‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আয়িশা (রাঃ) বারীরার দরদাম করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। যখন ফিরে আসেন তখন ‘আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বললেন যে, তারা (মালিক পক্ষ) ওয়ালা এর শর্ত ছাড়া বিক্রি করতে রাযী নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ওয়ালা তো তারই, যে আযাদ করে। রাবী হাম্মাম (রহঃ) বলেন, আমি নাফি (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, বারীরার স্বামী আযাদ ছিল, না দাস? তিনি বললেন, আমি কি করে জানব?
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) একটি দাসী ক্রয় করে তাকে আযাদ করার ইচ্ছা করেন। দাসীটির মালিক পক্ষ বলল, দাসীটি এ শর্তে বিক্রি করব যে, তার ওয়ালার হক আমাদের থাকবে। তিনি এ কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, এতে তোমার বাধা হবে না। কেননা, ওয়ালা তারই, যে মুক্ত করে।
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) মুক্ত করার জন্য জনৈকা বাঁদীকে খরিদ করতে চাইলেন। কিন্তু তার মালিক পক্ষ বলল, এই শর্তে (আমরা সম্মত) যে, ওয়ালা আমাদেরই থাকবে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ শর্তারোপ যেন তোমাকে তা ক্রয় করতে বিরত না রাখে। কেননা, ওয়ালা তারই জন্য যে মুক্ত করবে।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ) একবার তাঁর নিকট এসে তার চুক্তি পত্রের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করল, তখন পর্যন্ত সে চুক্তির অর্থ কিছুই আদায় করেনি। ‘আয়িশা (রাঃ) তাকে বললেন, ‘তুমি তোমার মালিকের নিকট ফিরে যাও। তারা যদি এটা পছন্দ করে যে, আমি তোমার পক্ষ থেকে তোমার চুক্তিপত্রের প্রাপ্য পরিশোধ করে দিব, আর তোমার ‘ওয়ালা’ আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তাই করব।’ বারীরা (রাঃ) তার মালিককে সে কথা জানালে তারা অস্বীকার করে বলল, তিনি যদি তোমাকে দিয়ে সওয়াব পেতে চান তবে করুন, তোমার ‘ওয়ালা’ অবশ্য আমাদেরই থাকবে। ‘আয়িশা (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সে কথা জানালে তিনি তাঁকে বললেন, ‘তুমি তাকে কিনে নাও তারপর আযাদ করে দাও। ‘ওয়ালা’ তারই যে আযাদ করে।
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
ইব্নু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ দাস-দাসীর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক হবে যে তাকে আযাদ করবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৬)
ইব্নু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, 'আয়িশা (রাঃ) বারীরাকে কিনতে চাইলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে বললেন যে, ওয়ালা তাদেরই থাকবে বলে শর্ত করছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কারণ, ওয়ালা তার, যে আযাদ করে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০৩)
ইবনু 'উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
যে, উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশা (রাঃ) একটি বাঁদী ক্রয় করলেন আবং তাকে মুক্ত করলেন। তখন তার মালিকরা তাঁকে বলল যে, আমরা এ বাঁদী আপনার কাছে এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, ওয়ালা আমাদের থাকবে। তিনি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা তোমার জন্য বাধা হবে না। কারণ, ওয়ালা তার যে আযাদ করে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩০১)
'আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ
বর্ণিত। তিনি একবার একটি ক্রীতদাসী ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দিবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তখন সে ক্রীতদাসীর মনিবেরা তাকে জানালেন যে, আমরা আপনার এ শর্তে ক্রীতদাসটি বিক্রয় করতে পারি যে, আমরাই হব তার ওয়ালা’র [৬] অধিকারী। তিনি বলেনঃ এরপর বিষয়টি আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে উপস্থিত করলাম। তিনি বললেনঃ এ শর্ত তোমাকে ‘ওয়ালা’ থেকে বঞ্চিত করবে না। কেননা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতার জন্যই ‘ওয়ালার হক্ব’ নির্ধারিত। (ই.ফা. ৩৬৩৪, ই.সে. ৩৬৩৪)
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
উম্মুল মু'মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) মুক্ত করার জন্য একটি দাসী কেনার ইচ্ছা করলেন। বাঁদীর মালিক বললো, আমরা তাকে আপনার নিকট এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, তার ‘ওয়ালাআ’ (মৃত্যুর পর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক) আমরা হবো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি বলেন, সে তোমাকে এর থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। কারণ দাসীর সম্পদের মালিক তার মুক্তকারী হবে।
আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আয়েশা (রাঃ) একজন দাসী ক্রয় করে মুক্ত করার ইচ্ছা করলে তার মালিকেরা বললো: আমরা এই দাসীকে আপনার নিকট এই শর্তে বিক্রয় করতে পারি যে, তার ওয়ালা আমরা পাবো। তিনি তা রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলে, তিনি বললেন: এই শর্ত যেন তোমাকে ক্রয় করা হতে বিরত না রাখে। কেননা ‘ওয়ালা’ ঐ ব্যক্তিরই হবে যে মুক্ত করবে।