সহিহ বুখারী অঃ->পানি সেচ বাব->নদী-নালার পানি আটকানো। হাঃ-২৩৫৯

‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক আনসারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর (রাঃ)- কে বলেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকিয়ে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। যুবাইর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ “তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর পত্যার্পণ না করে”- (আন-নিসাঃ ৬৫)। (২৩৬১, ২৩৬২, ২৭০৮, ৪৫৮৫) (আ.প্র. ২১৮৭, ই.ফা. ২২০৪)


সহিহ বুখারী অঃ->পানি সেচ বাব->নীচু ভুমির পূর্বে উঁচু ভূমিতে সেচ দেয়া। হাঃ-২৩৬১

‘উরওয়াহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যুবাইর (রাঃ) এক আনসারীর সঙ্গে ঝগড়া করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে যুবাইর! জমিতে পানি সেচের পর তা ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে যুবাইর! পানি বাঁধে পৌঁছা পর্যন্ত সেচ দিতে থাক। তারপর বন্ধ করে দাও। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ “তোমার রবের কসম, তারা মু’মিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার-ভার আপনার উপর অর্পণ না করে”- (আন-নিসা ৬৫)।


সহিহ বুখারী অঃ->পানি সেচ বাব->উঁচু জমির মালিক পায়ের গিরা পর্যন্ত পানি নিয়ে নেবে। হাঃ-২৩৬২

‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একজন আনসারী হার্‌রার নালার পানি নিয়ে যুবাইরের সাথে ঝগড়া করল, যে পানি দিয়ে তিনি খেজুর বাগান সেচ দিতেন। এ বিষয়ে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে যুবাইর! সেচ দিতে থাক। তারপর নিয়ম-নীতি অনুযায়ী তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, তারপর তা তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে আপনার ফুফাতো ভাই তাই। এ কথায় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, সেচ দাও। পানি ক্ষেতের বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে বন্ধ করে দাও। যুবাইরকে তিনি তার পুরা হক দিলেন। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াত এ সম্পর্কে নাযিল হয়ঃ “তোমার প্রতিপালকের কসম, তারা মু’মিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার-ভার আপনার উপর অর্পণ না করে”। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু শিহাবের বর্ণনা হচ্ছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ কথা ‘পানি নেয়ার পর বাঁধ অবধি পৌঁছার পর তা বন্ধ রাখ’। আনসার এবং অন্যান্য লোকেরা এর পরিমাণ করে দেখেছেন যে, তা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছে।


সহিহ বুখারী অঃ->বিবাদ মিমাংসা বাব->ইমাম বিবাদ মীমাংসা করে নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরও তা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে যথার্থ হুকুম জারী করতে হবে। হাঃ-২৭০৮

যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এক আনসারীর সঙ্গে বিবাদ করেছিলেন, যিনি বদরে শরীক ছিলেন। তিনি আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে প্রস্তরময় যমীনের একটি নালা সম্পর্কে অভিযোগ করলেন। তারা উভয়ে সে নালা হতে পানি সেচ করতেন। তখন আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইরকে বললেন, ‘হে যুবাইর! তুমি প্রথমে পানি সেচবে। অতঃপর তোমার প্রতিবেশির দিকে পানি ছেড়ে দিবে।’ আনসারী তখন রেগে গেল এবং বললো, ‘হে আল্লাহ্‌র রসূল! সে আপনার ফুফুর ছেলে হওয়ার কারণে?’ এতে আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার রঙ বদলে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘তুমি সেচ কর, অতঃপর পানি আটকে রাখ, বাঁধ বরাবর পৌঁছা পর্যন্ত’। আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর (রাঃ)-কে তার পূর্ণ হক দিলেন। এর আগে যুবাইর (রাঃ)-কে তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন যা আনসারীর জন্য সুবিধাজনক ছিল। কিন্তু আনসারী আল্লাহ্‌র রসূলকে রাগান্বিত করলে সুস্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে যুবাইর (রাঃ)-কে তিনি তার পূর্ণ হক দান করলেন। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, যুবাইর (রাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ্‌র কসম!‍ আমার নিশ্চিত ধারণা যে (আল্লাহ্‌র বাণী) : কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ তারা তাদের নিজেদের বিবাদে আপনাকে বিচারক হিসাবে মান্য না করে- (সুরা আন-নিসাঃ ৬৫) আয়াতটি সে ব্যাপারেই নাযিল হয়েছিল।’


