দীর্ঘায়িত করলেন। এরপরে বললেন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” তারপর দাঁড়ালেন পূর্বের দাঁড়ানোর সমপরিমাণ কিন্তু সিজদা করলেন না। পরে রুকূ করলেন এবং সিজদা করলেন, এরপর দাঁড়ালেন এবং পূর্বের মতই দু’রুকূ এবং সিজদা করলেন। তারপর বসলেন এবং সূর্যের গ্রহণও ছেড়ে গেল।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি চার রাকাআত সালাত আদায় করেছিলেন চার সিজদা দ্বারা এবং তাতে কিরাআত উচ্চস্বরে পড়েছিলেন। যখন মাথা তুলতেন বলতেন, “সামি আল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ।”