‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
জনৈক ইয়াহূদী তাঁকে বললঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহূদী জাতির উপর অবতীর্ণ হত, তবে অবশ্যই আমরা সে দিনকে খুশীর দিন হিসেবে পালন করতাম। তিনি বললেন, কোন আয়াত? সে বললঃ “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম” –(সূরাহ্ মায়িদাহ্ ৫/৩)। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এটি যে দিনে এবং যে স্থানে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমরা জানি; তিনি সেদিন ‘আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন আর সেটা ছিল জুমু‘আহ্র দিন। (৪৪০৭, ৪৬০৬, ৭২৬৮; মুসলিম ৪৩/১ হাঃ ৩০১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩)
ত্বরিক ইবনু শিহাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদল ইয়াহূদী বলল, যদি এ আয়াত আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হত, তাহলে আমরা উক্ত অবতরণের দিনকে ‘ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করতাম। তখন ‘উমার (রাঃ) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ আয়াত? তারা বলল, এই আয়াতঃ فَقَالُوا الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمْ الإِسْلَامَ دِيْنًا ‘‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন (জীবন-বিধান)-কে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামাত পরিপূর্ণ করলাম’’- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩)। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, কোন্ স্থানে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমি জানি। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ্য় দন্ডায়মান অবস্থায় ছিলেন। [৪৫, ৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৫৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪০৬১)
ত্বারিক ইব্নু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইয়াহূদীদের এক লোক ‘উমর (রাঃ) - কে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমাদের উপর যদি এ আয়াতঃ “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নি’মাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম” - (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩) অবতীর্ণ হত, তাহলে সে দিনটিকে আমরা অবশ্যই ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করতাম। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই জানি এ আয়াতটি কোন্ দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আরাফাহ্র দিন জুমু‘আহ্র দিনে এ আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। হাদীসটি সুফিয়ান (রহঃ) মিসআর (রহঃ) থেকে, মিস্আর কায়স থেকে কায়স (রহঃ) তারিক থেকে শুনেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭২)
তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইয়াহূদী লোকেরা ‘উমার (রাঃ)-কে বলল, তোমরা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকো তা যদি আমাদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হত, তবে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসবের দিন হিসেবে পালন করতাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি, ঐ আয়াতটি কখন, কোথায় ও কোন্ দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আর যখন তা অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোথায় অবস্থান করছিলেন তাও জানি। আয়াতটি ‘আরাফার দিন অবতীর্ণ হয়েছিল, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন ‘আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন। রাবী সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেন, “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নি‘আমাত তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিলাম”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫:৩)। এ আয়াতটি যেদিন অবতীর্ণ হয়েছিল তা জুমু’আর দিন ছিল কি-না, এ বিষয়ে আমি সন্দিহান। (ই.ফা. ৭২৪৪, ই.সে. ৭২৯৯)
তারিক ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী ব্যক্তি ‘উমার (রাঃ) –এর কাছে এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কিতাবের মধ্যে এমন একটি আয়াত আপনারা তিলওয়াত করে থাকেন। যদি তা আমাদের ইয়াহূদী সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হত তাহলে ঐ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। ‘উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আয়াতটি কি? সে বলল, আয়াতটি হলো, (আরবী) অর্থাৎ “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম”-(সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ :৩)। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, যে দিন, যে স্থানে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে অবশ্যই আমি তা জানি। আয়াতটি জুমু’আর দিন ‘আরাফাতের মাঠে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (ই.ফা. ৭২৪৬, ই.সে. ৭৩০১)
তারিক্ব ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম” – (সূরা আল –মায়িদাহ্ : ৩) আয়াতটি যদি আমাদের উপর অবতীর্ণ হত তাহলে আমরা উক্ত দিনকে ঈদের (উৎসবের) দিন হিসেবে নির্দ্ধারণ করতাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই আমি জানি কোন দিন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। এটি (বিদায় হাজ্জে) ‘আরাফার দিন শুক্রবারে অবতীর্ণ হয়েছিল। সহীহ : বুখারী (৪৬০৬), মুসলিম।
তারিক ইব্ন শিহাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক ইয়াহূদী উমর (রাঃ) -কে বললেন : যদি (আরবী) (আজ তোমাদেরকে দীনকে পরিপূর্ণতা দান করলাম . . . .) আয়াতটি আমাদের উপর নাযিল হতো, তাহলে আমরা ঐ দিনকে ঈদের (জাতীয় উৎসবের) দিন হিসেবে পালন করতাম। উমর (রাঃ) বলেন : আমি জানি যেদিনটিতে ঐ আয়াতটি নাযিল হয়েছে, আর যে রাতে তা অবতীর্ণ হয়েছে। তা ছিল জুমুআর রাত, আর তখন আমরা ছিলাম রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আরাফাতে।
তারিক ইব্ন শিহাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক ইহুদী উমর ইব্ন খাত্তাবের নিকট এসে বললোঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কুরআনে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, যদি ঐ আয়াতটি ইয়াহূদীদের উপর নাযিল হতো, তবে আমরা ঐ দিনকে ঈদের দিন হিসাবে ধার্য করতাম। তিনি বললেনঃ তা কোন আয়াত? সে বললোঃ তা হলো (আরবী)। উমর (রাঃ) বললেনঃ যে স্থানে, যে সময় ঐ আয়াত নাযিল হয়েছে, তা আমার জানা আছে। ঐ আয়াত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর উপর আরাফাতে শুক্রবারে নাযিল হয়।