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->‘‘তবে না; আপনার রবের কসম! তারা মু’মিন হবে না যে পর্যন্ত না তারা আপনার উপর বিচারের ভার অর্পণ করে সেসব বিবাদ-বিসম্বাদের যা তাদের মধ্যে সংঘটিত হয়, তারপর তারা নিজেদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ বোধ না করে আপনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৫) হাঃ-৪৫৮৫

‘উরওয়াহ থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, হাররা বা মাদীনাহ্র কঙ্করময় ভূমিতে একটি পানির নালাকে কেন্দ্র করে একজন আনসার যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে ঝগড়া করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে যুবায়র! প্রথমত তুমি তোমার জমিতে পানি দাও, তারপর তুমি প্রতিবেশীর জমিতে পানি ছেড়ে দেবে। আনসারী বললেন, হে আল্লাহ্‌ররসূল! সে আপনার ফুফাত ভাই, তাই এই ফয়সালা। এতে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে যুবায়র! তুমি তোমার জমিতে পানি দাও। তারপর সেচ নালা ভর্তি করে পানি রাখো, অতঃপর তোমার প্রতিবেশিকে পানি দাও। আনসারী যখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাগানি¦ত করলেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়র (রাঃ)-কে প্রদানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে প্রশস্ততা ছিল। যুবায়র (রাঃ) বলেন, فَلاَوَرَبِّكَلاَيُؤْمِنُونَحَتَّىيُحَكِّمُوكَفِيمَاشَجَرَبَيْنَهُمْ আয়াতটি এ উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। [২৩৬০] (আ.প্র. ৪২২৪, ই.ফা. ৪২২৭)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->বিচার ব্যবস্থা বাব->বিচার সংক্রান্ত কিছু সমস্যা হাঃ-৩৬৩৭

‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হাররা নামক স্থান হতে প্রবাহিত পানির বণ্টন নিয়ে যুবাইরের (রাঃ) সাথে এক ব্যক্তির বিবাদ হলো। আনসারী লোকটি বললো, পানিকে প্রবাহিত হয়ে আসতে দাও। কিন্তু যুবাইর (রাঃ) এতে সম্মত হলেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইরকে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার জমিতে পানি দাও; অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর জমির দিকে তা ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথায় আনসারী রাগান্বিত হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই সেজন্য পক্ষপাতিত্ব করছেন! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। তিনি বললেনঃ তোমার জমিতে পানি দাও, অতঃপর তা আটকে রাখো যাতে আইল পর্যন্ত পৌঁছে। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমার মতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ “না, হে মুহাম্মাদ! আপনার রবের কসম, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে আপনাকে বিচারপতিরূপে মেনে না নিবে। অতঃপর আপনি ফায়সালা করবেন, সে সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কোনরূপ কুণ্ঠাবোধ করবে না; বরং তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সোপর্দ করবে” (সূরাহ আন-নিসাঃ ৬৫)।


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->ভূমিকা বাব->রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার বিরুদ্ধবাদীর প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ হাঃ-১৫

আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক আনসার ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে হাররার পানি নালা নিয়ে বিবাদ করে, যার দ্বারা তারা খেজুর বাগানে পানি সেচ করতেন। আনসারী বলল, তুমি পানি ছেড়ে দাও যাতে তা প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু যুবায়র (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তাই তারা বিবাদ করতে করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, হে যুবায়র! তোমার বাগানে পানি সিঞ্চন করো, অতঃপর তোমার প্রতিবেশির দিকে তা পাঠিয়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনার ফুপাতো ভাই তো (তাই এরূপ ফয়সালা দিলেন)। এ কথায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুখ বিবর্ণ হয়ে গেলো। তিনি বলেন, হে যুবায়র! তোমার বাগানে পানি সিঞ্চন করো, অতঃপর তা প্রতিরোধ করে রাখো, যাবত না তা আইল বরাবর হয়। রাবী আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) বলেন, যুবায়র (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমার মতে এ আয়াত উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নাযিল হয় (অনুবাদ) : “কিন্তু না। তোমার প্রভুর শপথ! তারা মু'মিন হবে না, যতক্ষণ তারা তাদের বিবাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে, অতঃপর তোমার প্রদত্ত সিদ্ধান্তে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তারা তা মেনে নেয়”। (সূরাহ নিসা ৪ : ৬৫) [১৫]


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->বন্ধক বাব->উপত্যকা থেকে পানিসেচ এবং যে পরিমাণ পানি আটকে রাখা যাবে হাঃ-২৪৮০

আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হাররাহ থেকে প্রবাহিত নালার পানি বন্টনকে কেন্দ্র করে এক আনসারী ব্যক্তি যুবায়র (রাঃ) - এর বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। এ নালা তার খেজুর বাগানে সিঞ্চন করতো। আনসারী বললো, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবায়র (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এই বিবাদ পেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন হে জুবায়র, তোমার জমিতে পানি সিঞ্চন কর, অতঃপর তো তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। তাতে আনসারী রাগান্বিত হল, এবং বলল হে আল্লাহর রাসূল সে আপনার ফুফুর ছেলে বলে (আপনি এরকম ফয়সালা করলেন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেহারা রক্তিমাভ হয়ে গেলো। তিনি বলেনঃ হে যুবায়র ! তোমার ক্ষেতে পানি দাও, তারপর তা আটকে রাখো যাতে আইল পর্যন্ত উঠতে পারে। আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ ! আমার ধারণামতে এ সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ) : “হে মুহাম্মদ ! তোমার প্রতিপালকের শপথ ! এরা কিছুতেই মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে, সেই সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুন্ঠাবোধ করবে না। বরং এর সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দিবে”। (সূরা নিসাঃ ৬৫)। [২৪৮০]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->বিচার কার্য বাব->দুই ব্যক্তি প্রসঙ্গে, যাদের একজনের ভূমি পানি প্রবাহের নিম্নদিকে অবস্থিত হাঃ-১৩৬৩

উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) তাকে বলেছেন, হাররা হতে বয়ে আসা নালার পানির বন্টনকে কেন্দ্র করে যুবাইর (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে একজন আনসার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অভিযোগ উত্থাপন করে। এ নালার পানি তারা খেজুর বাগানেও সিঞ্চন করতেন। আনসারী দাবি করল, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা এই বিবাদকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে উপস্থাপন করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর (রাঃ)-কে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তোমার প্রতিবেশীর ক্ষেতের দিকে তা প্রবাহিত হতে দাও। আনসারী এতে ক্রোধাৰিত হয়ে বলল, আপনার ফুফাত ভাই তো ! এ কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার ক্ষেতে পানি প্রবাহিত কর, তারপর তা আটক করে রাখ-যাতে তা আইল পর্যন্ত উঠতে পারে। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় এপ্রসঙ্গেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ “না, হে মুহাম্মাদ! তোমার প্রতিপালকের শপথ! এরা কোন অবস্থাতেই ঈমানদার হতে পারে না, যে পর্যন্ত না তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে। তারপর তুমি যে ফায়সালাই করবে তার প্রসঙ্গে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুষ্ঠাবোধ করবে না; বরং নিজেদেরকে এর সামনে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করবে" (সূরাঃ নিসা-৬৫)। সহীহ্‌ নাসা-ঈ


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->তাফসীরুল কুরআন বাব->সূরা আন –নিসা হাঃ-৩০২৭

আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, কংকরময় হাররা এলাকার একটি (পানিসেচের) নালা নিয়ে এক আনসারীর সাথে তার ঝগড়া বাধে। উক্ত নালার মাধ্যমে তারা খেজুর বাগানে পানি দিতেন। আনসারী বললেন, পানি আসতে নালাটি আপনি ছেড়ে দিন। যুবাইর (রাঃ) তা মানলেন না। দুজনেই বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর (রাঃ) কে বললেনঃ হে যুবাইর! তোমার বাগানে পানি দিয়ে তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দিও। এতে আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আপনার ফুফাতো ভাই বলেই (এরূপ ফাইসালা করছেন)। এ কথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ হে যুবাইর! তুমি তোমার বাগানের পানি প্রবাহিত করে আলগুলো পর্যন্ত পানি জমা না হওয়া পর্যন্ত নালা অন্যত্র প্রবাহিত হতে দিবে না। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় এ ঘটনা প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) : “কিন্তু না, তোমার প্রভুর শপথ! তারা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহের বিচারভার তোমার উপর অর্পন না করে….” (সূরা আন –নিসা ৬৫)। সহীহ : বুখারী (৪৫৮৫), মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->বিচারকের নীতিমালা বাব->ন্যায়পরায়ণ বিচারকের রাগান্বিত অবস্থায় মীমাংসা করার অনুমতি হাঃ-৫৪০৭

যুবায়র ইব্‌নুল আওয়াম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি এমন একজন আনসারী ব্যক্তির সাথে হাররা নামক স্থানের পানি প্রবাহ নিয়ে ঝগড়া করেন, যিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। তাঁরা উভয়ে এই পানি দ্বারা খেজুর বাগানে পানি দিত। ঐ আনসারী ব্যক্তি বল্লেনঃ পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা এর উপর দিয়ে বয়ে যায়। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি নিজের যমীনে পানি দিয়ে তা প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। একথায় আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বল্লোঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! যুবায়র তো আপনার ফুফির ছেলে। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চেহারার রং পরিবর্তিত হলো। তিনি বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি বাগানে পানি দাও এবং পরে পানি বন্ধ করে দাও, যতক্ষণ না পানি গাছের চতুর্দিকে আইলে পৌঁছে যায়। এবার রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবায়রকে তাঁর পূর্ণ অধিকার দান করলেন। এরপূর্বে তিনি যুবায়র (রাঃ) -কে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তাতে যুবায়র (রাঃ) এবং আনসারী উভয়ের জন্য ছিল প্রশস্ততা, কিন্তু যখন আনসারী তাঁকে রাগান্বিত করলেন, তখন তিনি যুবায়র (রাঃ) -এর অংশ তাঁকে পূর্ণরূপে দান করলেন। যুবায়র (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়ঃ আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়।


সুনান নাসাঈ অঃ->বিচারকের নীতিমালা বাব->হাকিমের শিথিলতার ইঙ্গিত করা হাঃ-৫৪১৬

আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক আনসারী ব্যক্তি হাররা নামক স্থানের পানি প্রবাহ নিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দরবারে মোকাদ্দমা দায়ের করলো যে, পানি তারা খেজুর গাছে সিঞ্চন করতো। আনসারী বললোঃ পানি ছেড়ে দিন, তা বয়ে যাবে কিন্তু যুবায়র (রাঃ) তা অস্বীকার করলেন। তারা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দরবারে এসে ঝগড়া করলে, রাসূলুল্লহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি পানি দিয়ে পানি ছেড়ে দাও, তোমার পড়শীর জন্য। এতে আনসারী ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! বাস্তব পক্ষে যুবায়র তো আপনার ফুফীর ছেলে তাই। এতে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ হে যুবায়র! তুমি গাছে পানি দিয়ে তা বন্ধ করে রাখ যেন তা বাগানের দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে। যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় আয়াতটি এ ব্যাপারেই নাযিল হয়।