আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের গৃহে আসলেন এবং আরাম করলেন। তিনি ঘর্মাক্ত হলেন, আর আমার মা একটি ছোট বোতল নিয়ে মুছে তাতে ভরতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, হে উম্মু সুলায়ম! একি করছ? আমার মা বললেন, এ হচ্ছে আপনার ঘাম, যা আমরা সুগন্ধির সাথে মেশাই, আর এ তো সব সুগন্ধির সেরা সুগন্ধি।(ই.ফা. ৫৮৪৭, ই.সে.৫৮৮২)
আব্দুল ওয়াহিদ ইবনু সুলাইম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি মক্কায় যাওয়ার পর আতা ইবনু আবী বাবাহ্র সাথে দেখা করলাম এবং তাকে বললাম, হে আবূ মুহাম্মদ! বাসরায় বসবাসকারীরা তো ভাগ্য সম্পর্কে এ ধরনের অস্বীকারমূলক কথাবার্তা বলছে। তিনি বললেন, হে বৎস! তুমি কি কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে সূরা ‘যুখরুফ’ তিলাওয়াত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন এ আয়াত পথ করলাম “হা-মীম। সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ! নিশ্চয়ই আমরা তা অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআনরূপে, যাতে তোমরা তা উপলদ্ধি করতে পার। তা সংরক্ষিত রয়েছে আমার নিকট একটি মূল কিতাবে, এতো অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন মহান বিজ্ঞানময়” (সুরাঃ যুখরুফ – ১-৪)। তিনি প্রশ্ন করেন, তুমি জান, মূল কিতাব কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তা একটি মহাগ্রন্থ যা আল্লাহ তা’আলা আসমান-যমীন সৃষ্টির আগেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাতে এ কথা লিখা আছে যে, ফিরআউন জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আর তাতে এ কথাও লিখা আছে যে, আবূ লাহাবের দুটি হাত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সে নিজেও ধ্বংস হয়েছে। আতা (রহঃ) বলেন, তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যতম সাহাবী উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ)-এর ছেলে ওয়ালীদের সাথে দেখা করে তাকে প্রশ্ন করি, আপনার পিতা তার মৃত্যুকালে আপনাকে কি কি উপদেশ দিয়ে গেছেন? তিনি বললেন, তিনি আমাকে সামনে ডেকে বললেন, হে বৎস! আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর আর জেনে রাখ, যে পর্যন্ত তুমি আল্লাহ তা’আলার উপর বিশ্বাস না আনবে এবং ভাগ্য ও তার ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস না আনবে তুমি সে পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলার ভয় অর্জন করতে সক্ষম হবে না। এ বিশ্বাস ব্যতীত তোমার মৃত্যু হলে তুমি জাহান্নামী হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে তাকে আদেশ করেনঃ লিখ। কলম বলল, কি লিখব? তিনি বললেনঃ তাক্বদীর লিখ, যা হয়েছে এবং অনন্তকাল পর্যন্ত যা হবে সবকিছুই। সহীহ, সহীহাহ্ (১৩৩), তাখরীজুত্ ত্বাহাবীয়াহ (২৩২), মিশকাত (৯৪), আয্যিলাল (১০২, ১০৫)।
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একখানা চামড়ায় শুলেন। তিনি ঘর্মাক্ত হলে উম্মে সুলায়ম গিয়ে তাঁর ঘাম মুছে একটি শিশিতে রাখলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে উম্মে সুলায়ম? তুমি এটা কি করছ? তিনি বললেনঃ আমি আপনার এই ঘাম আমার সুগন্ধির সাথে মিশ্রিত করবো। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন।