সহিহ মুসলিম অঃ->জিহাদ ও এর নীতিমালা বাব->রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকে হত্যা করেন তার উপর আল্লাহ্‌র ভয়াবহ গযব হাঃ-৪৫৪০

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যে সব হাদীস বর্ণনা করেছেন এর মধ্যে তিনি এটিও বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ্‌র গযব ভয়াবহ হয়, যারা আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এরূপ আচরণ করে”। এ কথা বলতে বলতে তিনি তার সম্মুখের দু’টি (ভগ্ন) দাঁতের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন, মহামহিম আল্লাহ্‌র গযব তার উপরও ভয়াবহ হয়, যাকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র পথে হত্যা করেন। (ই.ফা. ৪৪৯৭, ই.সে. ৪৪৯৯)


সহিহ মুসলিম অঃ->প্রশাসন ও নেতৃত্ব বাব->পরস্পর একজন অন্যজনকে হত্যা করে উভয় ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে হাঃ-৪৭৮৬

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা ঐ দু’ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করবে অথচ উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগন বললেন, তা কেমন করে হবে হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)? তিনি বললেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে শহীদ হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তা’আলা হত্যাকারীর প্রতি সদয় দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলবে এবং সেও আল্লাহর পথে জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করবে। (ই.ফা. ৪৭৩৯, ই.সে. ৪৭৪০)


সহিহ মুসলিম অঃ->ফযীলত বাব->‘ঈসা (আঃ)এর ফযীলত হাঃ-৬০২৬

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে আমি ‘ঈসা (‘আঃ)-এর সর্বাধিক নিকটবর্তী। লোকেরা বলল, এটি কীভাবে হে আল্লাহর রসূল? তখন তিনি বললেনঃ নবী গণ একই পিতার সন্তানের মতো। তাঁদের মাতা ভিন্ন। তাঁদের দ্বীন একটিই। আর তাঁর এবং আমার মাঝে কোন নবীও নেই। (ই.ফা. ৫৯২০, ই.সে. ৫৯৫৮)


সহিহ মুসলিম অঃ->সাহাবা (রাযিঃ)- গণের ফযীলত (মর্যাদা) বাব->‘উমার (রাঃ) এর ফযিলত হাঃ-৬১০১

‘আবদুল্লাহ ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল ওফাত হন তখন তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে আরজ করলেন, তিনি যেন নিজ জামা তাঁর পিতার কাফনের জন্য দান করেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রদান করলেন। এরপর ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর পিতার জানাযা পড়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তার জানাযা পড়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন ‘উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গায়ের কাপড় ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ওর জানাযা পড়বেন? কেননা আল্লাহ আপনাকে তার জানাযা আদায় করতে বারণ করেছেন? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃআল্লাহ অবশ্য আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন। বলেছেন: “আপনি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর নাই করুন, যদি আপনি সত্তরবারও এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন” .. (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯:৭০) অতএব আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিক মাফ চাইব। ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করলেন: ‘মুনাফিকদের মাঝে কেউ মরে গেলে কক্ষনো তার জানাযা আদায় করবেন না; আর তার কবরের সন্নিকটেও দাঁড়াবেন না’- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯: ৮৪)। (ই.ফা. ৫৯৯০, ই.সে. ৬০৩০)