আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি কবরের শাস্তি হতে, জাহান্নামের শাস্তি হতে, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা হতে।
‘আম্র ইব্নু মায়মূন আউদী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
শিক্ষক যেমন ছাত্রদের লেখা শিক্ষা দেন, সা’দ (রাঃ) তেমনি তাঁর সন্তানদের এ বাক্যগুলো শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের পর এগুলো থেকে পানাহ চাইতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি ভীরুতা, অতি বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই।’ রাবী বলেন আমি মুস‘আব (রাঃ)-এর নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি এটির সত্যতা স্বীকার করেন।
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দু‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি অক্ষমতা, ভীরুতা ও বার্ধক্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি এবং জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।’
আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু‘আ করতেন (হে আল্লাহ্!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, চলৎশক্তিহীন বয়স থেকে, কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিত্না থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিত্না থেকে। [২৮২৩] (আ.প্র. ৪৩৪৭, ই.ফা. ৪৩৪৭)
মুস'আব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
মুস'আব (রহঃ) বর্ণনা করেন, সা'দ পাঁচটি জিনিস হতে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি এগুলো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে উল্লেখ করতেন। তিনি এগুলো থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় চেয়ে এ দু'আ পড়তে নির্দেশ দিতেন : হে আল্লাহ্! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আমি কাপুরুষতা হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি অবহেলিত বার্ধ্যক্যে উপনীত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর আমি দুনিয়ার ফিত্না অর্থাৎ দাজ্জালের ফিত্না থেকেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি ক্ববরের আযাব হতেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১২)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রায়ই বলতেন : হে আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা এবং অত্যধিক বার্ধক্য থেকে। আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি, ক্ববরের আযাব হতে। আর আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিত্না হতে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৪)
সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি পাঁচটি কার্য থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকেই বর্ণনা করতেন। তিনি দু'আ করতেন : হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা থেকে, আমি আশ্রয় চাচ্ছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আশ্রয় চাচ্ছি অবহেলিত বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার বড় ফিত্না (দাজ্জালের ফিত্না) থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের শাস্তি হতে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৭)
সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সব বাক্য দিয়ে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, সে সব দ্বারা তোমরাও আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি বলতেন : হে আল্লাহ্! আমি কাপুরুষতা থেকে, আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আমি বার্ধক্যের আসহায়ত্ব থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি দুনিয়ার ফিত্না ও ক্ববরের 'আযাব থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২১)
সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যেভাবে লেখা শিখানো হতো ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু’আ শিখাতেনঃ হে আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি ভীরুতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আপনার আশ্রয় চাচ্ছি আমাদেরকে বার্ধক্যের আতিশয্যের দিকে ফিরিয়ে দেয়া থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার ফিত্না এবং ক্ববরের শাস্তি হতে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৫)
আনাস (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তার অবিকল হাদীস বর্ণিত। তবে ইয়াযীদ বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী ‘জীবন ও মরণের ফিতনার খারাবী হতে’ কথাটি উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ৬৬২৭, ই.সে. নেই)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু‘আসমূহ পাঠ করতেনঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখ্লি ওয়াল কাসালি ওয়া আর্যালিল ‘উমুরি ওয়া ‘আযা-বিল কব্রি ওয়া ফিতনাতিল মাহ্ইয়া- ওয়াল মামা-ত”। অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে বখিলতা, অলসতা, নিকৃষ্ট জীবন-যাপন, কবরের শাস্তি এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।” (ই.ফা. ৬৬২৯, ই.সে. ৬৬৮৩)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত তাশাহুদের পর বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দাজ্জাল, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি”। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি দাজ্জালের ফিতনাহ হতে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হতে)।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত তাশাহুদের পর বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দাজ্জাল, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি”। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি দাজ্জালের ফিতনাহ হতে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হতে)।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত তাশাহুদের পর বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দাজ্জাল, ওয়া আ’উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি”। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব হতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি দাজ্জালের ফিতনাহ হতে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হতে)।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা ও বার্ধক্য হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই ক্ববরের শাস্তি হতে এবং আশ্রয় চাই জীবন ও মরণের বিপদাপদ হতে”। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিচের দু’আটি এমনভাবে শিখাতেন, যেমনভাবে তাদেরকে কুর্আনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব হতে আশ্রয় চাই, ক্ববরের আযাব হতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনাহ হতে এবং আশ্রয় চাই জীবন মরণের বিপদাপদ হতে”। সহীহঃ মুসলিম।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নোক্ত দুআ’টি আমাদেরকে এতো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা দিতেন যত গুরুত্ব সহকারে তিনি আমাদের কুরআনের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন : “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে এবং তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে”। [৩১৭২]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নোক্ত দুআ’টি আমাদেরকে এতো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা দিতেন যত গুরুত্ব সহকারে তিনি আমাদের কুরআনের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন : “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে এবং তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে”। [৩১৭২]
