সহিহ বুখারী অঃ->যবেহ ও শিকার করা বাব->তীরের ফলকে আঘাতপ্রাপ্ত শিকার হাঃ-৫৪৭৭

আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে শিকারে পাঠিয়ে থাকি। তিনি বললেনঃ কুকুরগুলো তোমার জন্য যেটি ধরে রাখে সেটি খাও। আমি বললামঃ যদি ওরা হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেনঃ যদি ওরা হত্যাও করে ফেলে। আমি বললামঃ আমরা তো ফলার দ্বারাও শিকার করে থাকি। তিনি বললেনঃ সেটি খাও, যেটি তীরে যখম করেছে; আর যেটি তীরের পার্শ্বের আঘাতে মারা গেছে সেটি খেও না।[১৭৫; মুসলিম ৩৪/১, হাঃ ১৯২৯, আহমাদ ১৯৩৮৯] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯৬৯)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->শিকার প্রসঙ্গে বাব->শিকারের বর্ণনা হাঃ-২৮৪৭

আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করি, আমি আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারে পাঠালে তা আমার জন্য শিকার ধরে আনলে আমি কি তা খাবো? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরকে আল্লাহর নাম নিয়ে শিকারে পাঠালে তা তোমার জন্য যে শিকার ধরে আনবে তা খাবে। আমি জিজ্ঞেস করি, কুকুর যদি শিকারকে হত্যা করে? তিনি বললেনঃ কুকুর যদি শিকার হত্যা করে এবং তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর অংশগ্রহণ না করে তাহলে খেতে পারবে। আমি বলি, আমি পালকবিহীন ধাতুর পাত ছুঁড়ে কোন শিকার ধরলে তা খাব কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে পালকবিহীন ধাতুর পাত ছোঁড়া হলে তা শিকারকে জখম করলে খেতে পারো। কিন্তু তীরের পার্শ্বের আঘাতে শিকার হয়ে থাকলে তা খেও না।


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->শিকার বাব->কুকুরের কোন্ ধরণের শিকার খাওয়ার যোগ্য এবং কোন্ ধরণের শিকার খাওয়ার অযোগ্য হাঃ-১৪৬৫

আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেই। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এরা যা ধরে রাখে তা খাও। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এরা যদি শিকার হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেনঃ এরা হত্যা করলেও খেতে পার যদি এর সাথে অন্য কুকুর অংশ গ্রহণ না করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা বর্শা (বা লাঠি) ছুড়ে থাকি। তিনি বলেনঃ তার তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ শিকারকে জখম করলে তা খাও, কিন্তু তার পার্শ্বদেশের আঘাতে শিকার হলে তা খেও না। সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (৩২০৮, ৩২১২, ৩২১৪, ৩২১৫), নাসা-ঈ


সুনান নাসাঈ অঃ->শিকার ও যবেহকৃত জন্তু বাব->প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের শিকার হাঃ-৪২৬৫

আদী ইব্‌ন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমি শিকারী কুকুর ছাড়ি এবং সেই কুকুর প্রাণী ধরে আনে, তা খাওয়া যাবে কি? তিনি বললেনঃ যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছেড়ে দেবে, আর ছাড়ার সময় বিস্‌মিল্লাহ পড়ে ছাড়বে এবং সে শিকার ধরে আনবে, তুমি তা খেতে পারবে। আমি বললামঃ যদি সে তাকে মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ মেরে ফেললেও। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলামঃ আমি অনেক সময় লৌহবিহীন তীর বা লাঠি নিক্ষেপ করি? রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি তীরের ধারাল অংশ লাগে, তবে তা খেতে পারবে। আর যদি আড়াআড়িভাবে লেগে থাকে, তবে তা খাবে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->শিকার ও যবেহকৃত জন্তু বাব->কুকুর যদি শিকার মেরে ফেলে হাঃ-৪২৬৭

আদী ইব্‌ন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার শিকারী কুকুর ছাড়ি, আর সে আমার জন্য শিকার ধরে আনে, আর আমি তা খাই। তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার শিকারী কুকুর ছাড়, আর তা তোমার জন্য শিকার ধরে আনে, তখন তুমি তা খাবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম : যদি সে কুকুর শিকার মেরে ফেলে, তবুও? তিনি বললেনঃ যদিও সে মেরে ফেলে; কিন্তু শর্ত হল তোমার কুকুরের সাথে যেন অন্য কুকুর না থাকে। আমি আরয করলামঃ আমি লোহাবিহীন তীর নিক্ষেপ করি, আর তা শিকারের গায়ে গেঁথে যায়? তিনি বললেনঃ যদি তা গায়ে গেঁথে যায় তবে খাবে, আর যদি আড়াআড়ি লাগে, তবে খাবে না।


সুনান নাসাঈ অঃ->শিকার ও যবেহকৃত জন্তু বাব->মি‘রায এর শিকার হাঃ-৪৩০৫

আদী ইব্‌ন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছাড়ি, আর সে শিকার ধরে আনে এবং আমি তা খাই। তিনি বললেনঃ যখন তুমি বিস্‌মিল্লাহ্‌ পড়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছাড় এবং তা শিকার ধরে আনে, তুমি তা খেতে পার। আমি বললামঃ যদি সে শিকার মেরে ফেলে? তিনি বললেনঃ যদিও সে শিকার মেরে ফেলে, যতক্ষণ তার সাথে অন্য কুকুর মিলিত না হয়। আমি বললাম, আমি মি‘রায নিক্ষেপ করি এবং তা দ্বারা শিকার করি এবং খাই? রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যখন তুমি বিস্‌মিল্লাহ বলে মি‘রায ছুঁড়বে এবং ঐ তীর ধারাল অংশ দ্বারা আঘাত করবে, তুমি তা খাবে, আর যদি আড়াআড়ি দিকে আঘাত করে, তবে তা খাবে না।