সহিহ মুসলিম অঃ->‘কাসামাহ’ (খুনের ব্যপারে হলফ করা), ‘মুহারিবীন’ (শত্রু সৈন্য), ‘কিসাস” (খুনের বদলা) এবং ‘দিয়াত’ (খুনের শাস্তি স্বরূপ জরিমানা) বাব->গর্ভের সন্তানের ‘দিয়্যাত’ এবং ভুলবশত হত্যা এবং ভুলসদৃশ ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়্যাত (রক্তপণ), অপরাধীর ওয়ারিসগণের উপর আবশ্যক হওয়া সম্পর্কে হাঃ-৪২৮৫

মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক মহিলা তার সতীনকে কুঁড়েঘরের খুঁটি দ্বারা আঘাত করল। সে ছিল গর্ভবতী মহিলা। (আঘাতকারী মহিলা আঘাত দিয়ে) তাকে মেরে ফেলল। বর্ণনাকারী বলেন যে, তাদের একজন ছিল লিহ্ইয়ান গোত্রের মহিলা। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হত্যাকারী মহিলার ওয়ারিসগণের ওপর নিহত মহিলার হত্যার (দিয়াত) ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং গর্ভে নিহত হওয়া (সন্তানের) জন্য একটি দাস (ক্ষতিপূরণ হিসেবে) প্রদানের হুকুম দিলেন। তখন হত্যাকারী মহিলার গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, আমরা এমন শিশুর কিভাবে ক্ষতিপূরণ দেব যে খায়নি, পান করেনি এবং কোন শব্দও করেনি? সে তো এলো আর গেল। এ বাতিলযোগ্য। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে যেন বেদুঈনের মত ছন্দযুক্ত বাক্যে কথা বলল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাদের উপর (দিয়্যাত) ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ৪২৪৬, ই.সে. ৪২৪৬)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->রক্তমূল্য বাব->ভ্রুণের দিয়াত সম্পর্কে হাঃ-৪৫৬৮

মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হুযাইল গোত্রের এক লোকের দু’টি স্ত্রী ছিল। তাদের একজন অপরজনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে ও তার গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা করে। বাদী-বিবাদী উভয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করে। পক্ষদ্বয়ের একজন বললো, আমরা কি করে এমন ব্যক্তির দিয়াত আদায় করবো যে না চিৎকার করেছে, না খেয়েছে, না পান করেছে, আর না কেঁদেছে। তিনি বললেন, এ তো বেদুঈনদের গদ্য! তিনি গর্ভস্থ বাচ্চার দিয়াত হিসেবে একটি গোলাম দেয়ার জন্য আদেশ করেন এবং হত্যাকারী নারীর পিতৃ আত্নীয়দের উপর (দিয়াত) ধার্য করলেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->কাসামাহ বাব->গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত হাঃ-৪৮২১

মুগীরা ইব্‌ন শু’বা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এক নারী তাঁর সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলে, আর সে নারী ছিল গর্ভবতী। এই মোকদ্দমা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করা হলে, তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়-স্বজনের থেকে দিয়াত আদায়ের ফয়সালা দেন আর বাচ্চার বদলে এক দাস অথবা দাসী দেওয়ার আদেশ দেন। সেই আত্মীয়-স্বজনেরা বললোঃ আমরা এই বাচ্চার দিয়াত কেন দিব, যে এখনও খায় নি, পান করে নি, না চিৎকার করেছে, না কান্নাকাটি করেছে? এরকম খুন তো বৃথা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বেদুঈনদের ন্যায় ছন্দপূর্ণ কথা।


সুনান নাসাঈ অঃ->কাসামাহ বাব->ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ হত্যা কাকে বলে এবং এরূপ হত্যা ও গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত কে দিবে হাঃ-৪৮২২

মুগীরা ইব্‌ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ এক নারী তার সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দ্বারা আঘাত করলো, সে ছিল গর্ভাবস্থায় এবং সে মারা গেল। এ মামলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়কে দিয়াত দিতে আদেশ করেন। আর বাচ্চার বদলে এক দাস আর দাসী দেওয়ার আদেশ দেন। তখন হত্যাকারীণীর এক আত্মীয় বললোঃ আমরা এই বাচ্চার বদলা কি করে দিব, যে না খেয়েছে, না পান করেছে, না ক্রন্দন করেছে ? এরকম খুনতো বাতিল বলে গণ্য হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বেদুঈনদের মত ছন্দপূর্ণ কথা। তিনি তাদের উপর দিয়াত আরোপ করলেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->কাসামাহ বাব->ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ হত্যা কাকে বলে এবং এরূপ হত্যা ও গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত কে দিবে হাঃ-৪৮২৫

মুগীরা ইব্‌ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির বিবাহে দুই নারী ছিল, তাদের একজন অন্যজনকে তাঁবুর কাষ্ঠ দ্বারা আঘাত করলে তার উদরস্থ বাচ্চা পড়ে যায়। তারা উভয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করে। আত্মীয়রা বলেঃ আমরা ঐ সন্তানের দিয়াত কিরূপে আদায় করবো; যে খায়নি, পান করেনি, কাঁদেনি, চীৎকার করে নি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বেদুঈনদের মত ছন্দযুক্ত বাক্য ! তিনি ঐ নারীর হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াত আরোপ করেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->কাসামাহ বাব->ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ হত্যা কাকে বলে এবং এরূপ হত্যা ও গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত কে দিবে হাঃ-৪৮২৬

মুগীরা ইব্‌ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী ছিল, একজন অপর নারীর উপর একটি তাঁবুর কাঠ নিক্ষেপ করলে তার বাচ্চা গর্ভ্পাত হয়ে যায়। তখন বলা হয়ঃ কী বলেন, আমরা ঐ বাচ্চার পরিবর্তে দিয়াত দিব, যে খায়নি, পান করে নি, আর না কাঁদতে গিয়ে চিৎকার করেছে? তিনি বললেন, বেদুঈনদের মত ছন্দোবদ্ধ কথা! অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ব্যাপারে এক দাস বা দাসী দেওয়ার ফয়সালা দেন। আর তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াতের ফয়সালা দেন।