আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে লোক একশ’বার এ দু’আ’টি পড়বেঃ আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহা নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। তাহলে দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব তার হবে। তার জন্য একশটি সওয়াব লেখা হবে এবং আর একশটি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে মাহফুজ থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে ঐ দু’আটির ‘আমল বেশি পরিমাণ করবে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনের মধ্যে একশ’ বার পড়বে ‘আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।' সে একশ' গোলাম মুক্ত করার সাওয়াব লাভ করবে এবং তার জন্য একশ’টি নেকী লেখা হবে, আর তার একশ’টি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে। আর সে দিন সন্ধ্যা অবধি এটা তার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং তার চেয়ে অধিক ফাযীলাতপূর্ণ ‘আমাল আর কারো হবে না। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে ব্যক্তি এ ‘আমল তার চেয়েও অধিক করবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৮)
মুগীরাহ ইব্নু শু‘বাহ (রাঃ)-এর কাতিব্ ওয়াররাদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মু‘আবিয়াহ (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-কে চিঠি লিখলেন যে, আপনি আমার কাছে একটা হাদীস লিখে পাঠান, যা আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) তাঁর কাছে লিখে পাঠালেন, আশি নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত থেকে ফিরার সময় বলতে শুনেছি। لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (অর্থাৎ আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং হাম্দ তাঁরই। তিনি সবার উপর শক্তিমান। আর তিনি নিষেধ করতেন অনর্থক কথা নিয়ে বাদানুবাদ করা হতে, অধিক প্রশ্ন করা হতে, মালের অপচয় করা হতে, আর তিনি নিষেধ করেছেন, কৃপনতা ও ভিক্ষা বৃত্তি হতে, মাতাপিতার অবাধ্যতা এবং কন্যাদেরকে জীবন্ত প্রোথিত করা হতে। [৮৪৪] হুশায়ম (রহ.).....আবদুল মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ওয়াররাদ (রাঃ)-কে আল মুগীরা.....নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৯)
মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়ার্রাদ থেকে বর্নিতঃ
মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (আমীর) মু’আবিয়ার কাছে ওয়ার্রাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে সলাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতে শুনেছি...। তবে এ বর্ণনায় (আরবি) বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১২১৬, ই.সে. ১২২৮)
সা‘দী (রাঃ) হতে তাঁর পিতা অথবা তাঁর চাচার থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাতরত অবস্থায় দেখেছি। তিনি রুকূ‘ ও সাজদাহ্তে “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহিী” তিনবার পড়ার সমপরিমাণ সময় অবস্থান করতেন।
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশত বার বলে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শরীক নাই, রাজত্ব তাঁরই ও সমস্ত প্রশংসা তাঁর, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান”, তার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব লেখা হয়, একশত নেকী লেখা হয় এবং তার একশত গুনাহ বিলোপ করা হয়, তার এ শব্দগুলো সারা দিন রাত পর্যন্ত তার জন্য শয়তান থেকে প্রতিবন্ধক হয় এবং তাকে যা দান করা হয় তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে অপর কেউ হাজির হতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি এ বাক্য তার চেয়ে অধিক সংখ্যায় পরে তার কথা স্বতন্ত্র। [৩১৩০]
আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক প্রত্যহ একশত বার বলেঃ “আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মা’বুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনিই প্রান দান করেন এবং মৃত্যু দেন। সকল কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান”, সে দশটি গোলাম মুক্ত করার সমপরিমান সওয়াব পায়, একশত সাওয়াব তাঁর আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তার (আমলনামা হতে) একশত গুনাহ মুছে ফেলা হয়। ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে শয়তান হতে রক্ষা করা হয় এবং তার চাইতে উত্তম বস্তু নিয়ে আর কেও আসবে না , তবে যে লোক উক্ত দোয়া তার তুলনায় বেশি সংখ্যায় পাঠ করে তার কথা আলাদা। “প্রান দান করেন এবং মৃত্যু দেন” এই অংশ ব্যতিত হাদীসটি সাহীহঃ আল – কালিমুত তাইয়্যিব তাহকীক সানি পৃষ্ঠা (২৬) বুখারি ও মুসলিম ঐ অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত।
ওয়াররাদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুগীরা ইব্ন শুবা (রাঃ) মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর কাছে লিখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (প্রত্যেক) সালাতের পর যখন সালাম ফিরাতেন তখন বলতেনঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন : রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফায় (পাহাড়ে) আরোহণ করে তিনবার তাকবীর (আল্লাহু আকবর) বলেন। এরপর তিনি বলেন : (আরবী)১। তিনি এইরূপ তিনবার বলেন, পরে দু'আ করেন। মারওয়া পাহাড়েও তিনি এইরূপ করেন।
জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারওয়ায় এসে তার উপর আরোহণ করেন। তারপর বায়তুল্লাহ্ তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। তখন তিনি তিনবার বলেন : (আরবি) এরপর তিনি আল্লাহ্কে স্মরণ (যিকির) করেন, সুবহানাল্লাহ ও আল-হামদুলিল্লাহ বলেন। তারপর তিনি আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুযায়ী দু'আ করেন এবং এভাবে তিনি তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।