সহিহ বুখারী অঃ->ইল্‌ম বাব->কীভাবে (দ্বীনী) জ্ঞান তুলে নেয়া হবে। হাঃ-১০০

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আমর ইব্‌নুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ‘ইলম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাঁদের জিজ্ঞেসা করা হলে না জানলেও ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে , এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। ফিরাবরী বলেন, ............ জরীর হিশামের নিকট হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৭৩০৭; মুসলিম ৪৭/৪, হাঃ ২৬৭৩, আহমাদ ৬৫২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০১)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরআন ও সুন্নাহ্‌কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা বাব->মনগড়া মত ও ভিত্তিহীন কিয়াস নিন্দনীয়। হাঃ-৭৩০৭

উরওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আম্‌র (রাঃ) আমাদের এ দিক দিয়ে হাজ্জে যাচ্ছিলেন। আমি শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেন যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম) - কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে যে ইল্‌ম দান করেছেন, তা হঠাৎ ছিনিয়ে নেবেন না বরং উলামাগণকে তাদের ইল্‌মসহ ক্রমশ তুলে নেয়ার মাধ্যমে তা ছিনিয়ে নেবেন। তখন কেবল মূর্খ লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তাদের কাছে ফাত্‌ওয়া চাওয়া হবে। তারা মনগড়া ফাত্‌ওয়া দেবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন,আমি এ হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সালাম) - এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম। তারপর ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আম্‌র (রাঃ) আবার হজ্জ করতে এলেন। তখন ‘আয়িশা (রাঃ) আমাকে বললেন, হে ভাগ্নে! তুমি ‘আবদুল্লাহ্‌র কাছে যাও এবং তার থেকে যে হাদীসটি তুমি আমাকে বর্ণনা করেছিলেন, তাঁর নিকট থেকে যাচাই করে আস। আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে ঠিক সে রকমই বর্ণনা করলেন, যেরকম আগে বর্ণনা করেছিলেন। আমি ‘আয়িশা (রাঃ) - ’র কাছে ফিরে এসে তাকে জানালাম। তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আম্‌র (রাঃ) মনে রেখেছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮০৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->‘ইল্‌ম বাব->শেষ যামানায় ‘ইল্‌ম উঠে যাওয়া, অজ্ঞতা ও ফিতনা প্রকাশ পাওয়া প্রসঙ্গে হাঃ-৬৬৮৯

‘উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মানুষের হতে ‘ইল্‌ম ছিনিয়ে নেবেন না। তবে তিনি ‘আলিম সম্প্রদায়কে কব্য করে ‘ইল্‌ম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন একজন ‘আলিমও থাকবে না তখন মানুষেরা মূর্খ মানুষদেরকে নেতা বানিয়ে নিবে। মানুষ তাদের নিকট সামাধান চাইবে, এরপর তারা না জেনে ফাতাওয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরও গুমরাহ করবে। (ই.ফা. ৬৫৫২, ই.সে. ৬৬০৬)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->ভূমিকা বাব->কিয়াস ও মনগড়া মতামত হতে বেঁচে থাকা। হাঃ-৫২

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্‌ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইল্‌মকে বিলুপ্ত করার মাধ্যমে তা কেড়ে নিবেন না, বরং তিনি আলিমদেরকে (দুনিয়া থেকে) তুলে নেয়ার মাধ্যমে ইল্‌মকেও তুলে নিবেন। অতএব যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন জনগণ অজ্ঞ ও মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে এবং তাদের কাছে (দ্বীনী বিষয়ে) জিজ্ঞেস করা হলে তারা (সেই বিষয়ে) কোন ইল্‌ম না থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং জনগণকেও পথভ্রষ্ট করবে। [৫২]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->জ্ঞান বাব->জ্ঞান উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে হাঃ-২৬৫২

‘আবুদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (শেষ যামানায়) আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট হতে একটানে ‘ইল্‌ম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ‘ইল্‌ম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে, আর তারা ‘ইল্‌ম ছাড়াই ফাতওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫২), বুখারী ও মুসলিম।