সহিহ বুখারী অঃ->যামিন হওয়া বাব->ঋণ হাঃ-২২৯৮

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যখন কোন ঋণী ব্যাক্তির জানাযা উপস্থিত করা হত তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত মাল রেখে গেছে কি? যদি তাঁকে বলা হত যে, সে তার ঋণ পরিশোধের মতো মাল রেখে গেছে তখন তার জানাযার সালাত আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, তোমাদের সাথীর জানাযা আদায় করে নাও। পরবর্তীতে যখন আল্লাহ তাঁর বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বললেন, আমি মু’মিনদের জন্য তাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তাই কোন মু’মিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যাক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তারাধিকারীদের জন্য।


সহিহ বুখারী অঃ->ভরণ-পোষণ বাব->নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তি (ঋণের) কোন বোঝা অথবা সন্তান-সন্ততি রেখে ‎মারা যাবে, তার দায়-দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত। হাঃ-৫৩৭১

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ঋণগ্রস্ত কোন মৃত ব্যক্তিকে (জানাযার সালাত আদায়ের জন্য) আনা হলে, তিনি জিজ্ঞেস করতেনঃ সে কি ঋণ পরিশোধ করার মত অতিরিক্ত কিছু রেখে গেছে? যদি বলা হত যে, সে ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে, তাহলে তিনি তার জানাযা পড়তেন। অন্যথায় তিনি মুসলমানদের বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়। তারপর আল্লাহ যখন তাঁকে অনেক বিজয় দান করলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্টতর। কাজেই মুমিনদের কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার-ই। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিসরা পাবে। [৩৪]আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৭)


সহিহ মুসলিম অঃ->কিতাবুস্‌ সিয়াম (রোজা) বাব->সওমে বিসাল বা বিরতিহীনভাবে সওম পালন করা নিষিদ্ধ হাঃ-২৪৫৬

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। তখন মুসলিমদের এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার মতো কে আছে? আমি রাত্রি যাপন করি এমতাবস্থায় যে, আমার প্রতিপালক আমাকে খাওয়ান এবং আমাকে পান করান। সাহাবীগণ সওমে বিসাল থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের সাথে একদিন এবং পরে আরেক দিন সওমে বিসাল করলেন। এরপর তারা চাঁদ দেখলেন, তখন তিনি বললেন, চাঁর আরো দেরীতে দেখা দিলে আমিও সওমে বিসাল দির্ঘায়িত করতাম। তাঁরা সওমে বিসাল থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করলে তিনি শাস্তি স্বরূপ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। (ই.ফা. ২৪৩৩, ই.সে. ২৪৩২)


সুনানে ইবনে মাজাহ অঃ->দান খয়রাত বাব->কেউ ঋণ বা নাবালেগ সন্তান রেখে মারা গেলে, তার দায়িত্ব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হাঃ-২৪১৫

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে কোন মু’মিন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে কি তাঁর ঋণ পরিশোধ করার মত কোন কিছু রেখে গেছে? লোকজন যদি বলতো, হাঁ, তবে তিনি তার জানাযার নামায পড়তেন। আর যদি তারা বলতো, না, তাহলে তিনি বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার নামায পড়ো। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে (যুদ্ধে) অসংখ্য বিজয় দান করলে তিনি বলেনঃ আমিই মু’মিনদের জন্য তাদের নিজেদের চেয়ে অধিক কল্যাণকামী। অতএব কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে তা পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর সে যে সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। [২৪১৫]


জামে' আত-তিরমিজি অঃ->জানাযা বাব->ঋণগ্রস্ত লোকের জানাযা হাঃ-১০৭০

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসা হলে তিনি প্রশ্ন করতেন, তার ঋণ পরিশোধ করার মত কোন কিছু রেখে গেছে কি এ ব্যক্তি? সে লোক ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে বলা হলে তবে তিনি তার জানাযার নামায আদায় করতেন। অন্যথায় তিনি মুসলমানদের বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জানাযার নামায তোমরা আদায় কর। তারপর তাঁকে আল্লাহ তা'আলা অসংখ্য বিজয় দিলে তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ মু’মিনদের জন্য তাদের নিজেদের চাইতেও আমি বেশি কল্যাণকামী। অতএব, মুমিনদের মাঝে কোন লোক যদি ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা যায় তবে তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর ধন-সম্পদ রেখে যে ব্যক্তি মারা যায় তা তার ওয়ারিসদের প্রাপ্য। -সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪১৫), বুখারী, মুসলিম।


সুনান নাসাঈ অঃ->জানাযা পর্ব বাব->ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির উপর জানাযার সালাত আদায় করা হাঃ-১৯৬৩

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যখন কোন ঋণগ্রস্ত মুমিন ব্যক্তি মারা যেত রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করতেন, তার কি কোন ত্যাজ্য সম্পত্তি আছে? যদি সাহাবীগণ হাঁ বলতেন, তাহলে তার উপর জানাযার সালাত আদায় করতেন। আর যদি তারা না বলতেন, তাহলে তিনি বলতেন যে, তোমরা নিজেরাই স্বীয় সাথীর উপর জানাযার সালাত আদায় কর। যখন আল্লাহ্‌ তা’আলা স্বীয় রাসূলকে মক্কা বিজয় দান করলেন তখন তিনি বললেন, আমি মুমিনের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায় তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার আর যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে যায় তা তার ওয়ারিসদের।