‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘বারীরা’ থেকে তিনটি বিষয় জানা গেছে যে, যখন তাকে মুক্ত করা হয় তখন তাকে দু’টির একটি বেছে নেয়ার অধিকার (Option) দেয়া হয় (সে ক্রীতদাস স্বামীর সঙ্গে থাকবে কি থাকবে না?) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ক্রীতদাসের ওয়ালার [১১] অধিকার মুক্তকারীর। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করে চুলার ওপরে ডেকচি দেখতে পেলেন। কিন্তু তাকে রুটি এবং বাড়ির তরকারী থেকে তরকারী দেয়া হল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, চুলার ওপরের ডেকচির তরকারী দেখতে পাচ্ছি না যে? উত্তর দেয়া হল, ডেকচিতে বারীরার জন্য দেয়া সদাকাহর গোশ্ত রয়েছে। আর আপনি তো সদাকাহ্র গোশ্ত খান না। তখন তিনি বললেন, এটা তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া।[৪৫৬; মুসলিম ২০/২, হাঃ ১৫০৪, আহমাদ ২৫৫০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৬)
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
. নবী সহধর্মিণী 'আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার মাধ্যমে তিনটি বিধান জানা গেছে। এক. তাকে আযাদ করা হলো, এরপর তাকে তার স্বামীর সঙ্গে থাকা বা থাকার ইখ্তিয়ার দেয়া হলো। দুই. রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আযাদকারী আযাদকৃত গোলামের পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে। তিন. রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলেন, দেখতে পেলেন হাঁড়িতে গোশ্ত ফুটছে। তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের অন্য তরকারী নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেনঃ গোশ্তের পাত্র দেখছি না যে যাতে গোশ্ত ছিল? লোকেরা জবাব দিল, হাঁ, কিন্তু সে গোশ্ত বারীরাহ্কে সদাকাহ হিসাবে দেয়া হয়েছে। আর আপনি তো সদাকাহ খান না? তিনি বললেনঃ তার জন্য সদাকাহ, আর আমাদের জন্য এটা উপঢৌকন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৮৬)
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বারীরার ঘটনায় শরীয়াতের তিনিটি বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘আয়িশা (রাঃ) তাকে ক্রয় করে মুক্ত করতে চাইলে তার মালিকেরা বলল, ‘ওলা’ (উত্তরাধিকার) আমাদের থাকবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বিষয়টি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি ইচ্ছে করলে তাদের জন্য ওলীর শর্ত মেনে নাও। কারন, প্রকৃতপক্ষে ওলীর অধিকারী হল মুক্তিদাতা। তাকে আযাদ করে এখ্তিয়ার দেয়া হলো, ইচ্ছে হলে পূর্ব স্বামীর সংসারে তাকে থাকতে কিংবা ইচ্ছে করলে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন ‘আয়িশাহ্র গৃহে প্রবেশ করলেন। সে সময় চুলার উপর ডেকচি ফুটছিল। তিনি সকালের খাবার আনতে বললে তাঁর কাছে রুটি ও ঘরের কিছু তরকারী আনা হল। তিনি বললেন, আমি কি গোশ্ত দেখিনি? তাঁরা বললেনঃ হাঁ (গোশ্ত রয়েছে) হে আল্লাহ্র রসূল! কিন্তু তা ঐ গোশ্ত যা বারীরাহ্কে সদাকাহ করা হয়েছিল। এরপর সে তা আমাদের হাদিয়া দিয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সদাকাহ, কিন্তু আমাদের জন্য হাদিয়া স্বরূপ।আধুনিক প্রকাশনী- ৫০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯২৩)
নবী (সঃ) এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ বারীরা (রাঃ)-এর মধ্যে তিনটি সুন্নত (শরীআতী বিধান) ছিল। একটি এই যে, তাকে আযাদ করা হলে তার স্বামী সম্বন্ধে (বিবাহ বহাল রাখার ব্যাপারে) তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়, ২. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ যে আযাদ করবে ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) সেই পাবে। ৩. একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)(তাঁর ঘরে)প্রবেশ করে দেখলেন, ডেগে গোশত রান্না হচ্ছিল তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘরের তরকারী উপস্থিত করা হলে, তিনি বলেনঃ আমি কি ডেগে গোশত দেখিনি? তখন তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঐ গোশত বারীরা (রাঃ)-কে সাদকা দেওয়া হয়েছে,আর আপনি তো সাদকা খান না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তা তাঁর জন্য তো সাদকা, কিন্তু তা আমাদের জন্য হাদিয়া।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ বারীরা (রাঃ)-এর মধ্যে তিনটি বিষয় (মাসয়ালার সিদ্ধান্ত) ছিল, ১. তাঁর মালিকগণ তাকে বিক্রি করার ইচ্ছা করলে এবং ‘ওয়ালা’ (মীরাছ)-এর শর্ত আরোপ করলে আমি তা নবী (সাঃ) এর নিকট উল্লেখ করি। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও। কেননা, ‘ওয়ালা’ (মীরাছ) যে আযাদ করবে সে-ই পাবে। ২. তাকে আযাদ করা হলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে (তাঁর স্বামী সম্বন্ধে) ইখতিয়ার দিলে সে নিজেকেই গ্রহণ করলো (স্বামীকে ত্যাগ করল)। ৩. তাকে সাদকা দেওয়া হত, আর সে তা থেকে আমাদের হাদিয়া দিত। আমি এ বিষয়টি নবী (সাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তোমরা তা থেকে খেতে পার; কেননা তাতো তাঁর জন্য সাদকা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া।