সহিহ বুখারী অঃ->জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন বাব->৫৮/১৮. অধ্যায়ঃ হাঃ-৩১৮২

আবূ ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা সিফ্‌ফীন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সে সময় সাহ্‌ল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজ মতামতকে সঠিক মনে করো না। আমরা হুদায়বিয়ার দিন রসূলূল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। যদি আমরা যুদ্ধ করা সঠিক মনে করতাম, তবে আমরা যুদ্ধ করতাম। পরে ‘উমার ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি হকের উপর নই এবং তারা বাতিলের উপর নয়? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বললেন, আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ কি জান্নাতী নন এবং তাদের নিহত ব্যক্তিরা জাহান্নামী নয়? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, আমাদের নিহতগণ অবশ্যই জান্নাতী। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তবে কী কারণে আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা স্বীকার করব? আমরা কি ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের ও তাদের মধ্যে কোন ফায়সালা করেননি? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে ইব্‌নু খাত্তাব! আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র রসূল, আল্লাহ আমাকে কখনো হেয় করবেন না। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যা বলেছিলেন, তা তাঁর নিকট বললেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তিনি আল্লাহ্‌র রসূল, আল্লাহ তা’আলা কখনও তাঁকে অপদস্থ করবেন না। অতঃপর সূরা ফাত্‌হ নাযিল হয়। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শেষ পর্যন্ত ‘উমার (রাঃ) কে পাঠ করে শোনান। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি বিজয়? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ।


সহিহ বুখারী অঃ->তাফসীর বাব->আল্লাহর বাণীঃ যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/১৮) হাঃ-৪৮৪৪

হাবীব ইব্‌নু আবূ সাবিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িল (রাঃ)-এর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য এলে, তিনি বললেন, আমরা সিফ্ফীনের ময়দানে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বললেন, তোমরা কি সে লোকদেরকে দেখতে পাচ্ছ না, যাদের আল্লাহ্‌র কিতাবের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে? ‘আলী (রাঃ) বললেন, হাঁ। তখন সাহ্ল ইব্‌নু হুনায়ফ (রাঃ) বললেন, প্রথমে তোমরা নিজেদের খবর নাও। হুদায়বিয়াহ্র দিন অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মাক্কাহ্র মুশরিকদের মধ্যে যে সন্ধি হয়েছিল, আমরা সেটা দেখেছি। যদি আমরা একে যুদ্ধ মনে করতাম, তাহলে অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। সেদিন ‘উমার (রাঃ) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে) এসে বলেছিলেন, আমরা কি হাকের উপর নই, আর তারা কি বাতিলের উপর নয়? আমাদের নিহত ব্যক্তিরা জান্নাতে, আর তাদের নিহত ব্যক্তিরা কি জাহান্নামে যাবে না? তিনি বললেন, হাঁ। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাহলে কেন আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অপমানজনক শর্তারোপ করা হবে এবং আমরা ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্ আমাদেরকে এ সন্ধির ব্যাপারে হুকুম করেননি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! আমি আল্লাহ্‌র রসূল। আল্লাহ্ কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। ‘উমার রাগে মনে দুঃখ নিয়ে ফিরে গেলেন। তিনি ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তারপর তিনি আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আবূ বাক্র! আমরা কি হাকের উপর নই এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহ্‌র রসূল। আল্লাহ্ কক্ষণো তাঁকে ধ্বংস করবেন না। এ সময় সূরাহ ফাতহ্ অবতীর্ণ হয়। [৩১৮১] (আ.প্র. ৪৪৭৭, ই.ফা. ৪৪৮০)