সহিহ বুখারী অঃ->সাক্ষ্যদান বাব->অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী বানানো হলেও সাক্ষ্য দিবে না। হাঃ-২৬৫০

নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমার মাতা আমার পিতাকে তার মালের কিছু আমাকে দান করতে বললেন। পরে তা দেয়া ভাল মনে করলে আমাকে তা দান করেন। তিনি (আমার মাতা) তখন বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সাক্ষী মানা ব্যতীত আমি রাজী নই। অতঃপর তিনি (আমার পিতা) আমার হাত ধরে আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলেন, আমি তখন বালক মাত্র। তিনি বললেন, এর মা বিন্তে রাওয়াহা একে কিছু দান করার জন্য আমার নিকট আবেদন জানিয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে? তিন বললেন, হ্যাঁ, আছে। নু‘মান (রাঃ) বলেন, আমার মনে পড়ে, তিনি বলেছিলেন, আমাকে অন্যায় কাজে সাক্ষী করবেন না। আর আবূ হারীয (রহঃ) ইমাম শা‘বী (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমি অন্যায় কাজে সাক্ষী হতে পারি না।


সুনান নাসাঈ অঃ->বিশেষ দান বাব->‘নাহল’ সম্পর্কিত নু’মান ইব্‌ন বশীর (রাঃ) –এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ হাঃ-৩৬৮১

নু‘মান ইব্‌ন বশীর আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তার মাতা, রাওয়াহার কন্যা তার পিতার কাছে তার মাল হতে তার পুত্রের জন্য কিছু দান দাবি করলেন। তিনি এক বছর পর্যন্ত এ ব্যাপারে টাল-বাহানা করতে লাগলেন। পরে ভাল মনে হলে তিনি তাকে দান করলেন। তিনি (নু‘মানের মা) বললেন : রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। এরপর তিনি (নু‘মানের পিতা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গিয়ে) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! এর মা রাওয়াহার কন্যা একে কিছু দান করার জন্য আমার সাথে ঝগড়া করায় আমি তাকে দান করেছি। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরও ছেলে আছে কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি এই ছেলেকে যেরূপ দান করেছ, সেরূপ তাদের সকলকে দান করেছ? তিনি বললেন: না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কেননা আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।


সুনান নাসাঈ অঃ->বিশেষ দান বাব->‘নাহল’ সম্পর্কিত নু’মান ইব্‌ন বশীর (রাঃ) –এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ হাঃ-৩৬৮২

নু‘মান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন: আমার মাতা আমার পিতার নিকট আমার জন্য কিছু দান চাইলে তিনি আমাকে তা দান করলেন। তখন আমার মাতা বললেন: রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। তিনি [নু‘মান (রাঃ)] বলেন: আমার পিতা আমার হাত ধরে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলেন। ঐ সময় আমি ছোট বালক ছিলাম। তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর মা, রাওয়াহার কন্যা আমার নিকট কিছু দান চায় এবং এতে আপনি সাক্ষী থাকলে সে সন্তুষ্ট হবে। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন: হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন: তুমি একে যা দান করেছো তাকেও কি এই দানের অনুরূপ দান করেছ? তিনি বললেন: না। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন: তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।