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নোক্ত দুআ’টি আমাদেরকে এতো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা দিতেন যত গুরুত্ব সহকারে তিনি আমাদের কুরআনের কোন সূরা শিক্ষা দিতেন : “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে এবং তোমার নিকট আরও আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে”। [৩১৭২]
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি অলসতা, বার্ধক্য, কাপুরূষতা, কৃপণতা, মাসীহ্ দাজ্জালের পরীক্ষা এবং ক্ববরের শাস্তি হতে”। সহীহঃ সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ১৩৭৭), বুখারী ও মুসলিম।
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন , এ দু’আটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে এমন ভাবে শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের কোন সূরা তাদেরকে শিক্ষা দিতেনঃ “ হে আল্লাহ্! তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের শাস্তি হতে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিত্না হতে। তোমার নিকট আমি আরো আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় হতে”। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪০) , মুসলিম।
মুসআব ইবনু সাদ ও আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তারা প্রত্যেকে বলেন, সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) নিম্নোক্ত বাক্যগুলো তাঁর সন্তানদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে মক্তবে শিক্ষক শিশুদেরকে শিক্ষা দেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাযের পর এগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থণা করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি ভীরুতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে কৃপণতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে অতি বার্ধক্যে পৌঁছার বয়স হতে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে দুনিয়ার ঝগড়া-বিবাদ ও ক্ববরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই”। সহীহঃ বুখারী (২৮২২, ৬৩৬৯)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, (আরবী)
আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
বিলাল (রাঃ) কিছু উন্নতমানের খোরমা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ এটা কী? তিনি বললেনঃ আমি এর এক সা’ দুই সা’-এর পরিবর্তে ক্রয় করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বাহ! এতো প্রকাশ্য সুদ, এর নিকটেও যাবে না।
হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রূপার বিনিময়ে সোনা (বিক্রী) সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়। গমের বিনিময়ে গম সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়, যবের বিনিময়ে যব সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়, খোরমার বিনিময়ে খোরমা সুদ, যদি না নগদ লেনদেন হয়।
মুস’আব ইব্ন সা’দ (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
তিনি আমাদেরকে পাঁচটি কথা শিক্ষা দিতেন এবং তিনি বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলো দ্বারা দু’আ করতেন এবং তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবনের নিকৃষ্টতম অংশ (অতি বার্ধক্য) থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিত্না থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে অলসতা, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ্ চাচ্ছি।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট অপারগতা, অলসতা, চরম বার্ধক্য, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে কবরের আযাব এবং জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকেও আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) -এর নিকট কবর আযাব এবং দাজ্জাল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি অলসতা, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবর আযাব হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, চরম বার্ধক্য, কবর আযাব এবং জীবন-মরণের ফিতনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
মুস’আব ইব্ন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
সা’দ (রাঃ) তাকে এ সকল দু’আ শিক্ষা দিতেন, আর তিনি তা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি কৃপণতা হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমি কাপুরুষতা হতে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি, আর অতি বার্ধক্যে পৌঁছা হতে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি এবং দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
মুস’আব ইব্ন সা’দ এবং আমর ইব্ন মায়মূন আওদী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
সা’দ (রাঃ) তাঁর সন্তানদেরকে এ সকল দু’আ শিক্ষা দিতেন; যেমন শিক্ষক মকতবের ছেলেদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক নামাযের পর এ সকল দু’আ দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা, কাপুরুষতা, চরম বার্ধক্যে উপনীত হওয়া, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে।
উসমান ইব্ন আবুল আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সকল দু’আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অলসতা, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, অকর্মণ্যতা এবং জীবন-মরণের ফিত্না থেকে।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সকল শব্দ দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি- আলস্য, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, গর্বের আপদ, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে।
আমর ইব্ন মায়মূন (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
একদা আমি উমর (রাঃ) -এর সাথে হজ্জ আদায় করি এবং তাঁকে এক সমাবেশে বলতে শুনিঃ জেনে রাখ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ বস্তু হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কার্পণ্য, কাপুরুষতা হতে, আর আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি মন্দ জীবন থেকে, আর আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অন্তরের ফিতনা হতে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কবরের আযাব হতে, আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দোযখের আযাব হতে, আর আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জীবন-মরণের ফিতনা হতে এবং আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করতেন এবং দু’আয় তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি দোযখের আযাব হতে, আপনার আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব হতে, আপনার আশ্রয় চাচ্ছি দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –কে তাঁর দু’আয় বলতে শুনেছিঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি কবরের ফিতনা, দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।