সহিহ বুখারী অঃ->দুই ঈ’দ বাব->কুরবাণীর দিন আহার করা। হাঃ-৯৫৪

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সালাতের পূর্বে যে যবেহ্ করবে তাকে পুনরায় যবেহ্ করতে হবে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আজকের এ দিনটিতে গোশত খাবার আকাঙ্ক্ষা করা হয়। সে তার প্রতিবেশীদের অবস্থা উল্লেখ করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেন তার কথার সত্যতা স্বীকার করলেন। সে বলল, আমার নিকট এখন ছয় মাসের এমন একটি মেষ শাবক আছে, যা আমার নিকট দু’টি হৃষ্টপুষ্ট বক্‌রীর চাইতেও অধিক পছন্দনীয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সেটা কুরবাণী করার অনুমতি দিলেন। অবশ্য আমি জানি না, এ অনুমতি তাকে ছাড়া অন্যদের জন্যও কি-না?


সহিহ বুখারী অঃ->কুরবানী বাব->কুরবানীর দিন গোশ্‌ত খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। হাঃ-৫৫৪৯

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পুর্বে যবহ্‌ করেছে, সে যেন পুনরায় যবহ্‌ করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! এটাতো এমন দিন যাতে গোশ্‌ত খাওয়ার প্রতি ইচ্ছা জাগে। তখন সে তার প্রতিবেশীদের কথাও উল্লেখ করল এবং বললঃ আমার কাছে এমন একটি বক্‌রীর বাচ্চা আছে যেটি গোশ্‌তের ক্ষেত্রে দু'টি বক্‌রীর চেয়েও উত্তম। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সেটিই কুরবানী করতে অনুমতি প্রদান করলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি জানি না, এ অনুমতি এ ব্যক্তি ছাড়া অন্যের জন্যেও প্রযোজ্য কিনা? এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'টি ভেড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সে দু'টিকে যবহ্‌ করলেন। লোকজন ছোট একটি বক্‌রীর পালের দিকে উঠে গেল। এরপর ওগুলোকে বন্টন করল কিংবা তিনি বলেছেনঃ সেগুলোকে তারা যবহ্‌ করে টুকরো টুকরো করে কাটলো।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৮)


সহিহ বুখারী অঃ->কুরবানী বাব->যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পূর্বে যবহ্‌ করে সে যেন পুনরায় যবহ্‌ করে। হাঃ-৫৫৬১

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আনাস (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পূর্বে যবহ্‌ করেছে সে যেন আবার যবহ্‌ করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ এটাতো এমন দিন যে দিন গোশ্‌ত খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে। সে তার প্রতিবেশীদের অভাবের কথাও উল্লেখ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেন তার ওজর উপলব্ধি করলেন। লোকটি বললঃ আমার কাছে এমন একটি ছাগলের বাচ্চা আছে যেটি দু’টি মাংসল বক্‌রীর চেয়ে উৎকৃষ্ট। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাকে সেটি কুরবানী করার অনুমতি দান করলেন। (বর্ণনাকারী বলেনঃ ) আমি জানি না, এ অনুমতি অন্যদের জন্যেও কিনা। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভেড়া দু'টির দিকে ঝুঁকলেন অর্থাৎ তিনি সে দু'টিকে যবহ্‌ করলেন। এরপর লোকেরা ছাগলের ছোট একটি ক্ষুদ্র পালের দিকে গেল এবং সেগুলোকে যবহ্‌ করল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫০)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->কোরবানি বাব->ঈদের সালাতের পূর্বে কোরবানী করা নিষিদ্ধ হাঃ-৩১৫২

জুনদুব আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

(আসওয়াদ) তাকে বলতে শুনেছেন, আমি ঈদুল আদহায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। কতক লোক ঈদের সলাতের পূর্বেই কোরবানী করলো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঈদের সলাতের পূর্বে কোরবানী করেছে সে যেন পুনর্বার কোরবানী করে। আর যে ব্যক্তি এখনও কোরবানী করেনি সে যেন আল্লাহ নাম নিয়ে যবেহ করে। [৩১৫২]


সুনান নাসাঈ অঃ->কুরবানী বাব->ইমামের পূর্বে কুরবানী করা হাঃ-৪৩৯৬

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন বললেন: যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বেই যবেহ করেছে সে যেন পুনরায় যবেহ করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই দিনটি এমন যে, এ দিন গোশত খাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়। তিনি তাঁর পড়শীর প্রয়োজনের কথাও উল্লেখ করলেন, যেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সমর্থন করেন। তিনি বললেন: আমার নিকট অপূর্ণ বয়স্ক একটি বকরী রয়েছে। যা এই গোশতের বকরী হতে আমার নিকট অধিক প্রিয়। তখন তিনি তাকে এর অনুমতি দিলেন। আমি জানি না তাঁর এই অনুমতি দান তিনি ব্যতীত অন্যের জন্য প্রযোজ্য হবে কিনা? এরপর তিনি দু’টি বকরীর কাছে গিয়ে তা যবেহ্ করেন।