মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একজন মহিলা তার সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে মেরে ফেলল। এ অভিযোগ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দায়ের করা হল। তখন তিনি হত্যাকারী মহিলার গোত্রের উপর দিয়্যাত প্রদানের নির্দেশ দিলেন। নিহত মহিলাটি ছিল গর্ভবতী। অতএব তিনি গর্ভের বাচ্চার জন্য (দিয়াত হিসেবে) একটি দাস প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এতে তার গোত্রের এক লোক বলল, আমরা কেমন করে তার রক্তপণ আদায় করব যে খায়নি, পান করেনি এবং কোন শব্দও করেনি? তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এতো বেদুঈনের ছন্দযুক্ত কথার মত একটি কথা বলছে। (ই.ফা. ৪২৪৭, ই.সে. ৪২৪৭)
মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুযাইল গোত্রের এক লোকের দু’টি স্ত্রী ছিল। তাদের একজন অপরজনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে ও তার গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা করে। বাদী-বিবাদী উভয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অভিযোগ পেশ করে। পক্ষদ্বয়ের একজন বললো, আমরা কি করে এমন ব্যক্তির দিয়াত আদায় করবো যে না চিৎকার করেছে, না খেয়েছে, না পান করেছে, আর না কেঁদেছে। তিনি বললেন, এ তো বেদুঈনদের গদ্য! তিনি গর্ভস্থ বাচ্চার দিয়াত হিসেবে একটি গোলাম দেয়ার জন্য আদেশ করেন এবং হত্যাকারী নারীর পিতৃ আত্নীয়দের উপর (দিয়াত) ধার্য করলেন।
মুগীরা ইব্ন শু’বা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক নারী তাঁর সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলে, আর সে নারী ছিল গর্ভবতী। এই মোকদ্দমা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করা হলে, তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়-স্বজনের থেকে দিয়াত আদায়ের ফয়সালা দেন আর বাচ্চার বদলে এক দাস অথবা দাসী দেওয়ার আদেশ দেন। সেই আত্মীয়-স্বজনেরা বললোঃ আমরা এই বাচ্চার দিয়াত কেন দিব, যে এখনও খায় নি, পান করে নি, না চিৎকার করেছে, না কান্নাকাটি করেছে? এরকম খুন তো বৃথা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বেদুঈনদের ন্যায় ছন্দপূর্ণ কথা।
মুগীরা ইব্ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ এক নারী তার সতীনকে তাঁবুর খুঁটি দ্বারা আঘাত করলো, সে ছিল গর্ভাবস্থায় এবং সে মারা গেল। এ মামলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়কে দিয়াত দিতে আদেশ করেন। আর বাচ্চার বদলে এক দাস আর দাসী দেওয়ার আদেশ দেন। তখন হত্যাকারীণীর এক আত্মীয় বললোঃ আমরা এই বাচ্চার বদলা কি করে দিব, যে না খেয়েছে, না পান করেছে, না ক্রন্দন করেছে ? এরকম খুনতো বাতিল বলে গণ্য হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বেদুঈনদের মত ছন্দপূর্ণ কথা। তিনি তাদের উপর দিয়াত আরোপ করলেন।
মুগীরা ইব্ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির বিবাহে দুই নারী ছিল, তাদের একজন অন্যজনকে তাঁবুর কাষ্ঠ দ্বারা আঘাত করলে তার উদরস্থ বাচ্চা পড়ে যায়। তারা উভয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করে। আত্মীয়রা বলেঃ আমরা ঐ সন্তানের দিয়াত কিরূপে আদায় করবো; যে খায়নি, পান করেনি, কাঁদেনি, চীৎকার করে নি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বেদুঈনদের মত ছন্দযুক্ত বাক্য ! তিনি ঐ নারীর হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াত আরোপ করেন।
মুগীরা ইব্ন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
হুযায়ল গোত্রের এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী ছিল, একজন অপর নারীর উপর একটি তাঁবুর কাঠ নিক্ষেপ করলে তার বাচ্চা গর্ভ্পাত হয়ে যায়। তখন বলা হয়ঃ কী বলেন, আমরা ঐ বাচ্চার পরিবর্তে দিয়াত দিব, যে খায়নি, পান করে নি, আর না কাঁদতে গিয়ে চিৎকার করেছে? তিনি বললেন, বেদুঈনদের মত ছন্দোবদ্ধ কথা! অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ব্যাপারে এক দাস বা দাসী দেওয়ার ফয়সালা দেন। আর তিনি হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর দিয়াতের ফয়সালা দেন।
ইব্রাহীম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক নারী তার সতীনকে তার গর্ভাবস্থায় প্রস্তরাঘাত করে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার গর্ভস্থ সন্তানের জন্য দিয়াতের ফয়সালা দেন, আর তার দিয়াত হত্যাকারিণীর আত্মীয়দের উপর সাব্যস্ত করেন। তখন তারা বললোঃ যে বাচ্চা পান করেনি, খায়নি এবং ক্রন্দনও করেনি, আমর তার দিয়াত দিব? এরূপ বাচ্চার হত্যা তো বৃথা যাবে। তিনি বললেনঃ বেদুঈন লোকদের ন্যায় ছন্দযুক্ত কথা ! আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তাই হবে।